বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

প্রণবনাম

প্রণব ঈশ্বরের বাচক। বাচক অর্থে অভিধায়ক শব্দ। অর্থাৎ, প্রণব এমন একটি শব্দ যাহার মাধ্যমে ঈশ্বর সম্বন্ধীয় পূর্ণ জ্ঞান লাভ হয়। প্রণবের ভিতরেই ঈশ্বরের সকল শক্তি, সকল মহিমা, সামগ্রিক স্বরূপ বিদ্যমান। ব্রহ্মের কোনও নাম নাই; কিন্তু নামকরণ যদি করিতেই হয় তবে এমন নাম নির্ব্বাচন করিতে হইবে, যাহার ভিতরে সকল শব্দের একীভূত সমাবেশ রহিয়াছে, তবেই সেই নাম হইবে সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ। ‘ওঁ’ বা ‘প্রণব’—সকল শব্দের জনক। লক্ষ মানুষের মেলায় লক্ষ কথা হইতেছে, দূর হইতে কর্ণপাত কর, শুনিবে শুধু “ওম্‌”। এই “ওঁ” হইলেন নাদব্রহ্ম; এই “ওঁ”ই ব্রহ্মের স্বাভাবিক নাম। নাম ও নামী অভিন্ন। ব্রহ্ম ও প্রণবেও অভিন্ন সম্বন্ধ। ঈশ্বরের প্রণব নামটি মানুষের দেওয়া নয়—ইহা অপ্রাকৃত। আপন পরম কারণ নাদেই পরমেশ্বর আপন নাম ঘোষণা করিতেছেন। ঐ অনন্ত পুরাতন ব্যোমব্যাপিয়া অনাদিকাল হইতে অনুরোণিত হইতেছে ঐ পর নাদ ওঁ; ভোগীদের শুনিবার কান নাই, তাই শুনিতে পায় না; কিন্তু, যোগীরা তাহা শুনিতে পান। ঐ নাদময় ব্রহ্মের বিচিত্র মূর্চ্ছনা তাঁহারা আপন শরীরাভ্যন্তরেও শুনিয়া থাকেন। পরা, পশ্যন্তী, অনাহতা, বৈখরী ভেদে বাক্‌ (নাদ) এই চতুর্ব্বিধা। পরা বাক্‌ (নাদ) অব্যক্তা, পশ্যন্তী বাক্‌ ব্যক্তা, কিন্তু সূক্ষ্মতমা; অনাহতা বাক্‌ সূক্ষ্মতরা এবং কোন প্রকার সঙ্ঘাত ব্যতিরেকেই প্রকাশিতা; আর বৈখরী বাক্‌ অতি স্থূলা, বাক্‌যন্ত্রসমূহের পারস্পরিক সঙ্ঘাতে তাহাদের উৎপত্তি—অ, আ, ক, খ ইত্যাদি বর্ণরূপে যাহা আমরা উচ্চারণ করি। ঐ বর্ণসমূহ সার্থকরূপে পরস্পর যুক্ত হইয়া বিশিষ্ট শব্দ ও পদাবলীর সৃষ্টি করে এবং মনোভাব প্রকাশে ও নানামুখী জ্ঞান-বিজ্ঞানের অনুশীলনে মানুষকে সাহায্য করিয়া থাকে। নাদব্রহ্মই তাই সকল পার্থিব জ্ঞানের উৎস; প্রণব বা নাদব্রহ্মই সকল আপ্তবাক্যের মূল; সকল বীজমন্ত্র প্রণব হইতেই জাত। সমুদয় অর্ব্বাচীন শব্দের কারণও হইলেন প্রণব। ঐ যে ধানুঙ্কের ধনু হইতে শরটি শোঁ শোঁ বেগে বাহির হইয়া গেল, ঐ যে উচ্ছলা তটিনী কলনাদে প্রবাহিতা; ঐ যে ঝঞ্ঝাবাতের শন্‌ শন্‌ শব্দ, ঐ যে বনানীর মর্ম্মর ধ্বনি, শিশুর ক্রন্দন, ট্রাম-বাসের ঘরঘরানি, অশনির গর্জ্জন, বনবিহগের কুজন, রেডিওর গান,—প্রাকৃত হইলেও কত বিচিত্র—তাহা সকলই প্রণবেরই নাদাত্মিকা বৈখরী মুর্চ্ছনা।
প্রণবজ্যোতি
শব্দতরঙ্গ ও আলোকতরঙ্গের সহাবস্থান আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত। স্থূল দৃষ্টান্ত দিয়াই বুঝা যায়। মেঘাবৃত আকাশে বিদ্যুৎ চমকাইয়া উঠিল, ক্ষণকাল মধ্যেই শুনিবে অশনি গর্জ্জিয়া উঠিয়াছে। মাইকের মধ্য দিয়া বক্তা ভাষণ দিতেছেন, ইউনিটে বহুগুণ বর্দ্ধিত হইয়া তাহা শ্রোতৃবৃন্দের কর্ণগোচর হইতেছে। ঐ শব্দতরঙ্গের ভিতর শক্তি সঞ্চার করিতেছে, তাহাকে বহন করিয়া নিতেছে আলোকতরঙ্গ। নাদব্রহ্ম প্রণব—সর্ব্বজ্যোতির আধার, তন্ত্রশাস্ত্র এই জ্যোতিকেই বিন্দু আখ্যা দিয়াছেন। সূক্ষ্মত্ব হেতুই ইহার এই আখ্যা। চন্দ্র সূর্য্য তারকায় যত জ্যোতিঃ, যত রূপ দেখিতেছ, সেই জ্যোতিরাশির উৎস হইলেন প্রণব। তোমার গৃহে ঐ যে প্রদীপটি মিটিমিটি জ্বলিতেছে, ঐ যে জোনাকী পোকাটি আঁধার রাতে আলো ছড়াইতেছে, ঐ যে চম্‌মকির আগুন ঠিক্‌রাইয়া পড়িল, তাহা একই পরম জ্যোতিঃর নগণ্যতম ও স্থূলতম প্রকাশ। যোগিজনচিত্তে চক্রে চক্রে যে বিচিত্র আত্মজ্যোতির উদ্ভাস, তাহাও প্রণবব্রহ্মেরই মহণীয় রূপ।
স্বামী নির্ম্মলানন্দের ‘শ্রীশ্রীপ্রণবানন্দ—শত রূপে, শত মুখে’ থেকে

11th     August,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ