বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

ভারত

আমাদের এই মহান্‌ ও পবিত্র দেশের নাম ভারত। শুধু তাই নয় ভগবান্‌ শ্রীকৃষ্ণও অর্জুনকে ভারত সম্বোধন করেছেন এবং এক বিশেষ শাস্ত্রগ্রন্থের নামও মহাভারত। সাধারণত দেখা যায় কোনও দেশের নামে মানুষের নাম হয় না। ইংল্যান্ড কোন মানুষের নাম হয় না, তেমনি চীন, জাপান, রাশিয়া, আমেরিকা ইত্যাদি কোন মানুষের নাম দেখা যায় না। কিন্তু গীতায় ‘ভারত’ এই নামটি অর্জুনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে। আবার যুগ যুগ ধরে এই দেশের নামও ভারত চলে আসছে। অতএব ভারত শব্দটির একটা বিশেষ তাৎপর্য্য আছে। একটা বিরাট আধ্যাত্মিক গূঢ় রহস্য এই নামটির পেছনে লুকিয়ে আছে। আমাদের দেশ ঋষিসেবিত। বহু ত্রিকালজ্ঞ ঋষি আবির্ভূত হয়ে এই ভূমিকে পবিত্র করেছেন, মহাভারত সহ সনাতন ধর্মের বহু শাস্ত্র রচনা করেছেন এবং ব্রহ্মজ্ঞানের বন্যা বইয়ে দিয়ে গেছেন। তাঁরা কখনও মানুষের বর্ত্তমান জন্মটাকে নিয়ে বিচার করেন নি, অতীতের বহু জন্ম, বর্ত্তমান জন্ম এবং আগামী বহু জন্ম, এইভাবে বহু জন্মের  দিকে লক্ষ্য রেখে মানুষের কল্যাণ করার চেষ্টা করেছেন। পাশ্চাত্য দেশের মনীষীগণ মানুষের কেবল বর্ত্তমান জন্মের উন্নতির দিকে লক্ষ্য রেখেই সবকিছু ব্যবস্থা করেছেন। ফলে পার্থিব জীবনের সুখের আলো এবং ঐশ্বর্য্যের দিকে মানুষকে আকৃষ্ট করেছেন। তাই আজ পাশ্চাত্য দেশগুলি অতুল ঐশ্বর্য্যের অধিকারী। কিন্তু ভারতীয় ঋষিগণ কখনই মানুষকে অতুল ঐশ্বর্য্যের দিকে আকৃষ্ট করেননি। তাঁরা জানতেন যতদিন মানুষ জন্মমৃত্যুর আবর্ত্তে থাকবে ততদিন সুখদুঃখ ইত্যাদি অবশ্যই থাকবে। তাই কি উপায়ে মানুষকে জন্মমৃত্যুর অতীতে নিয়ে যাওয়া যায় তাঁরা তার ব্যবস্থা করেছেন। ঋষিরা অনন্ত জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন; তাঁরা জানতেন মানুষকে যদি অতুল ঐশ্বর্য্যের দিকে ঠেলে দেওয়া যায় তাহলে কখনই মানুষ সুখ দুঃখ হাসি কান্নার অতীতে যেতে পারবে না। তাই তাঁরা সকল শাস্ত্রের মধ্য দিয়ে কি উপায়ে আত্মজ্ঞান লাভ করা যায় তার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁরা সবসময়ই বলেছেন আত্মজ্ঞান বা ব্রহ্মজ্ঞানই শ্রেষ্ঠ জ্ঞান। যুগ যুগ ধরে ভারতীয় ঋষিদের চেষ্টা বিফল হয়নি। তাই ভারতের আকাশ বাতাস জল এবং ধূলিকণা সবই আত্মজ্ঞানের চেতনায় ভরপুর। মানুষের রক্ত এবং ধমনীর মধ্যে তাঁরা এই আত্মজ্ঞানের চেতনাকে প্রসারিত করেছেন। তাই ভারতের মানুষ স্থূল ঐশ্বর্য্যে দরিদ্র হলেও আত্মসাধনায় তন্ময়, প্রতিটি ঘরে ঘরে নিত্যপূজা থেকে শুরু করে সমাধিস্থ হবার অপেক্ষায়। ঋষিরা অনন্ত জ্ঞানের অধিকারী হওয়ায় ভাষা সম্বন্ধে ও তাঁদের অনন্ত জ্ঞান ছিল। শাস্ত্রের মধ্য দিয়ে তাঁরা যেসব বাক্য বা শব্দ ব্যবহার করেছেন সেগুলিও অত্যন্ত গূঢ় অর্থবহ এবং অধ্যাত্মচেতনায় ভরপুর। এই আত্মচেতনার দিক থেকে যদি আমরা ভারত শব্দটির প্রকৃত অর্থ অনুসন্ধান করি তবেই এর সঠিক অর্থ জানা যাবে। ঐতিহাসিকেরা বলেন ভরত রাজার নামানুসারে এই দেশের নাম ভারত হয়েছে। এই ধরনের অর্থ কল্পনাপ্রসূত এবং আত্মচেতনাহীন। তাই এ ধরনের অর্থ গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ দেশ বা ক্ষেত্র এবং মানুষ উভয়ের প্রতিই যখন ভারত শব্দটি ঋষিরা ব্যবহার করেছেন তখন অবশ্যই এর পেছনে একটা আধ্যাত্মিক চেতনা লুকিয়ে আছে। এটা কোন ঐতিহাসিকের ব্যবহৃত শব্দ নয়, কারণ ঐতিহাসিকদের পক্ষে আত্মজ্ঞানের কথা বলা অসম্ভব। প্রথমে দেখা যাক ক্ষেত্র কাকে বলে। এ সম্বন্ধে গীতাতেই বলা আছে—‘ইদং শরীরং কৌন্তেয় ক্ষেত্রমিত্যভিধীয়তে।’ অর্থাৎ এই শরীরই ক্ষেত্র।  এর থেকে বোঝা গেল পৃথিবী পৃষ্ঠটাও যেমন ক্ষেত্র তেমনি শরীরটাও ক্ষেত্র। 
ডঃ অশোক কুমার চট্টোপাধ্যায়ের ‘যোগ প্রবন্ধে ভারতাত্মা’ থেকে

20th     May,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ