বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

ঐশ্বর্য

অর্জুন ভগবানের বিশ্বরূপ দর্শন করে বলছেন, হে ভগবান, আমি তোমাকে তাচ্ছিল্য করেছি সখা বলে—‘সখেতি মত্বা প্রসভং যদুক্তং হে কৃষ্ণ! হে যাদব! হে সখেতি।’—তোমাকে বলেছিলাম তুমি যদুবংশসম্ভূত, তুমি সখা, তুমি আমার বন্ধু। যখন বলেছিলাম তখন তোমার ঐশ্বর্য বুঝিনি। ‘অজানতা মহিমানং তবেদং ময়া প্রমাদাৎ প্রণয়েন বাপি।।’—তোমার এই মহিমাকে আমি জানতাম না। তাই তোমার প্রতি যে অবজ্ঞা প্রদর্শন হয়েছে তার জন্য আমাকে ক্ষমা কর। ভগবান ক্ষমা করতেই এসেছেন। তিনি চেয়েছেন ভক্তেরা তাঁকে বন্ধুভাবে একাত্ম করে দেখুক, সন্তানভাবে লালনপালন করুক, কান্তভাবে ভালবেসে তাঁকে অবলম্বন করুক। সকলকেই যার যার ভাব অনুসারে তার কাছে সেভাবে ধরা দেবার জন্যই তিনি অবতীর্ণ হন। কিন্তু যখন তিনি ধরা দেন তখনও তাঁর ভিতরে একটি বৈশিষ্ট্য থাকে, যে বৈশিষ্ট্য তিনি ধীরে ধীরে প্রকাশ করেন, সহসা করলে তারা ধরতে পারবে না। কাজেই গোপীরা যখন শ্রীকৃষ্ণকে তাঁদের প্রিয় বন্ধু বা কান্ত বলে ভাবছেন তার মানে এই নয় যে, তাঁরা তাঁর ঐশ্বর্যকে জানতেন না। ঐশ্বর্যকে তাঁরা দূরে সরিয়ে আপনার প্রিয়জন রূপে চান। রাসলীলাকালে ভগবান অদৃশ্য হলে গোপীরা তাঁকে খুঁজে বেড়াবার সময় যখন তাঁর স্তুতি করছেন, বলছেন—‘ন খলু গোপিকানন্দন ভবান্‌ অখিল দেহীনামন্তরাত্মদৃক্‌’—তুমি কেবল গোপিকাদের আনন্দদায়ক শ্রীকৃষ্ণ নও, তুমি সকলের অন্তরে অন্তর্যামীরূপে অবস্থান করছ। তুমি আমাদের ভিতরে থেকেও কি দেখতে পাচ্ছ না, তোমার বিরহে আমাদের অন্তরে কি দারুণ বেদনা? গোপীরা তাঁর সর্বব্যাপিতা ইচ্ছা করে ভুলে গিয়েছেন, কারণ সর্বব্যাপী শ্রীকৃষ্ণকে তাঁরা চান না, তাঁরা চান তাঁদের কান্তকে, যাঁকে তাঁরা সেবা করতে পারবেন, প্রিয়জন বলে আলিঙ্গন করতে পারবেন। যশোদার মতো তাঁকে লালন পালন তাড়ন ভর্ৎসনা করতে, বিপদ থেকে তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করতে পারবেন। এমনি করে তিনি ভক্তের কাছে ধরা দিতে আসেন। তিনি ঐশ্বর্য দেখালেও ভক্ত তাতে ভোলেন না। ভাগবতে আছে, শ্রীকৃষ্ণ যখন কংসের চর অসুরদের দমন করছেন, তখন যশোদা দৈব উৎপাত মনে করে শ্রীকৃষ্ণের গায়ে গরুর ল্যাজ বুলিয়ে দিচ্ছেন। গোয়ালার ঘরে জন্ম, তাই বিশ্বাস করেন গরুর ল্যাজ বুলিয়ে দিলেই আর কোনো অমঙ্গল হবে না। ভগবান তাঁর সন্তান, তাঁকে রক্ষা করতে হবে। এইরকম ভাব নিয়ে তবে ভগবানের সেবা সম্ভব হয়। ভক্ত তাঁকে আপনার বলে মনে করে, তাঁকে তাদেরই একজন ভাবে। ভাগবতে একটি দৃষ্টান্ত আছে—চাঁদ জলে প্রতিবিম্বিত হয়। সেই প্রতিবিম্ব চাঁদের সঙ্গে মাছেরা খেলা করে। মনে করে তাদেরই মতো একটি মাছ। ঠিক সেইরকম ভগবান যখন দেহধারণ করে আমাদের মধ্যে আসেন, তখন আমরা আমাদেরই মতো মনে করে তাঁকে নিয়ে খেলা করি। কিন্তু এই খেলার একটি বৈশিষ্ট্য আছে। ধীরে ধীরে তিনি আমাদের উন্নত করেন। আমাদের হৃদয়কে শুদ্ধ করেন, নির্মল, উদার করে দেন। ক্রমশঃ তাঁর ঐশ্বর্য আমাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে আসে, ঐশ্বর্য বলে আর মনে হয় না। তাঁকে আমাদেরই মতো সাধারণ মানুষ বলে ভাবি, সাধারণ মানুষ হয়েও তিনি তাঁর অসাধারণত্বকে ধীরে ধীরে তাদের সামনে উন্মোচিত করেন।
স্বামী ভূতেশানন্দের ‘শ্রীরামকৃষ্ণ ও যুগধর্ম’ থেকে

26th     June,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ