বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

অহং

জীবনের সকল তিক্ততা সবসময়েই আসে যখন অহং পরিত্যাগ করা সম্ভব না হয়। আত্মা নয়, অহন্তার ঔদ্ধত্যই পরাজয় এবং অবমাননা অনুভব করে। হতাশা সবসময়ই তীব্র অহমিকার চিহ্ন। যখন তুমি বুঝবে যে হতাশা এগিয়ে আসছে, তখন নিজেকে বল: “আমি অহমিকা রোগগ্রস্ত হয়েছি আমাকে এর থেকে অবশ্যই মুক্ত হতে হবে।”
অন্যদের মধ্যে অহমিকা দেখলে নিজের অহমিকাই প্রচণ্ড আঘাত পায়।
যখন কেউ অন্তরের এই সুসমঞ্জস্‌ অবস্থায় থাকে এবং শরীরের প্রতি কোনও মনোযোগই থাকে না তখন শরীর নিখুঁত সুন্দরভাবে কাজ করে। এই আত্ম-মনোনিবেশই সব কিছুকে পরাভূত করে।…প্রকৃতপক্ষে কেউ একজন নিজেই নিজেকে অসুস্থ করে তোলে। এ হচ্ছে চেতনার সঙ্কীর্ণতা, বিভাজন। কিন্তু যদি তুমি একে কাজ করতে দাও, তাহলে যে এক চেতনা এবং ভাগবৎপ্রসাদ সর্বত্র বর্তমান, যা সবকিছুই সুসম্পন্ন করবার জন্য সকল প্রচেষ্টা করে চলেছে, এই দুর্ব্বলচিত্ততার ফলেই সব কিছু বিশৃঙ্খল হয়ে যায়—এ আশ্চর্য্যজনক! আত্মকেন্দ্রিক দুর্ব্বলচিত্ততা...
যাকে আমরা “আমরাই” বলে অভিহিত করি তা অহং ছাড়া আর কিছুই নয়। দিব্যই আমাদের সত্যকার সত্তা। তোমার অহং এবং তোমার প্রাকৃত চেতনাকে “তুমি” বলে মনে করো না।
আমি লিখেছিলাম যে এটা ভুল বা নির্ভুলের প্রশ্ন নয় কেননা একমাত্র ভগবানই জানতে পারেন কোনটা সত্যই ভুল বা কোনটা সত্যই নির্ভুল। এই পৃথিবীতে প্রত্যেক সত্তা বিশেষতঃ প্রতিটি অহংই সুনিশ্চিত যে সেই নির্ভুল এবং তার বাসনাগুলিকেই সে সত্য বলে ধরে নেয়। ...অহং তখনই অন্তর্হিত হবে যখন তুমি কোন ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য বা কোনও রকম লাভের আশা না রেখে পরম প্রভুর নিকট তোমাকে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করবার জন্য তৈরী হবে—যখন তুমি অন্যরকম কিছু করতে পার না বলেই এটা করবে। যখন প্রাণশক্তি সহযোগিতা করতে সম্মত হয় (যা ইতিমধ্যেই এক বৃহৎ পদক্ষেপ), যখন সে সিদ্ধান্ত নেয় যে সেও কাজে নামবে, তার সমস্ত প্রচেষ্টা ও তার সমস্ত উদ্যম নিয়োজিত করবে কাজটি সম্পন্ন করবার জন্য তখনও কিন্তু কোথাও তলে তলে লুক্কায়িত থাকে একপ্রকারের—কেমন করে তাকে ব্যাখ্যা করব—একটা প্রত্যাশা যে সবকিছুই ভালভাবে সম্পন্ন হবে এবং ফল অনুকূল হবে। কিন্তু তা পূর্ণ ঐকান্তিকতাকে আচ্ছন্ন করে দেয় কেননা এই প্রত্যাশা হচ্ছে অহমাত্মক, ব্যক্তিগত ব্যাপার এবং এর দ্বারা পূর্ণ ঐকান্তিকতা আচ্ছন্ন হয়। এমন কোন প্রচেষ্টা থাকতে পারে যা একেবারেই স্বার্থপর নয় অথচ অহমিকা প্রকাশক কেননা যে মুহূর্ত্তে এই প্রচেষ্টা ব্যক্তিগত ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় তখনই তা হয় অহমাত্মক—তার অর্থ যে অহং এর উপর এর ভিত্তি। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে তা উদার সহানুভূতিশীল, স্বার্থহীন নয় কিংবা এটা এও নয় যে তা কেবল সঙ্কীর্ণ ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য। এ সেইরকম নয়। এ একটা খুবই স্বার্থশূন্য কাজের জন্যেও হতে পারে। কিন্তু যতক্ষণ এর সঙ্গে একটি অহং জড়িত ততক্ষণ এ হয় অহংকারাচ্ছন্ন। যতক্ষণ কারুর নিজস্ব ব্যক্তিত্বের বোধ এর সঙ্গে আছে এটা স্বভাবতঃই অল্পবিস্তর অহমিকা প্রকাশক এবং অহংভিত্তির উপরই প্রতিষ্ঠিত।
শ্রীমায়ের ‘অহং’ থেকে

17th     January,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ