বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

শ্রীকৃষ্ণ

গুরু শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব-বিশেষ। গুরুদেব স্বরূপতঃ শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়তম ভক্ত হইলেও শিষ্য তাঁহাকে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব বলিয়াই মনে করিবেন। সাধারণ জীব বলিয়া মনে করা তো দূরের কথা, শ্রীগুরুদেবকে শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়তম ভক্ত বলিয়া মনে করিলেও শিষ্যের পক্ষে প্রত্যবায়ের সম্ভাবনা আছে, কারণ তাহাতে গুরুদেবে মনুষ্য বুদ্ধি জন্মিবার আশঙ্কা থাকে, গুরুদেবে মনুষ্যবুদ্ধি অপরাধজনক। অন্যের পক্ষে যাহাই হউক, শিষ্যের পক্ষে শ্রীগুরুদেব শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব-বিশেষই, কারণ তিনি ভগবানের অনুগ্রহাশক্তির সহিত ও গুরুশক্তির সহিত তাদাত্ম্যপ্রাপ্ত। একমাত্র শ্রীগুরুদেবের যোগেই শ্রীভগবানের গুরুশক্তি শিষ্যের মঙ্গলের নিমিত্ত আবির্ভাব হইয়া শিষ্যকে কৃতার্থ করিয়া থাকেন। শ্রীকৃষ্ণই গুরুশক্তির মূল আশ্রয় ও তিনিই সমষ্টিগুরু, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ সাক্ষাদ্‌ভাবে কাহাকেও দীক্ষাদি দেন না—তাঁহার প্রিয়তম ভক্ত বিশেষকে ঐ গুরুশক্তি অর্পণ করিয়া তাঁহা দ্বারাই ভজনার্থীকে কৃপা করেন। তাই বলা হইয়াছে—“গুরুরূপে কৃষ্ণ কৃপা করেন ভক্তগণে।” শ্রীগুরুদেবের যোগে শ্রীকৃষ্ণের গুরুশক্তি আবির্ভূতা হয় বলিয়া শিষ্যের পক্ষে শ্রীগুরুদেব শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব বিশেষই। অন্য ভক্তের যোগে শ্রীকৃষ্ণের অনুগ্রহা-শক্তি আবির্ভূতা হইয়া ভজনার্থীকে কৃতার্থ করিতে পারেন সত্য, কিন্তু গুরুশক্তির কৃপা না হইলে মায়াবদ্ধ জীবের পক্ষে অন্য ভক্তের কৃপা সম্যকরূপে কার্যকরী হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। শ্রীগুরুদেবের যোগে অনুগ্রহা-শক্তি ও গুরুশক্তি উভয়ই শিষ্যের সম্বন্ধে আবির্ভূত হয়েন। ইহাই অন্য ভক্ত অপেক্ষা শ্রীগুরুদেবের বৈশিষ্ট্য। বাস্তবিক, শিষ্যের পক্ষে শ্রীগুরুদেব ভগবানের অমূর্ত করুণার মূর্তবিগ্রহ-শ্রীকৃষ্ণাশ্রিতা অমূর্ত-গুরুশক্তির মূর্তবিগ্রহ, গুরুশক্তির আবির্ভাবমূর্ত্তি—সুতরাং শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাববিশেষ। যে বস্তুটির আশ্রয় শ্রীভগবান, কিন্তু তিনি মূল আশ্রয় বা মূল অধিকারী হইয়াও সাধারণতঃ সাক্ষাৎভাবে যাহা কাহাকেও দান করেন না, তাঁহার প্রিয়তম ভক্তের দ্বারাই যাহা দান করান, একমাত্র শ্রীগুরুদেবের নিকট হইতেই জীব সেই বস্তুটি পাইতে পারে। সুতরাং শিষ্যের নিকট শ্রীগুরুদেব শ্রীকৃষ্ণতুল্যই। শ্রীভগবান ভক্ত পরাধীন বলিয়া এবং শ্রীভগবৎকৃপা গুরুকৃপার অপেক্ষা রাখে বলিয়াই গুরুশক্তির যোগে দেয় বস্তুটি তিনি তাঁহার প্রিয়তম ভক্তের যোগে জীবকে দিয়া থাকেন। বলা হইয়াছে, শ্রীকৃষ্ণেরই শক্তিবিশেষ শ্রীগুরুদেবের চিত্তে আবির্ভূত হইয়া শিষ্যকে কৃপা করেন। সুতরাং যাঁহার চিত্ত শ্রীকৃষ্ণ শক্তির আবির্ভাবের যোগ্য, অর্থাৎ যাঁহার চিত্ত শুদ্ধসত্ত্বের সহিত তাদাত্ম্য প্রাপ্ত হইয়াছে, তাদৃশ কোনও ভক্তই দীক্ষাগুরু হওয়ার যোগ্য। তাঁহার শুদ্ধসত্ত্বোজ্জ্বল চিত্তেই ভগবদাবির্ভাব সম্ভব হইতে পারে এবং ভগবদাবির্ভাব হইলেই তাঁহার পক্ষে ভগবানের অনুভূতি লাভ হইতে পারে। শ্রুতি এবং শ্রীমদ্ভাগবত, ভগবদনুভূতিই গুরুর প্রধান লক্ষণ রূপে নির্দেশ করিয়াছেন, অবশ্য শিষ্যের সন্দেহ নিরসন করিবার জন্য শাস্ত্রজ্ঞানও তাঁহার থাকা দরকার। তিনি শ্রোত্রীয় (শাস্ত্রজ্ঞ) এবং ব্রহ্মনিষ্ঠ হইবেন। শাস্ত্রজ্ঞ না হইলে বরং চলিতে পারে, কিন্তু ভগবদনুভূতিসম্পন্ন না হইলে কিছুতেই চলে না। তাই চৈতন্য চরিতামৃত বলেন—“যেঁই কৃষ্ণ তত্ত্ববেত্তা সেই গুরু হয়।” বস্তুতঃ যাঁহার নিজের অনুভব নাই তিনি কিরূপে অপরের অনুভব জন্মাইবেন? কেবল মন্ত্রটি জানিবার নিমিত্তই গুরুর প্রয়োজন নয়, মন্ত্র গ্রন্থেও পাওয়া যায়। অনুগ্রহশক্তির এবং গুরুশক্তির কৃপার নিমিত্তই গুরুর প্রয়োজন। যাঁহার চিত্ত শ্রীকৃষ্ণের এই দুইটি শক্তির সহিত তাদাত্ম্যপ্রাপ্ত হয় নাই—তাঁহার নিকট হইতে দীক্ষা গ্রহণ করিলেও ভজনবিষয়ে সাধকের বিশেষ কিছু আনুকূল্যের সম্ভাবনা থাকে না।
ভক্তি বেদান্ত প্রভুপাদের ‘মহৎ কৃপা’ থেকে 

25th     June,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ