বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

বৈকালিক নিবেদন

একদিন অপরাহ্নে শ্রীশ্রীঠাকুরকে বৈকালিক নিবেদন করতে গিয়ে দেখা গেল ভাঁড়ার শূন্য। মঠের আর্থিক অবস্থা সেযুগে নুন আনতে পান্তা ফুরনোর মতো। কোষাগার সেদিন রিক্ত। সাধারণত প্রতিদিন বেলা ঠিক চারটায় বৈকালিক নিবেদন করা হতো। এই তথ্য যখন গোচরে এলো তখন ঘড়িতে বিকাল তিনটা। বিষয়টা শশী মহারাজকে জানানো হলে বিস্মিত উদ্বেগে তাঁর মন আচ্ছন্ন হয়ে গেল। তিনি কিন্তু বিষয়টিকে অন্য দৃষ্টিতে গ্রহণ করলেন। তাঁর ধারণা হলো এ দিয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে পরখ করে নিতে চান। একজন যথার্থ সন্ন্যাসীর মতো এই বিশ্বাসে তিনি চিরস্থির ছিলেন যে, এ-জগতে কিছুই ঘটতে পারে না ঈশ্বরেচ্ছা ছাড়া—“তৃণখণ্ড পর্যন্ত স্বাধীনভাবে নড়তে পারে না যদি তা ঈশ্বর নামঞ্জুর করেন।” সুতরাং এ ধরণের একটি উদ্বেগজনক ঘটনা আকস্মিকভাবে যদি ঘটেও যায় সেটি কোনভাবেই তাঁর অগোচরে থাকতে পারে না। শশী মহারাজ প্রায়ই শ্রীরামকৃষ্ণের একটি বাণী উদ্ধৃত করে বলতেন, মানুষ আর কী—তাঁর দাবার ছকের ঘুঁটি বই তো নয়। তাই সেদিন যে ভাঁড়ার ছিল রিক্ত তা আগেভাগে নজর না দেবার জন্য তিনি আমাদের বা অন্য কারোর উপর রুষ্ট হলেন না। তাঁর ক্রোধ ও ক্ষোভের স্রোতধারা সেদিন একান্তভাবেই ছিল শ্রীরামকৃষ্ণমুখী। তীব্র গর্জনে তিনি বলে উঠেছিলেন, “পরীক্ষা হচ্ছে? আমি এখানে বালি খেয়ে স্বামীজীর কাজ করে যাব! আরে, আমি জানি, তুমি আমায় বাজিয়ে নিচ্ছ। তবে তোমারও জেনে রাখা উচিত আমার ধনুর্ভঙ্গ পণ। আমি মৃত্যুবরণ করতে বা তিলে তিলে আত্মোৎসর্গ করতেও প্রস্তুত। কিন্তু এখান থেকে একচুলও নড়ছি না। তুমি যদি চাও চরম দুঃখ-বিপদ নেমে আসুক আমার জীবনে।” গভীর দুঃখে ও আবেগে তাঁর আরক্তিম মুখমণ্ডল উদ্দীপ্ত হয়ে উঠল। দুঃখ, নির্দিষ্ট সময়ে প্রাণেশ্বরকে কিছু নিবেদন করতে পারার ব্যর্থতায়; আর সর্বদেবতাময় শ্রীরামকৃষ্ণের সর্বজ্ঞতা ও সর্বশক্তিমত্তায় অবিচলিত আস্থা আবেগের মূলে। এই বেদনাবোধ ও হৃদয়োচ্ছ্বাস কিছুক্ষণ লাগল স্তিমিত হতে এবং তিনি তখন হলঘরের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত পর্যন্ত পাদচারণা করছিলেন। ঐ আধঘণ্টা সময় ছিল চরম উৎকণ্ঠার। আমরা ছোটরা তখন বিস্ময়ে হতবাক; সেই মন্দ্রগম্ভীর পরিবেশকে হালকা করার জন্য কী করতে হবে ভেবে পাচ্ছিলাম না। ঠিক সেই সময়েই বাইরের দরজায় শোনা গেল মৃদু করাঘাত। আমাদের কেউ বাইরে গিয়ে সম্মুখের দরজা খুলে দিল। সমাগত ব্যক্তি শ্রীকোন্ডিয়া চেট্টি, শশী মহারাজের প্রাক্তন ছাত্র। তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়ে ভেতরে নিয়ে আসা হলো। দেখা গেল, তিনি হাতে করে এনেছেন কিছু ময়দা, ঘি, মিছরি ও শুকনো ফল। তিনি শশী মহারাজের সামনে সেগুলি রাখলেন এবং সঙ্গে পাঁচ টাকার ধাতুমুদ্রাও। সেই চরম মানসিক উদ্বেগ-আকুলতার মুহূর্তে এই উপহার এমন অপ্রত্যাশিত ছিল যে সমগ্র ঘটনা শ্রীরামকৃষ্ণেরই পরিকল্পিত বলে আমাদের স্পষ্ট ধারণা হলো। তখন বেলা সাড়ে তিনটা। বৈকালিক নিবেদনের পূর্বে আধঘণ্টা সময় এখনো হাতে। শিশুসুলভ আনন্দ ও উল্লাসে ফেটে পড়লেন শশী মহারাজ।
‘স্বামী রামকৃষ্ণানন্দের স্মৃতিমালা, তাঁর পত্র ও রচনাসংগ্রহ’ থেকে

1st     November,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021