বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

অহঙ্কার

বিদ্যার অহঙ্কার, জ্ঞানের অহঙ্কার আর অর্থের অহঙ্কার—এইগুলো যাদের কথায় ও কাজে প্রকাশ পায়, তাদের কখনো আত্মজ্ঞান লাভ হয় না। তাদের যদি কেউ বলে,—“চলুন না, অমুক জায়গায় একজন সৎ-সাধু এসেছেন, তাঁকে দর্শন ক’রে আসি”, তবে তার উত্তরে তারা একটি ওজর খুঁজে বার করবে যাতে সেখানে যেতে না হয়। নিজেদের তারা খুব মান্য লোক ব’লে ভাবে, তাই কেন তারা অন্যের কাছে যাবে? বিশেষ পরিচিত এক ব্রাহ্ম-প্রচারক পরমহংসদেব সম্বন্ধে বলে যে, কেবলমাত্র একটি বিষয় নিয়ে চিন্তা ক’রে ক’রে তাঁর মস্তিষ্ক-বিকৃতি ঘটেছে। তখন সেই প্রচারককে উদ্দেশ্য ক’রে পরমহংসদেব বলেন,—“তুমি তো বলো যে ইউরোপের পণ্ডিতরাও দিনরাত একটি বিষয়ের চিন্তা ক’রে ক’রে পাগল হয়ে যায়। কিন্তু তাদের চিন্তার বিষয়টি কি—জড়বস্তু না আত্মা? সর্বদা জড়বস্তুর চিন্তা ক’রে কেউ যদি পাগল হয়ে যায় তাতে আর আশ্চর্যের কি আছে! কিন্তু যাঁর চৈতন্যে বিশ্ব-সংসার চৈতন্যময় হয়েছে তাঁর চিন্তা ক’রে কেউ চৈতন্যহীন হ’তে পারে? তোমাদের শাস্ত্র কি তোমাদের এই শিক্ষা দেয়?” সসীমের দ্বারাই অসীমকে, অনিত্যের দ্বারা নিত্যকে এবং বিশ্ব-জগতের দ্বারা বিশ্বাতীতকে প্রচার করতে হবে। পায়ে সরু কাঁটা ফুটলে আরেকটি কাঁটা দিয়ে সেটিকে তুলে পরে দু’টি কাঁটাকেই ফেলে দিতে হয়। সেইরকম বিদ্যা-মায়ার সাহায্যে অবিদ্যা-মায়াকে দূর করতে হয়। বিদ্যা-মায়া হ’ল আপেক্ষিক জ্ঞান আর অবিদ্যা-মায়া আপেক্ষিক অজ্ঞান। অবিদ্যা-মায়া আত্মার দৃষ্টিকে অন্ধ ক’রে রাখে। কিন্তু বিদ্যা-অবিদ্যা এই দু’টিই মায়া। ব্রহ্মজ্ঞান পেতে গেলে বিদ্যা ও অবিদ্যা এই দু’টিই বিসর্জন দিয়ে সব দ্বন্দ্ব থেকে মুক্ত হতে হয়। ভুবন-মোহিনী মায়াকে যদি একবার চিনে ফেলতে পারো তবে মায়া তোমাদের ছেড়ে দূরে পালাবে। যেমন চোরকে একবার দেখে ফেললে সে ছুটে পালায়। ভূতে পাওয়া লোক যদি একবার বুঝতে পারে যে তাকে ভূতে পেয়েছে, তবে ভূত সঙ্গে সঙ্গে তার ঘাড় থেকে নেমে যায়। মায়ায় মুগ্ধ জীব তার ভ্রম বুঝতে পারলেই মায়া-মুক্ত হয়ে যায়। কিছু কিছু লোক দেখা যায় যাদের জীবনে কোন বন্ধন না থাকলেও তারা নিজে থেকেই বন্ধনের সৃষ্টি ক’রে মায়ায় বদ্ধ হয়ে থাকতে ভালবাসে। এরা মুক্তি পছন্দ করে না, তাই মুক্ত হয়ে বাঁচতে চায় না। যাকে পরিবার পালন করতে হয় না, আত্মীয়দের দেখাশোনা করতে হয় না, তারা সাধারণতঃ বেড়াল, বাঁদর, কুকুর বা পাখী পুষে সঙ্গী করে আর দুধের স্বাদ ঘোলে মেটায়। মানুষের ওপর মায়ার মোহিনীশক্তি এরকমই। খুব জ্বরের ঘোরে আর তেষ্টায় রুগী ভাবে পৃথিবীতে যতো জল আছে সমস্তই পান করতে পারলে তবে তার তেষ্টা মিটবে। কিন্তু জ্বর ছেড়ে গিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে দেখা যায় এক পেয়ালা জলই তার পক্ষে যথেষ্ট। অল্প একটু জল খেলেই তার তেষ্টা মিটে যায়। সেইরকম মায়ার দাপটে মানুষ তার নিজের ক্ষুদ্রতা ভুলে মনে করে সে ঈশ্বরের সবকিছু জেনে ফেলতে সক্ষম হবে। কিন্তু মায়া সরে গেলে দেখা যায় দিব্যজ্যোতির একটি-দু’টি রশ্মিই মানুষকে অনন্ত আনন্দের বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। একবার এক ঘোর তার্কিককে পরমহংসদেব বলেন,—“তুমি যদি যুক্তিতর্ক দিয়ে ঈশ্বরকে জানতে চাও তবে কেশবের কাছে যাও, আর এক কথায় ঈশ্বরকে জানতে হ’লে আমার কাছে এসো।” একবার একজন প্রকৃত সত্যান্বেষী ভক্ত ঠাকুরকে বলেন,—‘খুব সংক্ষেপে আমায় আত্মজ্ঞান লাভের উপায় ব’লে দিন।’ তার উত্তরে ঠাকুর তাকে বলেন, “ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা”।
স্বামী অভেদানন্দের ‘শ্রীরামকৃষ্ণদেবের আধ্যাত্মিক বাণী’ থেকে

29th     September,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021