বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

ভগবদ্‌গীতা ও মহাপ্রভু

শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতা উপনিষদসমূহের নির্যাস স্বরূপ। আচার্যগণ বলেন গীতা উপনিষদ্‌-গাভীর দুগ্ধ। উপনিষদের তত্ত্ব গীতাতেও রহিয়াছে সহজভাবে। তা ছাড়া গীতার নিজস্ব বার্তাও আছে। উপনিষদের ব্রহ্মতত্ত্ব গীতাতেও দৃষ্ট হয়। তবে পুরুষোত্তম তত্ত্বটি গীতায় অধিকতর স্পষ্ট। 
অষ্টম অধ্যায়ে অক্ষর তত্ত্বকে ব্রহ্ম বলিয়াছেন—“অক্ষরং ব্রহ্ম উচ্যতে”। পঞ্চদশাধ্যায়ে পুরুষোত্তম তত্ত্বকে অক্ষরতত্ত্ব অপেক্ষাও উত্তম কহিয়াছেন। “অক্ষরাদপি চোত্তমঃ।” 
সুতরাং পুরুষোত্তম তত্ত্বটি ব্রহ্মতত্ত্বের উপরে স্থাপন করিতেছেন। উপনিষদ্‌ যেমন ওঙ্কারের মধ্যে রসের দর্শন করিয়াছেন “তদেতন্মিথুনমোমিত্যেতস্মিন্নক্ষরে সংসৃজতে”। গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ের শেষমন্ত্রে বলিয়াছেন, “ব্রহ্মণো হি প্রতিষ্ঠাহম্‌” আমি ব্রহ্মের প্রতিষ্ঠা। ভক্ত শ্রীধর ইহার তাৎপর্য লিখিয়াছেন—“আমি ঘনীভূত ব্রহ্মস্বরূপ”। অষ্টাদশ অধ্যায়ে বলিয়াছেন—ব্রহ্মতত্ত্বকে জানিয়া পুরুষোত্তম তত্ত্বে প্রবেশ করিতে হইবে “ততো মাং তত্ত্বতো জ্ঞাত্বা বিশতে তদনন্তরম্‌”। ব্রহ্মভূত হইয়া ব্রজের পরাভক্তি লাভ করিতে হইবে।
 “ব্রহ্মভূতঃ প্রসন্নাত্মা ন শোচতি ন কাঙক্ষতি।
সমঃ সর্বেষু ভূতেষু মদ্ভক্তিং লভতে পরাম্‌।।
এই সকল কথা শুনিয়া প্রতিবাদী বলিতে পারেন ব্রহ্মের প্রতিষ্ঠা স্বরূপ শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব বা কৃষ্ণাভিন্ন গৌরতত্ত্ব না হয় মানিলাম। কিন্তু ঐ তত্ত্ব যে ইতিহাসে ব্যক্ত হইয়াছিল মানব সমাজের মধ্যে তাহা স্বীকার করিব কোন্‌ প্রমাণে? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়াছেন গীতা। ইহা গীতার নিজস্ব দান। তিনি যে মানুষের মধ্যে মানুষী তনু ধারণ করিয়া আসেন তাহা জানিব তাঁহার শ্রীমুখোক্ত বাক্য প্রমাণে। বাক্যটি উক্তি করিলেন কখন কোন্‌ প্রসঙ্গে এবং তাহার গূঢ় তাৎপর্য কী তাহাই এখন অনুশীলন করিব। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অধ্যায়ে সাংখ্যযোগ ও কর্মযোগ কীর্তন করিয়া শ্রীভগবান্‌ কহিতেছেন, “অর্জুন, এই অব্যয় যোগ যাহা তোমাকে বলিলাম তাহা আমি বিবস্বান্‌কে বলিয়াছিলাম। তিনি মনুকে বলিয়াছিলেন। মনু ইক্ষ্বাকুকে বলিয়াছিলেন। রাজর্ষি-পরম্পরা এই সব তত্ত্বকথা চলিয়া আসিতেছিল। কালবশে মানুষ ইহা ভুলিয়া গিয়াছে বলিয়াই আবার সেই পুরাতন সত্য তোমাকে বলিতেছি।” 
কথা শুনিয়া অর্জুন বলিলেন, “ওহে, এ কী কথা বলিলে? তোমার জন্ম হইল সেদিন আর বিবস্বানের জন্ম হইল কতকাল পূর্বে, তাহাকে তুমি আদিতে এই সব কথা বলিয়াছিলে ইহা আমি কিরূপে জানিব বা মানিয়া লইব?” শ্রীভগবান্‌ বলিলেন, “অর্জুন, তোমার আমার বহু জন্ম হইয়া গিয়াছে, আমি সে সবই জানি, কিন্তু তোমার কিছুই মনে নাই!” 
শ্রীভগবানের কথাটি শুনিয়া মনে হইবে তিনি বুঝিবা জন্মান্তরবাদের কথা বলিতে আরম্ভ করিয়াছেন। অর্জুনেরও বহু জন্ম হইয়াছে—একথা জন্মান্তরবাদেরই কথা। কিন্তু পাছে অর্জুনের বহু জন্ম ও নিজের জন্ম এক পর্যায়ে পড়িয়া যায় তাই নিজের বৈশিষ্ট্য কহিয়াছেন।
‘শ্রীমহানামব্রত প্রবন্ধাবলী’ (১ম খণ্ড) থেকে

3rd     July,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ