বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

ব্রহ্ম

বিষের ন্যায় মারাত্মক বিষয় উপভোগের আশা ত্যাগ কর। এই বিষয়ভোগ লিপ্সাই মৃত্যুর রূপ। জাতি কুল ও আশ্রমের অভিমান ত্যাগ করিয়া সকাম কর্ম হইতে দূরে সরিয়া থাক। মিথ্যাভূত (অনিত্য) দেহাদিতে ‘আমি’ বোধ ত্যাগ কর। নিজের যথার্থ-স্বরূপকে জানিয়া তাহাতে স্থিত হও। বস্তুতঃ তুমি দ্রষ্টা, মন হইতে ভিন্ন এবং অদ্বয় ব্রহ্মস্বরূপ। 
লক্ষ্য ব্রহ্মে মনকে দৃঢ়ভাবে স্থাপিত করিয়া, অন্য ইন্দ্রিয় সমূহকে স্ব স্ব স্থানে স্থির রাখিয়া, কোন এক আসনে স্থির ভাবে উপবেশন করিয়া এবং দেহ পোষণের চিন্তা বর্জন করিয়া, ব্রহ্মের সহিত আত্মার অভেদভাব প্রাপ্তির ফলে তাহাতে তন্ময় হইয়া, একাকার বৃত্তির আশ্রয়ে সর্বদা স্ব-স্বরূপে সুখে ব্রহ্মানন্দরস পান কর। অন্য ব্যর্থ-কর্মসমূহের অনুষ্ঠানে কীই বা ফল?
পাপও মোহজনক এবং দুঃখদায়ক অনাত্মবিষয়ের চিন্তা ত্যাগ করিয়া মুক্তির কারণ আনন্দরূপ আত্মার চিন্তা কর। স্বপ্রকাশ, সকলপ্রত্যয়ের দ্রষ্টা, বুদ্ধিতে উপলব্ধ এই আত্মা সর্বদা প্রকাশমান আছেন। (বুদ্ধি তাঁহার উপলব্ধি স্থান।) অসৎ হইতে ভিন্ন এই শুদ্ধ আত্মাকে স্বীয় লক্ষ্য বলিয়া ধারণা করতঃ একাকারবৃত্তি-অবলম্বনে ইহার সহিত নিজের অভিন্নত্ব উপলব্ধি কর।
বিচ্ছেদশূন্য এবং অন্য প্রত্যয়রহিত-বৃত্তিসহায়ে এই আত্মাকে (ব্রহ্মকে) স্বীয় আত্মরূপে স্পষ্টরূপে উপলব্ধি করিবে।
সাক্ষিস্বরূপ ব্রহ্মে আত্মভাবনা দৃঢ় করিয়া এবং ‘আমি আমার’ বলিয়া মনে হয় এমন সকল বস্তুতে ‘আমি আমার’ বোধ ত্যাগ করিয়া, ভগ্নঘটের ন্যায় তুচ্ছ বোধে সে সকল বিষয়ে উদাসীন থাকিবে।
শুদ্ধ মনকে সাক্ষী জ্ঞানস্বরূপ চিদাত্মায় স্থির করিয়া ধৈর্যের সহিত স্থিরতা প্রাপ্ত হইবে এবং চিত্তস্থৈর্যের পর পূর্ণ স্বস্বরূপকে প্রত্যক্ষ করিবে।
নিজের অজ্ঞানদ্বারা রচিত দেহ ইন্দ্রিয় প্রাণ মনঃ অহংকার প্রভৃতি অগণিত উপাধি হইতে মুক্ত হইয়া অখণ্ডরূপ আত্মাকে মহাকাশের ন্যায় পূর্ণরূপে (সর্বগত ও অবিভাজ্যরূপে) দর্শন করিবে। আকাশ যেমন ঘট কলশ জাল সূচ প্রভৃতি অসংখ্য উপাধি হইতে মুক্ত থাকিয়া এক অদ্বিতীয়রূপে প্রকাশ পায় আত্মাও সেই প্রকারে অহংকার প্রভৃতি উপাধিসমূহ হইতে মুক্ত হইয়া শুদ্ধ অদ্বয় ব্রহ্মরূপে বর্তমান থাকেন।
ব্রহ্মার দেহ হইতে আরম্ভ করিয়া গুল্মদেহ পর্যন্ত সমস্ত উপাধি মিধ্যা। উপাধিসমূহকে মিথ্যারূপে জানিয়া স্বীয় আত্মাকে অদ্বৈতভাবে অবস্থিত পূর্ণ ব্রহ্মরূপে দর্শন করিবে। যে বস্তু যে অধিষ্ঠানে ভ্রান্তিবশতঃ কল্পিত হয়, সেই বস্তু তাহার অধিষ্ঠানের জ্ঞান হওয়ার পর অধিষ্ঠানমাত্ররূপে বর্তমান থাকে; অধিষ্ঠান হইতে ভিন্ন আরোপিত বস্তুরূপে আর প্রকাশ পায় না। ভ্রান্তির নাশ হইলে ভ্রমবশতঃ রজ্জুতে দৃষ্ট সর্প রজ্জুরূপেই প্রকাশ পায়। সেইপ্রকার, আত্মাতে কল্পিত ও ভিন্নরূপে দৃষ্ট এই বিশ্ব আত্মারূপ অধিষ্ঠানের জ্ঞানের পর আত্মস্বরূপেই প্রকাশ পায়। আত্মাই ব্রহ্মা বিষ্ণু ইন্দ্র ও শিব; আত্মাই এই সর্ববিশ্বরূপে প্রকাশমান; আত্মা হইতে ভিন্ন কিছু নাই।
স্বয়ং আত্মা অন্তরে (স্বপ্নে বা কল্পনায় যাহা কিছু প্রকাশ পায় সে সকলে) বর্তমান, তিনিই বহির্জগতরূপে প্রকাশিত। আত্মাই সম্মুখে পশ্চাতে উত্তরে দক্ষিণে ঊর্ধ্বে ও অধোদেশে—ব্যাপিয়া বিরাজমান। (আত্মা হইতে ভিন্ন কিছুই নাই)। তরঙ্গ, ফেন, আবর্ত, বুদ্‌বুদ্‌ প্রভৃতি সব কিছু যেমন স্বরূপতঃ জলমাত্র, সেইপ্রকার স্থূল দেহ হইতে আরম্ভ করিয়া সূক্ষ্ম অহংকার পর্যন্ত সব কিছু চৈতন্যমাত্র। (স্থূল সূক্ষ্ম) সব কিছুই বিশুদ্ধ একরস চৈতন্য। (চৈতন্যের অতিরিক্ত জগৎ বলিয়া কিছু নাই)।
শঙ্করাচার্যের ‘বিবেকচূড়ামণি’ থেকে

15th     August,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ