বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

ভক্ত

ভক্ত ভাবাতীত অবস্থাতে অখণ্ড চৈতন্যের সহিত নিজেকে অভিন্নরূপে অনুভব করিয়া থাকেন, তখন কি ভগবানের সগুণ মূর্তিগুলিও (ভাবাতীতের মতো) সত্য বলিয়া অনুভব করেন? শ্রীরামকৃষ্ণ কি বলিতেছেন, ‘ঈশ্বরীয় রূপটুপ সব লয় পায়’, ‘বেদান্ত-বিচারের কাছে রূপটুপ উড়ে যায়।’ সেই বিচারের শেষ সিদ্ধান্ত—ব্রহ্ম সত্য আর নামরূপযুক্ত যাবৎ বস্তু মিথ্যা। দ্বৈতের সমূলে বিলোপ। আবার যখন ভক্ত সমাধি হইতে ব্যুত্থিত হন, তখন ভক্তের ‘আমি’ ঈশ্বর রাখিয়া দেন বলিয়া ভক্ত ‘চিন্ময় শ্যাম, চিন্ময় ধাম’ এরূপ অনুভব করেন। ‘সাকার রূপ কি রকম জান? যেমন জলরাশির মাঝ থেকে ভুড়ভুড়ি ওঠে সেইরূপ। মহাকাশ চিদাকাশ থেকে এক একটি রূপ উঠছে দেখা যায়।’ ‘দেখিয়ে দিলেন যে—মা-ই সব হয়েছেন—দেখিয়ে দিলেন প্রতিমা চিন্ময়, বেদী চিন্ময়, কোশাকুশী চিন্ময়, চৌকাঠ চিন্ময়, মারবেলের পাথর সব চিন্ময়। ঘরের ভেতর দেখি, সব যেন র’সে রয়েছে—সচ্চিদানন্দ রস।’ এইরূপ চিন্ময় শ্যাম অনুভবে চৈতন্যসত্তা প্রধানরূপে অনুভূত হন; মন্দির, কোশাকুশী অপ্রধানরূপে—কেবল আকারমাত্ররূপে। ‘যিনি ব্রহ্ম, তাঁর সত্তাতেই জীব-জগৎ।’ ‘লীলারূপ ভেঙে গেলেও নিত্য আছেই—জল স্থির থাকলেও জল, হেললে দুললেও জল, হেলা-দোলা থেমে গেলেও (লীলা থেমে গেলেও) সেই জল।’ ‘যিনি ব্রহ্ম, তাঁর সত্তাতেই জীব-জগৎ। তবে যদি তিনি ‘আমি’ একবার মুছে দেন, তখন যে কি হয় মুখে বলা যায় না।’ মন্দির, কোশাকুশী—সব চিন্ময়; এখানে মন্দির, কোশাকুশী আকারমাত্র—অপ্রধান। শ্রীরামকৃষ্ণ নিজের ভাবের কথা নিজেই বলিতেছেন—‘হরগৌরীভাবে কতদিন ছিলাম—আবার কতদিন রাধাকৃষ্ণের ভাবে—কখন সীতারামের ভাবে।…তবেই লীলাই শেষ নয়। এই সব ভাবের পর বললুম—মা এই-সবে বিচ্ছেদ আছে; যার বিচ্ছেদ নেই, এমন অবস্থা ক’রে দাও—তাই কতদিন অখণ্ড সচ্চিদানন্দ এইভাবে রইলুম—ঠাকুরদের ছবি ঘর থেকে বার ক’রে দিলুম—তাঁকে সর্বভূতে দর্শন করতে লাগলুম।’ এইখানে ‘লীলাই শেষ নয়’—এই সব লীলা! আমিও ভাবতুম ঐ কথা, তারপরে দেখলুম সবই মায়া। তাঁর সৃষ্টিও মায়া, তাঁর সংহারও মায়া।’ ‘বাজিকরই সত্য, বাজি মিথ্যা।’ ‘এ-সবে বিচ্ছেদ আছে। যার বিচ্ছেদ নাই, এমন অবস্থা ক’রে দাও। তাই কতদিন অখণ্ড সচ্চিদানন্দ এইভাবে রইলুম।’ এই সমস্ত কথাগুলি আলোচনা করিলে বেশ বোঝা যায়, ভাবাবস্থায় বিচ্ছেদ আছে, ভেদ আছে, অখণ্ড সচ্চিদানন্দ অবস্থায় কোন ভেদ নাই, সুতরাং অভেদ যেভাবে সত্য, ভেদ সেভাবে সত্য নয়, অভেদকে অবলম্বন করিয়াই ভেদ, ভেদের নিজস্ব সত্তা নাই। কিন্তু ভেদকে অবলম্বন করিয়া অভেদ থাকে না। ‘আমি যখন তিনি (ঈশ্বর) মুঝে ফেলবেন, তখন যা আছে তাই আছে—মুখে বলা যায় না’—‘তখন এই অখণ্ড অনুভূতি। যখন ভক্তের ‘আমি’ ঈশ্বর রেখে দেন, তখন ভাবময় মূর্তির অনুভব। যতক্ষণ আমি রেখে দিয়েছেন, ততক্ষণ সবই নিতে হবে।’ এইরূপ সর্বভূতে ব্রহ্মদর্শন-বাক্য ও ভাবঘন মূর্তির অনুভব-বাক্য হইতে ইহাই বুঝা যাইতেছে যে, সগুণ এবং নির্গুণ সমানভাবে সত্য নহে।’ ‘ভক্তি-হিমে সচ্চিদানন্দ সাগরে জমাটবাঁধা মূর্তি জ্ঞানসূর্য উঠলে সব গলে যায়’—এই কথা হইতেও সগুণ সাকার মূর্তির আপেক্ষিক সত্যতা বুঝা যাইতেছে। 
‘শ্রীরামকৃষ্ণ স্বামী বিবেকানন্দ ও ধর্মপ্রসঙ্গ’ থেকে

10th     August,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ