বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

ধ্যান

ধারণার পরিপক্ক অবস্থাই ধ্যান। ‘‘যে বস্তুতে মনকে আবদ্ধ করা হয়, সেই বস্তুবিষয়ক জ্ঞান নিরন্তর এক ভাবে প্রবাহিত হইতে থাকিলে উহাকে ধ্যান বলে। মনকে কোন বস্তু-বিশেষে ধারণ করিয়া তদ্‌঩বিষয়ক কতকগুলি বিশেষ বৃত্তি উৎপাদনের চেষ্টা করিলে অন্যান্য বহু বৃত্তি মনে উপস্থিত হয়। এই শেষোক্ত বৃত্তিগুলিকে অধ্যবসায়সহকারে দমন করিতে পারিলে উহারা নষ্ট হয় এবং প্রথমোক্ত বৃত্তিগুলি প্রাধান্য লাভ করে। শেষে বহু বৃত্তিও নষ্ট হইয়া একটি বৃত্তিমাত্রে পর্যবসতি হইলে ধ্যান সিদ্ধ হয়। স্বামী বিবেকানন্দ বলিয়াছেন, ‘‘যদি মনকে কোন স্থানে বার সেকেন্ড ধারণ করা যায়, তাহাতে একটি ধারণা হইবে; এই ধারণা দ্বাদশগুণিত হইলে একটি ধ্যান এবং এই ধ্যান দ্বাদশ গুণ হইলে এক সমাধি হইবে।’’ ধ্যানই পরিপক্ক হইলেই সমাধি হয়। এই জন্য ধ্যান যোগীর সর্বোচ্চ লক্ষ্য সমাধিলাভের প্রধান উপায়। মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য বলিয়াছেন, ‘‘ধ্যানই জীবগণের বন্ধন ও মুক্তির কারণ।’’ ধ্যান না করিলে জীব বদ্ধ থাকে এবং ধ্যান করিলে মুক্ত হয়। যিনি যে ধর্মমতে বিশ্বাস বা যে ধর্মপথেই সাধন করুন না কেন, সাক্ষাৎ বা পরোক্ষ ভাবে ধ্যানের আশ্রয় গ্রহণ সকলের পক্ষেই বিশেষ আবশ্যক। হিন্দুর সকল ধর্মসম্প্রদায়েই ধ্যানযোগ সর্বশ্রেষ্ঠ সাধনরূপে পরিগণিত। ধ্যান প্রধানতঃ স্থূলধ্যান জ্যোতির্ধ্যান ও সূক্ষ্মধ্যান ভেদে ত্রিবিধ। হঠযোগিগণ সাকার ইষ্টদেবদেবী ও গুরুর ধ্যানকে স্থূলধ্যান ও জ্যোর্তিময় ব্রহ্মের ধ্যানকে জ্যোতির্ধ্যান এবং বিন্দুময়ী কুণ্ডলিনী শক্তির ধ্যানকে সূক্ষ্মধ্যান বলেন। এই তিনটি পর্যায়ক্রমে অধম মধ্যম এবং উত্তম। কিন্তু স্থূলধ্যানে পরিপক্কতা না জন্মিলে সূক্ষ্মধ্যানে অধিকার হয় না। রাজযোগ মতে আত্মস্বরূপের ধ্যানই সূক্ষ্মধ্যান। এতদ্ভিন্ন সগুণধ্যান ও নির্গুণধ্যান নামক দুই প্রকার ধ্যান আছে। হৃদয়পদ্মে ইষ্টদেবদেবী অবতার ও গুরুর ধ্যানকে সগুণধ্যান এবং আপনাকে সচ্চিদানন্দস্বরূপ ব্রহ্ম বা আত্মরূপে চিন্তা করাই নির্গুণধ্যান। সগুণধ্যান অপেক্ষা নিগুর্ণধ্যান শ্রেষ্ঠ। শূন্যধ্যানই নির্গুণধ্যান। ইহা অতি উচ্চাঙ্গের ধ্যান বলিয়া স্বীকৃত। ইহা বৌদ্ধমতের শূন্য নহে। যোগশাস্ত্রে আছে, ‘‘যে যোগী অবস্থানকালে গমনকালে শয়নকালে ও ভোজনকালে অহর্নিশি শূন্যধ্যান করেন তিনি আকাশময় হইয়া চিদাকাশে লয় প্রাপ্ত হন।’’ এই ধ্যান অত্যন্ত কঠিন। ইহাতে সর্বশূন্যরূপ নির্বিষয়ের ধ্যান করিতে হয় বলিয়া মনকে একেবারে বিষয় বা বৃত্তিশূন্য করা আবশ্যক। এতদ্ভিন্ন যোগশাস্ত্রে বহুবিধ ধ্যানের প্রণালী বর্ণিত আছে।
সমাধি
ধ্যান গভীর হইলে যখন ধ্যানজ্ঞান পর্যন্ত থাকে না এবং চিত্ত ধ্যেয় বস্তুতে লীন হইয়া ধ্যেয়াকার প্রাপ্ত হয়, তখন সমাধি লাভ হইয়া থাকে। মহর্ষি পতঞ্জলি বলেন, ‘‘ধ্যান যখন কেবল-মাত্র ধ্যেয় বস্তুকেই প্রকাশ করে, তখন উহাকে সমাধি বলে।’’ 
স্বামী সুন্দরানন্দের ‘যোগচতুষ্টয়’ থেকে

30th     June,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ