বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

শ্রীশ্রীঠাকুরের ভাষণ

আজ আরতি-কীর্ত্তনের পর শ্রীশ্রীঠাকুর মঠাশ্রমের উদ্দেশ্য, আমরা কর্ম্ম করিয়া আনন্দ পাই না কেন ইত্যাদি বিষয়ে অনেক কথা বলিলেন। শ্রীশ্রীঠাকুরের ভাষণের সংক্ষিপ্ত মর্ম্ম, যথাঃ—
“ঠাকুরের উপর যারা নির্ভর করেছে, তাদের সাধন-ভজন করবার আলাদা স্পৃহাই হতে পারে না। যাকে উপযুক্ত বুঝবেন, ঠাকুর নিজেই তাকে সাধন দিবেন। নিজের উন্নতির ভার নিজেই নিলে, ঠাকুরের আর কি কাজ রইল? তোমরা এখানে অনেকে কাজ কর; কিন্তু আনন্দ পাও না। তার কারণ কাজটাকে সাধনা বলে তোমরা ভাবতে পার না। কাজ ছেড়ে সাধনা করবে—এই হল অনেকের ইচ্ছা, কিন্তু একটা কথা তোমাদের জিজ্ঞাসা করি, আজীবন যে সাধনা করে সিদ্ধি লাভ কর্‌ল, সে যদি প্রকৃত সাধনার একটি আধার দেখতে পায়, তাহলে কি তাতে তাঁর আনন্দ হবে, না তাতে তিনি বাধা দিবেন? এখানে যদি কারও সত্যলাভের পিপাসা জেগে উঠে, তাকে আমি সহায়তাই করব। কিন্তু সত্যলাভের পথ নিয়ে হচ্ছে কথা। তোমাদের ধাত, সংস্কার সব তো আমি বুঝি, কাজেই গুরুর সেবা-কর্ম্মেই তোমাদের লাগিয়ে রেখেছি। আমি জানি এ ছাড়া তোমাদের আর পথও নেই।
“আমরা এখানে অভিনয় করতে এসেছি। Play শেষ হলে যার-যার জায়গায় চলে যাব। সুতরাং আনন্দ ক’রে কর্ম্ম ক’রে যাও। চিরকালই তো কর্ম্ম নিয়ে থাকতে হবে না। আমরা যে মুক্ত!
“গুরুভাবও এক step নীচে। আমি তোমাকে ছোট ভাবি, অজ্ঞান মনে করি বলেই—তোমার উপর গুরুগিরি করি; কিন্তু জগতের সবাইকে সমান মনে করলে তো আর গুরুগিরি চলে না। কে কা’র উপকার করবে বল? উপকার করব—এ-ও তো একটা অভিমান। গুরুগিরি অবস্থাটা সবচেয়ে সেরা অবস্থা নয় কিন্তু—এর উপরও আর একটা উচ্চ অবস্থা আছে। গুরুগিরির অভিনয়ের মোহও একদিন ভেঙ্গে যাবে। আজকাল আমার আর গুরুগিরিরও স্পৃহা নেই।”
আজ আরতির পর বাহিরে গৌরাঙ্গ-ঘরের বারান্দায় ঠাকুরকে প্রণাম করিতে আসিয়া স — দেখেন, ঠাকুর একজন আগন্তুকের সহিত কথা বলিতেছেন। সাধন-ভজন করিতে করিতে বর্তমানে তাঁহার একটা নিরানন্দের অবস্থা আসিয়াছে। শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁহাকে উপদেশ দিতেছেন—“দেখ, আমাদের জীবনটা স্তরে স্তরে সজ্জিত। এখন তুমি হয়ত এমন একটা স্তরে এসেছ—যেখানে আনন্দ নেই। এর পরই হয়ত দেখবে জীবনে আনন্দের প্লাবন বয়ে যাবে; সুতরাং যে কর্ম্ম করতে, তা ছেড়ো না। মাঝে মাঝে গুরুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যেও, তাতে মনের অবসাদ কেটে যাবে, শক্তি-সঞ্চার উপলব্ধি করে আনন্দে ভিতর পূর্ণ হয়ে উঠবে। গৃহস্থ তোমরা—সৎসঙ্গ তোমাদের পক্ষে মহৌষধ।”
আরতি-কীর্তনের পর প্রণাম শেষ হইলে, আজ শ্রীশ্রীঠাকুর ব্রাহ্মসমাজের দান সম্পর্কে কয়েকটি কথা বলিলেন—“ব্রাহ্মসমাজের তখন খুবই প্রয়োজন ছিল। পাশ্চাত্যের শিক্ষা-প্রণালী হিন্দু-সমাজ-ধর্ম্মে যেরূপ অনাস্থা এবং অবিশ্বাস এনেছিল, তখন ব্রাহ্মসমাজের মত এরূপ একটি উদার যুক্তিবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত ধর্ম্মের খুবই আবশ্যক হয়ে পড়েছিল। তখনকার প্রকৃত সত্যপিপাসু সাধকও ব্রাহ্মধর্মের ভিতর প্রবেশ করেই অন্ততঃ কিছু সময়ের দরুন হলেও মনের খোরাক পেয়েছিল। হিন্দুধর্ম্মে অনাস্থাসম্পন্ন শিক্ষিত মানব-মনের প্রাথমিক খোরাক একমাত্র ব্রাহ্মসমাজই দিতে পেরেছিল। যখন যা উদ্ভব হয়, তা ভগবৎ-ইচ্ছাতেই হয়ে থাকে।
‘শ্রীশ্রীনিগমানন্দ উপদেশামৃত’ থেকে

8th     August,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ