বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

মন্ত্র

নারদ বৈকুণ্ঠে গিয়েছিলেন। বসে ঠাকুরের সঙ্গে অনেক কথা কইলেন। নারদ যখন চলে গেলেন, ঠাকুর লক্ষ্মীকে বললেন, ‘ওখানে গোবর দাও। লক্ষ্মী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কেন, ঠাকুর? নারদ যে পরম ভক্ত, তবে কেন এরূপ বলছ?’ ঠাকুর বললেন, ‘নারদের এখনও মন্ত্র নেওয়া হয়নি। মন্ত্র না নিলে দেহ শুদ্ধ হয় না।’ অন্তত দেহশুদ্ধির জন্যও মন্ত্র দরকার। বৈষ্ণবেরা মন্ত্র দিয়ে বলে, ‘‘এখন মন তোর।’’ তাই তো—
‘‘মানুষ গুরু মন্ত্র দেন কানে।
জগদ্‌গুরু মন্ত্র দেন প্রাণে।।’’
মনেতেই সব। মন শুদ্ধ না হলে কিছুই হয় না।
‘‘গুরু, কৃষ্ণ, বৈষ্ণব, এ তিনের দয়া হল।
একের দয়া বিনে জীব ছারেখারে গেল।’’
একের কিনা মনের। নিজ মনের কৃপা হওয়া চাই। ধ্যানজপ করতে হয়। তাতে মনের ময়লা কাটে। পূজা, জপ, ধ্যান—এসব করতে হয়। যেমন ফুল নাড়তে চাড়তে ঘ্রাণ বের হয়, চন্দন ঘষতে ঘষতে গন্ধ বের হয়, তেমনি ভগবৎতত্ত্ব আলোচনা করতে করতে তত্ত্বজ্ঞানের উদয় হয়। জপ অভ্যাস করতে করতে মানুষ সিদ্ধ হয়—জপাৎ সিদ্ধিঃ, জপাৎ সিদ্ধিঃ, জপাৎ সিদ্ধিঃ। মন বসুক না বসুক, জপ করবে। রোজ যদি এত (সংখ্যা) করে জপ করতে পার তো ভাল হয়। সকাল-সন্ধ্যায় বসবে। আর মাথা ঠান্ডা রেখে জপধ্যান করবে। এর চেয়ে মাটি-কোপানো সোজা কাজ। জপধ্যান সব যথাসময়ে আলস্য ত্যাগ করে করতে হয়। দক্ষিণেশ্বর একদিন শরীরটা খারাপ লাগায় একটু দেরিতে উঠেছি। তখন রাত তিনটায় উঠতুম। পরদিন আরও দেরিতে উঠলুম। ক্রমে দেখি আর সকালে উঠতেই ইচ্ছা যাচ্ছে না। তখন মনে হলো, ওরে ওই তো আলস্যে পেয়েছে। তারপর জোর করে উঠতে লাগলুম, তখন সব পূর্বের মতো হতে লাগল। এসব বিষয়ে রোখ করে অভ্যাস রাখতে হয়। ধ্যান জপের একটা নিয়মিত সময় রাখা খুব দরকার। কারণ কখন যে ক্ষণ বয়, বলা যায় না। ও হঠাৎ এসে উপস্থিত হয়—টের পাওয়া যায় না। সেজন্য যতই গোলমাল হোক, নিয়ম রাখা খুব দরকার। আর নেহাত যদি কাজের ঝঞ্ঝাট থাকে, তবে স্মরণ প্রণাম করলেও হয়। সন্ধিক্ষণেই তাঁকে ডাকা প্রশস্ত। রাত যাচ্ছে, দিন আসছে, দিন যাচ্ছে, রাত আসছে—এই হলো সন্ধি। এই সময় মন পবিত্র থাকে। জপতপের দ্বারা কর্মপাশ কেটে যায়। কিন্তু ভগবান-কে প্রেমভক্তি ছাড়া পাওয়া যায় না। জপ-টপ কি জান? ওর দ্বারা ইন্দ্রিয়-টিন্দ্রিয় গুলোর প্রভাব কেটে যায়। কর্মফল ভুগতে হবেই। তবে ঈশ্বরের নাম করলে যেখানে ফাল সেঁধুত, সেখানে ছুঁচ ফুটবে। জপতপ করলে কর্ম অনেকটা খণ্ডন হয়। যেমন সুরথ রাজা বলি দিয়ে দেবীর আরাধনা করেছিল বলে লক্ষ পাঁঠায় মিলে তাঁকে এক কোপে কাটলে। তার আর পৃথক লক্ষ বার জন্ম নিতে হলো না। দেবীর আরাধনা করেছিল কিনা! ভগবানের নামে কমে যায়। ঠাকুর বলেছিলেন, ‘যার (ধন-ধান্য) আছে সে মাপো (মেপে দেওয়া); যার নাই সে জপো।’ ঘর হলে আসন-আচমন প্রয়োজন। রাস্তায় বা অন্যত্র পথে ঘাটে নাম করলেই হবে। মন স্থির করে একবার ডাকলে লক্ষ জপের কাজ হয়।
শ্রীরামকৃষ্ণ, সারদাদেবী ও বিবেকানন্দের ‘উপদেশাবলী’ থেকে

15th     September,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ