বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

শিক্ষা ও তার উদ্দেশ্য

স্বামী বিবেকানন্দ শিক্ষার মূলতত্ত্ব সম্বন্ধে বলেছেন, সমস্ত জ্ঞান ও সমস্ত শক্তি অন্তর্নিহিত রয়েছে, বাইরে নয়। যা’কে আমরা প্রকৃতি বলি, তা একখানি প্রতিচ্ছবির আরশি। আমরা যাকে শক্তি প্রকৃতির রহস্য এবং বল বলি, সমস্তই অন্তর্নিহিত। বহির্জগতে কতকগুলি ধারাবাহিক পরিবর্তন মাত্র। প্রকৃতিতে কোন জ্ঞান নেই, সমস্ত জ্ঞান মানুষের আত্মা থেকে আসে। মানুষ জ্ঞান প্রকাশ করে। তার অন্তরের শক্তিকে উদ্‌ঘাটিত করে—যা আগে থেকেই অনন্তকাল যাবৎ রয়েছে। মানুষের ভেতর অনন্তশক্তি, অনন্ত পবিত্রতা ও অনন্তগুণ বিদ্যমান। আপাতক্ষুদ্র সীমিত প্রত্যেক মানুষেরই রয়েছে বিরাট সম্ভাবনা। প্রভেদ কেবল প্রকাশের তারতম্যে। যখন মানুষ ‘শিক্ষা’ করে, সে প্রকৃত পক্ষে নিজের মধ্যে বিদ্যমান জ্ঞান-আকরের অল্প-অল্প আবিষ্কার করে মাত্র। ধারাবাহিকভাবে-এ আবিষ্করণ প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত হবার অনুপ্রেরণা শিক্ষার্থীর ভেতর সঞ্চারিত করাই শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।
ক্রমবিকাশ—স্থান-কাল-পাত্র-ভেদে সামান্য কিছু পরিবর্তিত হলেও শিক্ষার মূল তত্ত্বটি প্রায় অবিকৃতভাবে বৈদিকযুগ থেকে আজ অবধি প্রকট হয়ে আছে। এভাবে সকল শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমসূত্রে গেঁথে রেখে জাতির জীবন-জমিতে প্রাণরস সঞ্চার করে চলেছে এ তত্ত্ব। অন্যভাবে বলা চলে, শিক্ষা হচ্ছে একটি উপায়, যার সাহায্যে সমাজ তার ভাবধারা, ঐতিহ্য ও অর্জিত অভিজ্ঞতা পরবর্তী বংশধরগণকে অর্পণ করে। রক্ষণশীলতা একটি জৈবিক ধর্ম। রক্ষণশীল সমাজ তার নিজ সত্তা অক্ষত ও ঐতিহ্য অটুট রাখার জন্য এবং ভবিষ্যৎ সমাজকে অভীপ্সিত লক্ষ্যে পরিচালনার জন্য নবীনদের প্রয়োজন মত শিক্ষা দিয়ে প্রস্তুত করে। যুগযুগান্ত ধরে মানব জাতির অর্জিত অমূল্য সম্পদ বহন করে চলেছে শিক্ষানদী; আর শিক্ষানদী-বাহিত জাতির প্রাণশক্তি আহরণ করে মানুষ ব্যষ্টিজীবনে হয়েছে প্রতিষ্ঠিত, এনেছে অভ্যুদয়, পেয়েছে যোগ্যতার অধিকার, দিয়েছে মুক্তির সন্ধান। অপরদিকে সমষ্টি জীবনে লাভ করেছে পুষ্টি ও সমৃদ্ধি। ভারতবর্ষে শিক্ষানদী তার নিজস্ব ধারায় বয়ে চলেছে। তার অমৃতরসে পুষ্ট হয়ে মহাকাল যে সাফল্য নগরীর পত্তন করেছে, তার প্রধান সড়ক দিয়ে পরিক্রমা করলে দেখা যাবে ভারতীয় শিক্ষা সম্পদের প্রধান বৈশিষ্ট্য কি, বিশ্বের জ্ঞান সমুদ্রে ভারতীয় জ্ঞান গঙ্গার অবদান কতটুকু, এবং বিশ্ব দরবারে ভারত-ভারতীর স্থানই বা কোথায়? সুপ্রাচীন কালে ভারতের সমাজ ছিল চারবর্ণে বিভক্ত। ‘বৃ’ ধাতুর অর্থ বেছে নেওয়া, বরণ করা, যা বরণ করে নেওয়া হয় তাই বর্ণ। জীবিকা অর্জনের জন্য যে বৃত্তি বেছে নিত, তা দিয়ে বর্ণ নির্দ্ধারিত হত। সমাজের বিভিন্ন প্রয়োজন ও ব্যক্তির যোগ্যতা অনুযায়ী মানুষ তার বৃত্তি বেছে নিত। এভাবে সৃষ্টি হয় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র এই চার বর্ণ। ব্যক্তিগতক্ষেত্রে ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস-এই চার আশ্রমে বিভক্ত ছিল মানুষের জীবন। ব্রহ্মচর্য আশ্রম হল জীবন প্রস্তুতি বা শিক্ষার কাল, গার্হস্থ্য হল গৃহীরূপে সমাজের সেবা করার কাল। বাণ প্রস্থ, কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে সামাজিক বন্ধন শিথিল করে বিদায় নেবার প্রস্তুতি, সর্বশেষে সকল বন্ধন মুক্ত হয়ে মুক্তি লাভের জন্য প্রচেষ্টা হল সন্ন্যাস।
স্বামী লোকেশ্বরানন্দ সম্পাদিত ‘ভারত-সংস্কৃতির রূপরেখা’ থেকে

7th     November,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ