বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

দুর্গে দেবী নমোহস্তু তে

আশ্বিনমাসের প্রায় শেষ। সেই সময়ে এক শাক্ত ব্রাহ্মণ শারদীয়া দুর্গা পূজার মহাষ্টমী তিথিতে নিজ কার্য ব্যপদেশে বরাহনগরের শ্রীল ভাগবতাচার্যের পাঠবাড়ী আশ্রমের সন্নিকট দিয়া যাইতে যাইতে উক্ত আশ্রমে নানাপ্রকার বাদ্যবাজনা হইতেছে শুনিয়া ভাবিলেন—‘‘আজ মহাষ্টমী।—মহাশক্তি মহামায়ার মহাপূজার মহা তিথি। পাঠবাড়ীতে বৈষ্ণবগণের মহোৎসবের কি তিথি আজ পড়িয়াছে। আশ্রমে গিয়া দেখি ব্যাপার কি?’’ ব্রাহ্মণ আশ্রমে প্রবেশ করিয়া যাহা দেখিলেন তাহাতে তাঁহার বিস্ময় ও কৌতূহলের সীমা থাকিল না। একটি প্রশস্ত ঘরে শ্রীশ্রীভগবতী দুর্গাদেবীর চিত্রপটের সম্মুখে ঘট স্থাপন করিয়া বিবিধ দ্রব্য সম্ভারের দ্বারা মায়ের অর্চনা হইয়াছে। দ্বাদশাঙ্গে তিলক ও কণ্ঠে তুলসী মালায় শোভিত ব্রহ্মচারী, গৃহী ও বাবাজী বৈষ্ণববৃন্দ মায়ের সম্মুখে পুষ্পাঞ্জলী দিতেছেন। খোল করতাল সংযোগে হরিনাম সংকীর্তন চলিতেছে। একজন তেজঃপুঞ্জ বিশিষ্ট মনোহর মূর্তি মুণ্ডিতমস্তক বাবাজীকে দেখিয়া ব্রাহ্মণ আরও আশ্চর্যান্বিত হইলেন। পুষ্পাঞ্জলী হস্তে মন্ত্র পাঠ করিতে করিতে বাবাজীর সর্ব শরীর কম্পিত ও পুলকিত এবং নয়নে অশ্রু প্রবাহিত হইতেছে। পুষ্পাঞ্জলীর মন্ত্র—ভাগবতের প্রসিদ্ধ শ্লোক যাহা পাঠ করিয়া ব্রজগোপীরা শ্রীকৃষ্ণকে পতি রূপে পাইবার কামনায় ভদ্রকালী শ্রীশ্রীকাত্যায়নীর পূজা করিয়াছিলেন—‘‘কাত্যায়নি মহামায়ে মহাযোগিন্যধীশ্বরী। নন্দগোপসুতং দেবি পতিং মে কুরুতে নমঃ।।’’ একজন সেবককে জিজ্ঞাসা করিয়া ব্রাহ্মণ জানিলেন যে বাবাজীর নাম শ্রীল রামদাস বাবাজী। পূর্বে নামটি শোনা ছিল বটে কিন্তু কখনও চাক্ষুষ দর্শন হয় নাই। ব্রাহ্মণ স্বধর্মনিষ্ঠ শক্তিসেবক। কুলগুরুর নিকট হইতে দীক্ষা গ্রহণ করিয়া তিনি নিজগৃহে ও যজমানের শক্তি দেবতার পূজা করিয়া আসিতেছেন। এতদিন তাঁহার ধারণা ছিল যে বৈষ্ণবেরা বর্ণাশ্রম বিরোধী এবং শক্তিপূজা করা তো দূরের কথা তাহারা শক্তি দেবতার বিশেষতঃ দুর্গা কালী প্রভৃতি দেবীর বিদ্বেষী ও নিন্দুক। কিন্তু সেদিন বৈষ্ণবমঠে দুর্গাপূজার অনুষ্ঠান, বৈষ্ণবগণের ভক্তিসহ পুষ্পাঞ্জলি দান বিশেষতঃ বাবাজীর অশ্রু পুলক কম্পাদি দর্শনে ব্রাহ্মণ স্তম্ভিত হইয়া কিছুক্ষণ নিস্তব্ধভাবে সেখানে বসিয়া রহিলেন। পুষ্পাঞ্জলিদানের পর বৈষ্ণববৃন্দসহ বাবাজী জগন্মাতাকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করিয়া নির্মাল্য গ্রহণ করতঃ যে যার ভজনকুটীরে যাওয়ার পূর্বে নবাগত ব্রাহ্মণ অতিথির নিকট আসিয়া তাঁহাকে স্বাগত জানাইলে, এবং সকলেই ব্রাহ্মণকে প্রণাম করিলেন। ব্রাহ্মণকে যথোচিত মর্যাদাদান করিয়া মায়ের প্রসাদ দিবার জন্য বাবাজী এক সেবককে ইঙ্গিত করিয়া তাঁহারা ভজনগৃহে প্রবেশ করিলেন। ব্রাহ্মণ এতক্ষণ নীরবে বসিয়া সকলের আচরণ দেখিতেছিলেন। বাবাজীর ভজন গৃহের প্রবেশদ্বারের ঊর্ধ্বে দশভুজা দুর্গার একটি চিত্রপটও ব্রাহ্মণের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছিল। ব্রাহ্মণ ভাবিতেছিলেন ‘‘আমরা শাক্ত সকামভাবে কত শক্তিদেবীর পূজা করি। কোনও দিনই মায়ের পূজা করার সময় একবিন্দুও অশ্রু চক্ষুতে আসে নাই। যাঁহাদিগকে শক্তিবিদ্বেষী বলিয়া এতদিন ধারণা ছিল আজ তাঁহাদের যেরূপ মাতৃভক্তি আর্তি দৈন্য বিনয় দেখিলাম তাহার শতাংশের একাংশও আমাদের থাকিলে ধন্য হইতাম।’’

পণ্ডিত জ্যোতির্ময় নন্দের ‘জ্যোতির্ময় রচনাঞ্জলি’ থেকে

12th     October,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021