বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

আনন্দ

“প্রত্যহ কিছু কিছু ধ্যান জপ করবে। কোন দিন বাদ দেবে না। মন বালকের ন্যায় চঞ্চল, ক্রমাগত ছুটাছুটি করে। উহাকে পুনঃপুনঃ টেনে এনে ইষ্টের ধ্যানে মগ্ন করবে। এইরূপ দুই-তিন বৎসর করলেই দেখবে যে, প্রাণে অনির্বচনীয় আনন্দ আসবে, মনও স্থির হচ্ছে। প্রথম প্রথম জপধ্যান নীরসই লাগে, কিন্তু ঔষধ সেবনের মতো জোর করে মনকে ইষ্টের চিন্তায় নিযুক্ত রাখতে হয়, তবে ক্রমে আনন্দ আসে।” ধ্যানাদিতে কেবল যে মনের শান্তি হয় তা নয়, উহাতে শরীরেরও উন্নতি হয়, ব্যারাম-শ্যারাম কম হয়। শরীরের উন্নতির জন্যও ধ্যানাদি করা উচিত। প্রথম প্রথম ধ্যান তো মনের সঙ্গে যুদ্ধ। দোলায়মান মনকে ক্রমাগত টেনে এনে ইষ্টপাদপদ্মে লাগাতে হয়। এতে কিছুক্ষণ পরে একটু মাথা গরম হয়। এজন্য প্রথম প্রথম বেশি ধ্যান ধারণা করে brain কে খুব exert করতে নেই, খুব আস্তে আস্তে বাড়াতে হয়। কিছুদিন এরূপ অভ্যাসের ফলে যখন ঠিক ঠিক ধ্যান হবে, তখন এক আসনে বসে দু-চার ঘণ্টা ধ্যান ধারণা করলেও কোন কষ্ট হবে না।
ধ্যান না করলে মন স্থির হয় না, আবার মন স্থির না হলে ধ্যান হয় না। মন স্থির হলে ধ্যান করব, এইরূপ ভাবলে আর কখনো ধ্যান করা হবে না। দুই-ই একসঙ্গে করতে হবে। মনের বাসনাদি সব কিছুই নয়, ধ্যানের সময় ভাববে—‘সব অসার’। এইরূপ ভাবতে ভাবতে ক্রমে মনেতে সৎ ভাবের Impression (সংস্কার) হবে। অসৎ ভাব মন থেকে যেমন তাড়াবে, সৎ ভাবও তেমনি আসতে থাকবে। ধ্যান-ধারণার কোন condition (বাঁধাবাঁধি) নেই; নির্জন স্থানে ধ্যান অভ্যাস করলেই হলো। রোজ দুই এক ঘণ্টা 
ধ্যান-ধারণা করলে তা নয়, যত বেশি করতে পারবে ততই মন একাগ্র 
হয়ে ভগবানের দিকে এগিয়ে যাবে। নিত্য নিয়মিতভাবে করতে হবে। যেখানে যাবে ভাল ভাল স্থান, ভাল ভাল Scenery (প্রাকৃতিক দৃশ্য) দেখলেই ধ্যানে বসে যাবে। 
ধ্যান মানে তাঁকে নিরন্তর ভাবা। উহা পাকলে, প্রত্যক্ষ হলে সমাধি। সমাধির পর আনন্দের জের অনেকক্ষণ থাকে। কেউ কেউ বলেন—আজীবন থাকে। ইন্দ্রিয়ের কর্তা মনকে দমন করতে হবে। আবার মন বুদ্ধি উভয়কেই আত্মাতে লয় করতে হবে। মনকে একদম মেরে না ফেললে চলবে না। সাধুসঙ্গে ইন্দ্রিয়গুলি চুপ মেরে আছে, মনে করোনা ও-গুলি আর নেই। সমাধি না হলে ও-সব যায় না। একটু ছেড়ে দাও, দেখবে দ্বিগুণ জোরে ইন্দ্রিয়গুলি ছোবল মারবে। সেইজন্য খুব সাবধানে থাকা প্রয়োজন, যতক্ষণ না মন-বুদ্ধির পারে যাচ্ছ।
যতই পবিত্র হবে ততই মনের একাগ্রতা বাড়বে ও মনের সূক্ষ্ম ফাঁকিগুলো ধরা পড়বে, আর সেগুলি সম্পূর্ণ নাশ পাবে। মনই নিজের শত্রু আবার এই মনই নিজের মিত্র। যে যত cross-examine (জেরা) করে মনের এই গলদ বের করে তার সম্যক নাশ করতে পারবে, সে তত দ্রুত এই সাধন রাজ্যে এগিয়ে যাবে। খুব ধ্যানজপ করবি। প্রথম প্রথম মন স্থূল বিষয়ে থাকে। ধ্যান জপ করলে তখন সূক্ষ্ম বিষয় ধরতে শিখে। সদাই তার স্মরণ-মনন করবে। স্মরণ-মনন সদা সর্বক্ষণ অভ্যাস হলে, তখন ধ্যান করতে বসলেই জমে যায়। ধ্যান যতই জমবে ততই ভিতরে আনন্দ।
‘ধ্যান শান্তি আনন্দ’ রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সন্ন্যাসিবৃন্দ থেকে

9th     November,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ