বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

ভাগবত তত্ত্বচয়

আমার মনে হয় না যে আধ্যাত্মিক ও সূক্ষ্ম জ্ঞানের কোন একটা ধারার সহিত অন্য একটা ধারার সম্বন্ধ যথাযথ নির্দ্ধারিত করা যায়। বিষয়বস্তু সবগুলিরই এক, কিন্তু দৃষ্টভঙ্গী ও দৃষ্টির ব্যাপ্তি বিভিন্ন—দৃষ্ট এবং অনুভূত বস্তুর মানসিক ধারণাচয়ও বিভিন্ন—উপযোগিতার দিক দিয়া উদ্দেশ্যও বিভিন্ন; এবং সেই কারণে কল্পিত, নির্দ্ধারিত ও অনুসৃত পথও বিভিন্ন; এই ধারাসমূহের প্রত্যেকটী ভিন্ন প্রকারের, প্রত্যেকটী নিজের পদ্ধতি-প্রণালী গড়িয়া লইয়াছে। প্রাচীন ভারতীয় ধারাতে কেবল একটি ত্রয়ী ভাগবত তত্ত্ব আছে, সচ্চিদানন্দ। অথবা তুমি যদি পরার্দ্ধকে ভাগবততত্ত্ব বল, তাহা হইলে তাহার তিনটি স্তর আছে,—সৎ-এর ক্ষেত্র, চিৎ-এর ক্ষেত্র, আনন্দের ক্ষেত্র। বিজ্ঞানভূমিকে ইহার চতুর্থ স্তর বলিতে পার, কেন না উহা অপর তিন ভূমির দ্বারা পুষ্ট এবং পরার্দ্ধের অন্তর্গত। ভারতীয় ধারাগুলি চেতনার দুইটী সম্পূর্ণ পৃথক স্তর ও শক্তির মধ্যে প্রভেদ করে নাই, একটী যাহাকে আমরা অধিমানস বলিতে পারি, অপরটী যথার্থ অতিমানস দিব্য-বিজ্ঞান। সেই জন্য ইহারা মায়া (অধিমানস শক্তি বা বিদ্যা-অবিদ্যা) সম্বন্ধে গন্ডগোল করিয়াছিল এবং মায়াকেই পরম সৃজনী শক্তি বলিয়া গ্রহণ করিয়াছিল। এইভাবে, যাহা এখনও অর্দ্ধদীপ্ত মাত্র, সেইখানে থামিয়া গিয়া তাহার রূপান্তরের রহস্যকে হারাইয়া ফেলিল—যদিচ বৈষ্ণব ও তান্ত্রিক যোগ উহাকে আবার খুঁজিয়া পাইবার জন্য অনেক হাতড়াইয়াছিল এবং মাঝে মাঝে প্রায় সন্ধান পাইয়াছিল। মোটকথা, এই ভ্রমই সচল দিব্য সত্য আবিষ্কারের সকল চেষ্টা ব্যাহত করিয়াছে। এমন কোন চেষ্টার কথাই আমি জানি না যাহা অধিমানস দীপ্তির অবতরণ অনুভব করিবা মাত্র তাহাকে যথার্থ বিদ্যজ্ঞানের জ্যোতি বলিয়া ধরিয়া লয় নাই; ফলে সাধক হয় সেইখানেই থামিয়া গিয়াছে, আর অগ্রসর হইতে পারে নাই, নয়তো ধরিয়া লইয়াছে যে ইহাও শুধু মায়া বা লীলা বই কিছু নয় এবং তাহার একমাত্র করণীয় হইল এই ভূমি অতিক্রম করিয়া পরব্রহ্মের কোন অচল নিষ্ক্রিয় নীরবতার মধ্যে প্রবেশ করা। তবে হয়তো, ভাগবত তত্ত্বরাজি বলিতে যে-অর্থ করা যায়, তাহা হইল বরং বর্ত্তমান বিশ্বভূবনের মূল তত্ত্বত্রয়। ভারতীয় ধারাতে এই তিন তত্ত্ব ঈশ্বর, শক্তি ও জীব, অথবা সচ্চিদানন্দ, মায়া ও জীব। কিন্তু আমাদের যোগধারাতে আমরা সহজেই এই তত্ত্বত্রয়কে ধরিয়া লইতে পারি এবং তাহাদিগকে দেখিতে পারি তিন সর্ব্বোচ্চ চেতনাভূমির দৃষ্টিতে— আনন্দ (তাহার উপর প্রতিষ্ঠিত সৎ ও চিৎ তত্ত্ব সহ), অতিমানস ও অধিমানস—ইহাদিগকে বলিতে পারি ভাগবততত্ত্বত্রয়। অধিমানস অধিষ্ঠিত অপরার্দ্ধের মাথার উপরে, এবং তোমাকে অতিমানসে পৌঁছিতে হইলে এই অধিমানস ভূমির মধ্য দিয়া ঊর্দ্ধে উঠিতে হইবে। অতিমানস বিজ্ঞান ভূমিক ঊর্দ্ধে, তাহার পরস্তাৎ অধিষ্ঠিত সচ্চিদানন্দময় জগৎসমূহ।
তুমি অধিমানসের নিম্নে অবস্থিত গহ্বরের কথা বলিতেছ। কিন্তু মানব-চেতনা ছাড়া আর কোন গর্ত্ত আছে কি? চেতনার সমুদয় ক্ষেত্র ও স্তর-পরম্পরার মধ্যে কোথাও একটা যথার্থ গহ্বর নাই, সর্ব্বত্র স্তুরের সহিত স্তরের যোগ আছে, সাধক ধাপে ধাপে উঠিতে পারে। মানব মনের ও অধিমানসের মাঝে অনেকগুলি দীপ্ত হইতে দীপ্ততর ভূমি আছে। 
শ্রীঅরবিন্দের ‘এই বিশ্বের প্রহেলিকা’ থেকে

27th     July,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ