বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
খেলা
 

পদকের স্বপ্ন উস্কে
ফাইনালে কমলপ্রীত

টোকিও: ওলিম্পিকসের মঞ্চে ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে ভারতীয় শিবিরের হতাশা। ভারোত্তোলনে মীরা বাঈ চানু রুপো জেতার পর এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। অথচ ভারতের ঝুলিতে এখনও দ্বিতীয় কোনও পদক জমা পড়েনি। ধারাবাহিক ব্যর্থতার আঁধারে হঠাৎ মহা-ইতিহাসের স্বপ্ন ছড়ালেন কমলপ্রীত কাউর। আশা জেগেছে ওলিম্পিকসের অ্যাথলেটিক্স ইভেন্টে ১২০ বছরের পদক খরা থেকে মুক্তির। ১৯০০ সালের প্যারিস গেমসে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে জোড়া রুপো জিতেছিলেন স্প্রিন্টার নর্মান প্রিচার্ড। তারপর অ্যাথলেটিক্সে আরও কখনও পদকের মুখ দেখেনি ভারত।
শনিবার অকল্পনীয় সেই পদকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুললেন কমলপ্রীত। মহিলাদের ডিসকাস থ্রোয়ের প্রাথমিক পর্বে ৬৪ মিটার দূরত্ব ছোড়ার সুবাদে দ্বিতীয় হয়ে ফাইনালে উঠেছেন পাঞ্জাবের ২৫ বছর বয়সি এই অ্যাথলিট। সোমবার ফাইনালে তাঁকে ঘিরে পদকের প্রত্যাশা বাড়ছে। তবে একই ইভেন্টে হতাশ করলেন সীমা পুনিয়া। ১৬ নম্বরে শেষ করেন তিনি। লং জাম্পে চরম ব্যর্থ মুরলী শ্রীশঙ্করও। ২৯ জনের মধ্যে ২৫ নম্বরে শেষ করলেন তিনি।
তবে যাবতীয় হতাশা আড়ালে চলে গিয়েছে কমলপ্রীতের ঝলকে। প্রথমবারের চেষ্টায় তিনি ছোড়েন ৬০.২৯ মিটার। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় ছোড়েন ৬৩.৯৭ মিটার। আর তৃতীয় ও শেষ চেষ্টায় ছোড়েন ৬৪ মিটার। তাঁর থেকে বেশি দূরত্বে ছুড়েছেন একমাত্র আমেরিকার ভ্যালারি অলম্যান (৬৬.৪২ মিটার)। কমলপ্রীত ও অলম্যান সরাসরি ওঠেন ফাইনালে। রিও গেমসের সোনাজয়ী ক্রোয়েশিয়ার সান্দ্রা পেরকোভিচ (৬৩.৭৫ মিটার) ও এই মুহূর্তের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কিউবার ইয়ামি পেরেজ (৬৩.৯৭ মিটার) যথাক্রমে তৃতীয় ও সপ্তম স্থান পেয়ে ফাইনালে পৌঁছেছেন।
এই মরসুমে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন কমলপ্রীত। দু’বার ৬৫ মিটারের বেশি ছুড়েছেন তিনি। মার্চে ফেডারেশন কাপে ছুড়েছিলেন ৬৫.০৬ মিটার। ভাঙেন জাতীয় রেকর্ড। এরপর জুনে কমলপ্রীত নিজের রেকর্ডের উন্নতি ঘটান ইন্ডিয়ান গ্রাঁপ্রি’তে ৬৬.৫৯ মিটার ছুড়ে। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে উঠে আসেন ছয় নম্বরে। সেই ফর্মেই তাঁকে দেখা গেল শনিবার।
অথচ লকডাউন পর্বে গৃহবন্দি দশা  চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল কমলপ্রীতের মানসিক স্বাস্থ্যে। চুপচাপ ঘরে বসে থাকার যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছিলেন না তিনি। হতাশা কাটাতে গ্রামের বাড়িতে পড়শিদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলায় মেতে থাকতেন দেশের সেরা ডিসকাস থ্রোয়ার। কোচ রাখী ত্যাগির কথায়, ‘প্রচণ্ড অবসাদে ভুগছিল কমলপ্রীত। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেছিল সে। তবে ডিসকাসে একবার ট্রেনিং শুরু হতেই দ্রুত চেনা ছন্দ ফিরে পায়।’ কমলপ্রীতের নজর এখন শুধুই ওলিম্পিক পদকে।
পাঞ্জাবের মুক্তসর জেলার কাবারওয়ালা গ্রামে জন্ম কমলপ্রীতের। আর্থিক প্রতিকূলতা ও মায়ের আপত্তি সত্ত্বেও বাবা কুলদীপ সিংয়ের উৎসাহে অ্যাথলেটিক্সে এসেছিলেন তিনি। শুরুতে শটপাটে আগ্রহ ছিল তাঁর। কিন্তু স্কুলের ক্রীড়াশিক্ষক ডিসকাসে নিয়ে আসেন তাঁকে। পদক জিতে মেয়ের ফেরার আশায় এখন গোটা গ্রাম। বাবা কুলদীপ জানিয়েছেন, ‘ও কথা দিয়েছে ফাইনালে সর্বশক্তি উজাড় করে দেবে।’ কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী কৃষ্ণা পুনিয়া বলেছেন, ‘ওলিম্পিকসে খেলতে যাওয়ার আগে টেনশনে ছিল কমলপ্রীত। ওকে বলেছিলাম, খোলা মনে অংশ নিতে। পদকের কথা না ভেবে নিজের সেরাটা দিতে। এখন পদকের সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকার আশায় প্রহর গুনছি।’

1st     August,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021