বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

হরি

‘কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ’। হরি মানে কী? দর্শনে বলা হয়, জগৎটা হচ্ছে হরি আর হরের লীলাভূমি। একদিকে হরি জগৎকে এক ভাবে রক্ষা করছেন, আরেক দিকে হর জগৎকে ধ্বংস করছেন। কিন্তু সে ধ্বংসটা কেমন?— না, নিজের মধ্যে টেনে নিয়ে আবার নোতুন রূপে তাকে প্রক্ষিপ্ত করা। যেমন তোমার মনের মধ্যে একটা দুষ্ট মানুষ বা একটা দুষ্ট রাক্ষসের চিত্র এল। সেই মনের রাক্ষসটাকে তুমি তৈরী করেছ। তারপরে ভাবলে—এই ভীষণ রাক্ষসটার মন কী রকম সাংঘাতিক! বাপ্‌ রে বাপ্‌! ওকে নিয়ে কী করি?— না, নিজের মনের মধ্যে আবার ফেরৎ নিয়ে নিই। তোমার মনের ছবিকে মনে ফেরৎ নিতে পার। সবাই তাই করে। এখন মনের রাক্ষসটাকে নিজের মনে মিশিয়ে দিয়ে তার জায়গায় একটা সৎ মানুষকে আবার নিজের মনের মধ্যেই তৈরী করলে। তোমরা তো অজস্র মানুষকে মনে মনে সব সময়েই তৈরী কর। তা সেই রাক্ষসটাকে প্রত্যাহার করে নিয়ে সেই জায়গায় একটা ভাল মানুষকে তুমি মনে মনে তৈরী করলে। ঠিক তেমনি পরমপুরুষ কী করেন?– না, মানুষের একটা রূপকে একটা ভাবকে প্রত্যাহার করে নিয়ে আরেকটা রূপে, আরেকটা ভাবেতে জগতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সুতরাং এটা ধ্বংস করা তো নয়। এ হ’ল সংহার, কিন্তু ভয়াবহ সংহার নয়। এটা নোতুন ভাবে নোতুন রূপে নোতুন যোগ্যতায় তাকে পাঠিয়ে দেওয়া। আর যে মানুষটা নিজের সাধনায় নিজের মহত্ত্বের ফলে পাপমুক্ত হয়েছে, তাকে হরি আর পাঠাবেন কী করে? নিজের মধ্যেই মিশিয়ে নেন। অর্থাৎ সে স্থায়ী সমাধি লাভ করে।
হরি মানেই পরমপুরুষ। কিন্তু ধ্বংস কাজটা যার দ্বারা সংসাধিত হচ্ছে তাকে বলা হয় ‘হর’। আর লালন-পালন, দেখা-শোনা এগুলো যার দ্বারা হচ্ছে তাকে বলা হয় ‘হরি’। ‘হর’ আর ‘হরিতে’ এই তফাৎ। ‘হর’ শব্দটা আসছে দু’টো বর্ণ থেকে। ‘হ’ আর ‘র’। ‘হ’ হচ্ছে আকাশতত্ত্বের বীজ(হং) আর ‘র’ হচ্ছে ক্রিয়াশক্তির বীজ। যিনি তাঁর উদ্দাম শক্তির, প্রচণ্ড শক্তির সাহায্যে, ক্রিয়াশক্তির সাহায্যে আকাশ পর্যন্ত সমস্ত ভূতকে টানছেন আর ছাড়ছেন, নিজের মধ্যে নিচ্ছেন আর বের করে দিচ্ছেন তিনি হলেন ‘হর’।
কিন্তু হরি? এখন কথা হচ্ছে জাগতিক মানুষ জন্ম-জন্মান্তর ধরে কত যে অন্যায় কাজ করেছে, কত যে পাপ কাজ করছে, তার পাপের বোঝা হিমালয়সদৃশ। ওই পাপের বোঝা বইতে গিয়ে তার কোমর ভেঙ্গে যাবে। ওই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে গেলে তাকে বিশ জন্ম ধরে বারবার পৃথিবীতে আসতে হবে। সে কী কথা! হরি তাহলে রয়েছেন কেন? পরমপুরুষ তাহলে রয়েছেন কেন? পরমপুরুষ কি কোন ব্যবস্থা করে দিতে পারেন না? হ্যাঁ, নিশ্চয় পারেন, আর পারেন বলেই তাঁর নাম ‘হরি’। ‘হরি’ মানে; হরতি পাপানি ইত্যর্থে হরিঃ। যিনি মানুষের পাপ চুরি করে নিয়ে তাকে হাল্কা করে দেন, তার মুক্তির পথ প্রশস্ত করে দেন তিনি হলেন হরি। 
শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তির “ভক্তিরস ও কীর্ত্তনমহিমা” থেকে

30th     July,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ