বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

অধ্যাত্ম 

অধ্যাত্ম জগতে প্রবেশ না করতে পারলে মানবজন্ম সার্থক হবে না। এখানেই মানুষের প্রকৃত শান্তি ও সুখের বীজ নিহিত আছে। স্থুলের যে দু’জন বিশেষ কর্মী (মন ও বুদ্ধি) আছে তাদের অধ্যাত্ম শিক্ষা দিয়ে মন্দ পথের গতি থেকে সত্য ও সুন্দরের কার্যে নিযুক্ত করতে হবে। মানুষ আজ বুঝতে পেরেছে যে তারা চূড়ান্ত মন্দের ফল লাভ করেছে। তবুও তাদের এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাবার কোন সদিচ্ছা জাগছে না। আর চূড়ান্ত আঘাত পেয়ে এই সদিচ্ছা তাৎক্ষণিকভাবে জাগলেও তা সফল করবার কোন প্রয়াস মানুষের মধ্যে আসছে না। ‘যত মত তত পথ’—ঠিকই, কিন্তু যদি কোন পথেরই নিয়ম ও আদর্শ না মানা যায়, তাহলে অনিষ্টই লাভ হবে। কারণ বিশ্বাস ও ভালোবাসা না থাকলে সমাজে ভাব বিনিময় হয় না। আজ এই সুন্দর বস্তু দুটি বিনষ্ট হওয়ায় সমাজে, সংসারে ও জীবনে চরম অবক্ষয় ও অশান্তি দেখা দিয়েছে। তাই স্রষ্টার সৃষ্টির পিছনে যে নিয়মের নির্দেশ আছে তা মেনে কর্ম না করলে মানুষ পুনরায় সুন্দর হতে পারবে না এবং সত্যে ফিরে আসবে না। যেদিন থেকে মানুষ মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে, সেদিন থেকেই সে নিজেকে ভুলেছে। স্থূলশরীরের প্রতি আস্থা স্থাপন করে নিজের প্রতি অবিশ্বাস এনেছে এবং তাকে নানা প্রকার মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্চে, তবুও মিথ্যাকে সত্যে প্রতিপন্ন করতে চেষ্টার বিরাম নেই।
এখানে একটি সত্য কাহিনী তোমাদের গল্পচ্ছলে বলছি। কোন এক গ্রামে একজন গৃহী সন্নাসীছিলেন। তাঁর সান্নিধ্যে এসে তাঁর বাণী শ্রবণ করে গৃহীগণের অনেক উন্নতি ও নানা প্রকার বিভূতি দর্শন হচ্ছিল। তখন তাঁকে সকলে কলির জীবের ত্রাণকর্তা ও স্বয়ং ভগবান মনে করলো। বহু মানুষের বিশ্বাস তাঁর প্রতি গাঢ় হয়ে উঠলো এবং তাদের দর্শন আরো বাড়তে লাগলো। কিন্তু ওই গৃহী সন্নাসীর বাণী ও নির্দেশ কারো অন্তরে স্থান পেলো না। তিনি সকলকে আত্মবিচারে থাকতে বললেন এবং অপরের বিচার করতে নিষেধ করলেন। কিন্তু তাঁর এই উপদেশ মতো কাজ না করে সকলে নিজেদের দর্শন নিয়ে মাতামাতি আরম্ভ করলো। তাঁর অনুকরণে অনেকে নিরামিষ আহার ধরলো। অনেকে আবার বিশেষ করে সিদ্ধান্ন সেবা আরম্ভ করলো। সকলেই নিজেকে প্রধান শিষ্য মনে করে বসলো। এ অবস্থায় অনেকের আত্মীয়-স্বজন সেই গৃহী সন্নাসীর কাছে এসে তাদের প্রিয়জনদের খাদ্য বিধির বিচার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লাগলো। কিন্তু তিনি বললেন—“আমার এই স্থূলশরীর সম্পূর্ণ ঈশ্বরের অধীন, আর যারা এখানে বসে ভোগ করতো সেই সকল রিপু, ইন্দ্রিয়, অষ্টপাশ এখন আমার নিয়ন্ত্রণে। তাই ভোগের বাসনা আমার নেই।” আত্মীয়গণ পুনরায় জিজ্ঞেস করলো—মহারাজ, আপনি তো সাধনা করে তবেই এই শক্তি অর্জন করেছেন, কিন্তু আমাদের সংসারের এই সকল সাধু ব্যক্তিরা কি সাধনা করে ওই ত্যাগের শক্তি অর্জন করেছেন? সেই গৃহী-সাধু উত্তর দিলেন, “দেখ বাবা, তা মোটেই নয়। আগুনের কাছে আশ্রয় নিলে আগুনের দাহিকা শক্তিতে আশ্রিতের দেহে উত্তাপ সৃষ্টি হয়। তেমনি আমার কাছে এসে ওদের মধ্যে নানা বিভূতি দর্শন হয়েছে ও ত্যাগ তিতিক্ষার ইচ্ছা এসেছে। তার মধ্যেই আবার ওদের মধ্যে সূক্ষ্ম অহংকারও সৃষ্টি হয়েছে। তাই নিজেদের বড় ভক্ত ও সাধু ভেবে বসে আছে। কিন্তু নিজের দর্শন প্রকাশ করা বা সাধুত্বের এই অহংকারের ভবিষ্যত ফল কখনই ভাল হতে পারে না।”
শ্রীশ্রী আচার্য জ্ঞানেশ্বর দেব প্রণীত ‘জ্ঞানেশ্বরোপনিষদ্‌’ (৩য় খণ্ড) থেকে

6th     July,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ