বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

প্রাণময়ং জগৎ

প্রতিটি মানুষ কোন না কোন ভাবে ভগবানের উপাসনা করে থাকেন। কেউ তীর্থ ভ্রমণ করেন, কেউ দেব-দেবী পূজা করেন, কেউ জীবের সেবা করেন, কেউ বা মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে প্রণাম করেন; আর কেউ যদি বলেন তিনি কিছুই করেন না, তিনিও অন্ততঃ বিপদে পড়লে ‘হা ভগবান্ রক্ষা কর’ বলেও তাঁকে ডাকেন। এই ভাবে প্রত্যেকে কোন না কোন প্রকারে ঈশ্বরের শরণাপন্ন হতে বাধ্য। যেমন খাদ্য ছাড়া কেউ বাঁচতে পারে না, অতএব সারাদিনে অন্ততঃ একবার খাদ্য গ্রহণ করতে হয়; ঠিক তেমনি ভগবানের অস্তিত্বে সকলের অস্তিত্ব, অতএব তাঁকে একবার স্মরণ করতেও বাধ্য। যে পথে ভগবানকে পাওয়া যায় সাধারণ মানুষ তাকেই ধর্ম মনে করে এবং স্বভাবতঃই সকলের মনে কয়েকটি প্রশ্ন জাগে—সেগুলি হল ধর্ম কি, ভগবান্ কি, তিনি কোথায় থাকেন এবং কেমন করে তাঁকে সহজে পাওয়া যায়। এগুলি মানুষের চিরন্তন জিজ্ঞাসা। সাধারণ মানুষ প্রকৃত ধর্ম সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। আজকাল নানা ধর্ম সম্প্রদায়ের মুখে নানা প্রকার ধর্মকথা শুনে কোনটি ধর্ম তা ঠিক করা বড়ই কঠিন। নিজের নিজের দল পুষ্টি করবার জন্য সকল ধর্ম সম্প্রদায়ই ব্যাকুল। কিন্তু একবারও ভাবি না যে ধর্ম কখনও পৃথক হতে পারে না, বরং পৃথক ভাবই অধর্ম এবং তার বিপরীতই ধর্ম। 
ধর্ম অর্থাৎ যিনি সকল জীবকে ধারণ বা পোষণ করে আছেন তিনিই ধর্ম। কে সকল জীবকে ধারণ বা পোষণ করে আছেন? যদি বলি অন্ন সকল জীবকে ধারণ বা পোষণ করে আছেন, তাও ঠিক নয়। কারণ সকল জীবের অন্ন একপ্রকার নয়। কোন জীব তৃণভোজী, কোন জীব মাংসাশী ইত্যাদি। অতএব পৃথক হেতু অন্ন ধর্ম হতে পারে না। যদি বলি জল সকল জীবকে ধারণ করে আছে, তাও ঠিক নয়। কারণ মৃতদেহেও জল থাকে, অথবা আরও খানিকটা জল মৃতদেহে প্রবেশ করালে যদি উহা জীবিত হত তা হলে জল জীবকে ধারণ করত। তা যখন হয় না তখন জল ধর্ম হতে পারে না। আবার যদি বলি বায়ু সকল জীবকে ধারণ করে আছে, তাও ঠিক নয়। কারণ মৃতদেহেও বায়ু থাকে। যদি বায়ু না থাকত তা হলে বাইরের বায়ুর চাপে উহা পিষ্ট হত। অথবা আরও খানিকটা বাইরের বায়ু মৃতদেহে প্রবেশ করালে যদি উহা জীবিত হত, তাহলে বায়ু ধর্ম হত। তা যখন হয় না তখন বায়ু ধর্ম হতে পারে না। অতএব এমন এক মহান্ বস্তু আছে যা নাকি সকল প্রাণিগণে, চেতন অচেতন ভূত মাত্রেই অবস্থান করে সর্বজীবের ও সর্বভূতের ধারণ বা পোষণ করছেন তিনিই ধর্ম। তিনি সকল ঘটে অর্থাৎ সকল দেহে প্রাণরূপে বিরাজ করছেন এবং তাই তিনিই সকলের একমাত্র উপাস্য দেবতা। ‘প্রাণেন ধার্য্যতে লোকঃ সর্ব্বং প্রাণময়ং জগৎ।’ এই প্রাণ সবকিছু ধারণ করে আছেন এবং সবকিছুই প্রাণময়। অতএব প্রাণই ধর্ম। তিনি হিন্দু নহেন, মুসলমান নহেন, খৃষ্টান নহেন, বৌদ্ধ নহেন, তিনি নর বা নারীও নহেন, তিনি দেহও নহেন। তিনি যখন যাতে থাকেন তখন তিনি তাই, কিন্তু যাতে আছেন তিনি তা নন। হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান, বৌদ্ধ, এগুলি ধর্ম নয়; এগুলি এক একটি সম্প্রদায়। কিন্তু প্রাণরূপী ধর্ম তর্ক এবং সকল সম্প্রদায়ের অতীত। তিনি সকল সম্প্রদায়ে আছেন কিন্তু কোন সম্প্রদায় তাঁতে নেই। যেমন সকল দেহে প্রাণ রয়েছেন কিন্তু সেই প্রাণের প্রতি জীবের লক্ষ্য নেই। অতএব প্রাণে লক্ষ্য না থাকায় জীবের প্রাণে থাকা হল না। সেইরূপ তিনি সকল সম্প্রদায়ভুক্ত হলেও সকল সম্প্রদায় তাঁতে ভুক্ত নয়। সম্প্রদায় বহু হওয়ায় উহা ধর্ম হতে পারে না। 
বাচস্পতি অশোককুমার চট্টোপাধ্যায়ের ‘প্রাণময়ং জগৎ’থেকে  

29th     September,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ