বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

সাধক

প্রত্যেক মরমিয়া সাধকের জীবন যদি আমরা পর্যালোচনা করি এইভাবে, তাহলে আমরা দেখতে পাব যে হঠাৎ তাঁদের জীবনে একটা সংকট ঘনিয়ে এসেছে। ওদের দেশের একজন মস্তবড়ো ধর্মযাজক লুথার। লুথারের জীবনী কার্লাইল তাঁর Hero and Hero-Worship গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সেখানেও দেখি জীবনের প্রথম দিকে লুথার একজন সাধারণ লোক ছিলেন, শিক্ষিত একটি যুবক মাত্র। তাঁর একটি অভিন্নহৃদয় বন্ধু ছিল। দুই বন্ধুতে মিলে একদিন বেড়াতে বেড়িয়েছেন, এমন সময় হঠাৎ আকাশে মেঘ ঘনিয়ে এল। বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি শুরু হ’ল। আকস্মিকভাবে তাঁর বন্ধুটি বজ্রাঘাতে নিহত হলেন। বন্ধুর প্রাণশূন্য দেহ তাঁর পাশেই লুটিয়ে পড়ল। অভিন্নহৃদয় বন্ধুকে চোখের সামনে এইভাবে পলকের মধ্যে মৃত অবস্থায় দেখে সেই মুহূর্তেই তাঁর মনে জিজ্ঞাসা জেগে উঠলঃ ‘Is this life?’ ‘এই কি জীবন?’ এইমাত্র যে ছিল আমার পাশে, হেসে হেসে কত কথা বলছিল, সেই প্রাণের বন্ধুটি আমার এক মুহূর্তের মধ্যে কোথায় চলে গেল?’ এই আকস্মিক বন্ধু বিচ্ছেদের তীব্র আঘাতে তাঁর সমস্ত জীবনের মোড় ঘুরে গেল। এই যে জীবনের মোড় ঘুরে যাওয়া একটি সংকটের ফলে, এইটি হল জীবনের সবচেয়ে শুভ মুহূর্ত। সেই শুভ মুহূর্তেই মানুষ জাগে, তার আগে সে শুধু ঘুমোয়।
আমরা পারিভাষিক কথায় শুনি, যেমন আগমশাস্ত্রে, তন্ত্রশাস্ত্রে বলা হয়েছে কুলকুণ্ডলিনীর জাগরণ। আমরা তা নিয়ে অদ্ভুত কল্পনা করি, দেহের মধ্যে কোথায় আছে কুলকুণ্ডলিনী, হয়তো সড়সড় করে মেরুদণ্ডের মধ্য দিয়ে উপর দিকে যায়; তাকে বলে কুলকুণ্ডলিনীর জাগরণ, হয়তো কোনো অদ্ভুত অনুভূতি হয়, ইত্যাদি। কিন্তু আসল জাগরণ মানে হচ্ছে অন্য। ঐ কুলকুণ্ডলিনীর মানে হচ্ছে সুপ্ত বা ঘুমন্ত চৈতন্যশক্তি। চাই সেই চৈতন্যের জাগরণ। সাধারণ সব মানুষই আমরা মৃতকল্প, আমাদের মধ্যে যেন প্রাণ নেই কারণ চৈতন্য সেখানে সুপ্ত। কিন্তু হঠাৎ এক ধাক্কায় মানুষ জেগে ওঠে, জীবনে এমনই কোনো সংকটলগ্ন যখন আসে। সেই সংকট লগ্নে যখন জেগে ওঠে মানুষ, তখন হঠাৎ তার জীবনের গতিবেগ ফিরে যায়, মোড় ঘুরে যায়।
আধুনিক কালেও শ্রীঅরবিন্দের জীবনে এর পরিচয় পাই আমরা। বন্দিদশায় আলিপুরের নির্জন কারাকক্ষে তিনি যেন উন্মাদপ্রায় হয়ে উঠলেন। আমরা অনেক সময় মনে করি একলা নির্জনে থাকতে পারলে খুব ভালো থাকব। কিন্তু তাঁর মতো চিন্তাশীল মানুষ, তাঁর মতো ধ্যানপ্রবণ মানুষও সেই একলা কুঠরির মধ্যে, solitary cell এ যখন আবদ্ধ হলেন, তখন তিনিও যেন পাগলের মতো হয়ে উঠলেন। দিনরাত তাঁর ভাবনা যে আমার জীবনে যা-কিছু লক্ষ্য ছিল, তার কিছুই পূর্ণ হবে না, এইভাবে জেলের মধ্যেই হয়তো চিরকাল আমাকে পচে মরতে হবে। শেষ পর্যন্ত এই হল আমার জীবনের পরিণাম! এইসব নানা ভাবনা-চিন্তায় তাঁর মতো মনীষী যখন উদগ্র চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে উঠলেন, সেই সংকট মুহূর্তে নির্জন অন্ধকার কারাকক্ষ আলোকিত করে দেখা দিলেন স্বয়ং বাসুদেব এবং এই শ্রীমদ্‌ভগবদ্‌গীতাই তিনি হাতে তুলে দিলেন শ্রীঅরবিন্দের।
গোবিন্দগোপাল মুখোপাধ্যায়ের ‘গীতার কথা’ থেকে 

21st     January,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ