বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
খেলা
 

স্পেনের তিকি-তাকা ঝড় রুখতে
গতির বিস্ফোরণই ভরসা জাপানের

 

সোমনাথ বসু, দোহা: দু’টি দেশের মধ্যে দূরত্ব প্রায় সাড়ে দশ হাজার কিলোমিটার। ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাসের মতো ফুটবলেও বিস্তর পার্থক্য। তিকি-তাকা অর্থাৎ পাসিং গেমে ঝড় তুলে জয় তুলে নেওয়াই স্পেনের অভ্যাস। আর জাপান? গতির বিস্ফোরণে অঘটন ঘটাতে ওস্তাদ। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে কেলর নাভাসের কোস্টারিকাকে সাত গোলের মালা পরিয়েছিল লুইস এনরিক-ব্রিগেড। অন্যদিকে, জাপানের কাছে বশ মানে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। বৃহস্পতিবার আল রায়ানের খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে গ্রুপ-ই’র ম্যাচে মুখোমুখি এই দুই দল। প্রথম দু’টি ম্যাচ খেলে স্পেন পেয়েছে ৪ পয়েন্ট। জাপান একধাপ পিছিয়ে। বলাই বাহুল্য, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্পেনের পাসিং ফুটবল থামাতে জাপানের ভরসা গতিশীল ফুটবলই। রক্ষণ ও মাঝমাঠ জমাট রেখে পেড্রি-গাবি-ফেরান তোরেসদের নিষ্প্রভ করে রাখতে তৈরি নাগাতোমো-সাকাইরা। অন্যদিকে, সের্গিও বুস্কেতসের নেতৃত্বে বিপক্ষের গতি থামিয়ে জয়ের কড়ি জোগাড় করতে মরিয়া স্পেন।
ফুটবল পেডিগ্রিতে কয়েক আলোকবর্ষ এগিয়ে থাকলেও জাপানকে হাল্কাভাবে দেখছেন না স্পেনের হেডমাস্টার লুইস এনরিক। কারণ, ঔদ্ধত্যে ভরপুর জার্মানির পদস্খলনের সাক্ষী তিনি। গত ম্যাচে কোস্টারিকার কাছে হারলেও বৃহস্পতিবার পালের হাওয়া উল্টোদিকে বইয়ে দিতে পারেন ডাইচি কামাডা-রিতসু ডোয়ানরা। চলতি বিশ্বকাপে ৪-৫-১ ফর্মেশনে খেলছে জাপান। মাঝমাঠে গতির সঞ্চারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিচ্ছেন এনডো-কুবোরা। তাই এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এসে স্পেনের কোচ এনরিক বলেন, ‘জাপান খুবই শক্তিশালী দল। ওদের বেশ কিছু ফুটবলার ইউরোপে খেলে। তাই হাল্কাভাবে নেওয়ার প্রশ্নই নেই। জানি, প্রথম দুই ম্যাচের পর আমাদের ঘিরে প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। তবে চাপ নিতে আমরা তৈরি। ছেলেরা সবাই ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। জাপানের বিরুদ্ধে তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াই লক্ষ্য। নক-আউটে প্রতিপক্ষ কে হবে, তা ভেবে আমরা খেলব না। তাছাড়া, গ্রুপের চারটি দলেরই নক-আউটে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে এখনও। জার্মানিকে হারানোর সক্ষম কোস্টারিকাও।’
এক প্রশ্নের উত্তরে এনরিকের মন্তব্য, ‘এখনও আমাদের খেলায় অনেক খামতি আছে। ভিডিও সেশনে ছেলেদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনাও করেছি। মঙ্গলবার রড্রি, গাবি অনুশীলন করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি ওদের বারণ করি। কারণ, বিশ্বকাপের মাঝে ফুটবলারদের বিশ্রাম দেওয়াটা খুব জরুরি।’ 
জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু আবার স্পেনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাঁর বক্তব্য, ‘আমার তো মনে হয়, বিশ্ব ফুটবলে ওরা আন্ডার অ্যাচিভার। স্পেনের খেলা দেখলে মন ভরে ওঠে। তবে বৃহস্পতিবার লুই এনরিকের দলকে হারাতেই আমরা মাঠে নামব। কোস্টারিকার কাছে হার এখন অতীত। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, স্পেনকে হারাতে পারলেই নক-আউট নিশ্চিত। এই সুযোগ ছেলেরা হাতছাড়া করতে চায় না।’
স্পেনের বিখ্যাত চিত্র পরিচালক পেড্রো আলমোডোভারের একটি মন্তব্য দিয়ে প্রতিবেদন শেষ করব। বছর দুয়েক আগে এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘চলচ্চিত্র আর জীবনের মধ্যে কোনও তফাৎ নেই। এগিয়ে চলার জন্য সাহসিকতার সঙ্গে প্রয়োজন গতিশীলতাও। এই ব্যাপারে আমার আদর্শ জাপানের কিংবদন্তি আকিরা কুরোসাওয়া।’ 
অর্থাৎ, স্পেনের পরিচালকের মুখেও আকিরার গতির প্রশংসা। বৃহস্পতিবার ম্যাচ শেষে লুই এনরিকের কণ্ঠেও কি পেড্রোর মন্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা যাবে?

1st     December,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ