বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

গুণত্রয়বিভাগযোগ

শ্রীভগবান্‌ কহিলেন—ব্রহ্ম অত্যন্ত দুর্বোধ্য। সেই হেতু সর্বজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ ব্রহ্মজ্ঞান আমি পুনরায় তোমাকে বলিব। এই পরামার্থজ্ঞান লাভ করিয়া মুনিগণ দেহত্যাগের পর মুক্তিলাভ করেন। এই জ্ঞান আশ্রয় করিয়া মুনিগণ আমার স্বরূপ প্রাপ্ত হন। তাঁহারা আর সৃষ্টিকালে জন্মগ্রহণ করেন না এবং প্রলয়কালেও লীন হন না।
হে ভারত, মহৎ নামে প্রসিদ্ধ ব্রহ্ম আমার ত্রিগুণাত্মিকা প্রকৃতি। ইহা সর্বভূতের উৎপত্তির কারণ। ইহাতে আমি গর্ভাধান (সৃষ্টির বীজ নিক্ষেপ) করি। সেই গর্ভাধান হইতে হিরণ্যগর্ভাদি সর্বভূতের সৃষ্টি হয়। হে কৌন্তেয়, দেব, পিতৃ, মনুষ্য ও পশ্বাদি যোনিতে যে সকল দেহ (যাহার অবয়বসকল অভিব্যক্ত ও কার্যক্ষম) উৎপন্ন হয়, বিভিন্ন অবস্থায় পরিণত প্রকৃতি তাহাদের জননী এবং আমি তাহাদের গর্ভাধানকর্তা পিতা। হে মহাবাহো, প্রকৃতিজাত সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই গুণত্রয় পরামার্থতঃ নিষ্ক্রিয় আত্মাকে দেহাভিমান দ্বারা শরীরে আবদ্ধ করে। হে নিষ্পাপ, এই গুণত্রয়ের সত্ত্বগুণ নির্মল, স্বচ্ছ ও প্রকাশক। এই সত্ত্বগুণ ‘আমি সুখী’ এই এইরূপ সুখাসক্তি এবং ‘আমি জ্ঞানী’ এইরূপ জ্ঞানাসক্তি দ্বারা আত্মাকে যেন আবদ্ধ করে।
কে কৌন্তেয়, রজোগুণ রাগাত্মক। ইহা অপ্রাপ্তের অভিলাষ ও প্রাপ্তবিষয়ে মনের প্রীতিকর উৎপাদক বলিয়া জানিবে। দৃষ্ট ও অদৃষ্ট ফলের নিমিত্ত কর্মে আসক্তি দ্বারা ইহা আত্মাকে যেন আবদ্ধ করে।
হে ভারত, তমোগুণ আবরণশক্তিপ্রধান প্রকৃতির অংশ হইতে উৎপন্ন এবং দেহধারিগণের মোহজনক জানিবে। উহা প্রমাদ, আলস্য ও নিদ্রা দ্বারা আত্মাকে দেহে যেন বদ্ধ করে। হে ভারত, সত্ত্বগুণ সাধ্য বিষয়ে ও রজোগুণ সাধ্য কর্মে জীবকে আবদ্ধ করে এবং তমোগুণ সত্ত্বকৃত বিবেককে আবৃত করিয়া জীবকে প্রমাদ ও আলস্য প্রভৃতিতে নিমজ্জিত করে। হে ভারত, সত্ত্বগুণ রজঃ ও তমোগুণকে অভিভূত করিয়া প্রবল হয়। রজোগুণ সত্ত্ব ও তমোগুণকে অভিভূত করিয়া প্রবল হয়। আর তমোগুণ সত্ত্ব ও রজোগুণকে অভিভূত করিয়া প্রবল হয়। যখন এই ভোগায়তন দেহের সমস্ত ইন্দ্রিয়দ্বার বুদ্ধিবৃত্তির প্রকাশ দ্বারা উদ্ভাসিত হয়, তখন জানিবে যে সত্ত্বগুণ বর্ধিত হইয়াছে। হে ভরতশ্রেষ্ঠ, লোভ, কর্মে প্রবৃত্তি ও প্রচেষ্টা, হর্ষ ও অনুরাগাদির অনিবৃত্তি এবং বিষয়ভোগের স্পৃহা—এই সকল রজোগুণের বৃদ্ধিকালে উৎপন্ন হয়। হে কুরুনন্দন কর্তব্যাকর্তব্য বিবেকের অভাব, অনুদ্যম, কর্তব্যে অবহেলা ও মূঢ়তা প্রভৃতি লক্ষণ তমোগুণ বৃদ্ধি পাইলে জন্মে। সত্ত্বগুণের বৃদ্ধিকালে মানুষ দেহত্যাগ করিলে হিরণ্যগর্ভাদি উপাসকদিগের সুখময় ব্রহ্মলোকাদিতে গমন করে।রজোগুণের বৃদ্ধিকালে মৃত্যু হইলে কর্মভূমি মনুষ্যলোকে জন্ম হয় এবং তমোগুণের বৃদ্ধিকালে মৃত্যু হইলে পশ্বাদি মূঢ়জন্ম প্রাপ্ত হয়। শিষ্টগণ বলেন—সাত্ত্বিক কর্মের ফল নির্মল সুখ, রাজসিক কর্মের ফল দুঃখ ও তামসিক কর্মের ফল মূঢ়তা।
সত্ত্বগুণ হইতে সকল ইন্দ্রিয়ের জ্ঞান জন্মে। রজোগুণ হইতে লোভপ্রবৃত্ত্যাদি জাত হয়। আর তমোগুণ হইতে অবিবেক, অনবধানতা ও মূঢ়তা উৎপন্ন হয়। সত্ত্বগুণে অবস্থিত ব্যক্তিগণ দেবলোকাদিতে গমন করেন, রজোগুণী ব্যক্তিগণ দুঃখবহুল মনুষ্যলোকে জন্মগ্রহণ করেন এবং জঘন্যগুণবৃত্তিতে স্থিত তামসিক ব্যক্তিগণ পশ্বাদি হীন জন্মলাভ করে। যখন জীব কার্য-কারণ বিষয়াকারে পরিণত ত্রিগুণ ব্যতীত অন্য কাহাকেও কর্তা বলিয়া দেখেন না এবং ত্রিগুণের অতীত ও তাহাদের কার্যসমূহের সাক্ষী আত্মাকে জ্ঞাত হন, তখন তিনি ব্রহ্মস্বরূপ অধিগত হন। দেহোৎপত্তির কারণ এই অবিদ্যাময় গুণত্রয় অতিক্রম করিলে জীব জন্ম, মৃত্যু ও জরা-রূপ দুঃখ হইতে জীবনকালেই বিমুক্ত হন এবং ব্রহ্মানন্দরূপ অমৃতত্ব লাভ করেন।‘
শ্রীমদ্ভগবদ্‌ গীতা’ থেকে

21st     September,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ