বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

জঙ্গলের পথে...। জয়ন্তী যাওয়ার রাস্তায় বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে কৌশিক সেনের তোলা ছবি। 

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জেরে যোগীরাজ্য
ছেড়ে বাংলায় শাহরুখ, সঙ্গী পবন

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: যোগীরাজ্যের পঞ্চমুখে প্রশংসা করে থাকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই যোগীরাজ্যে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জেরে ঘর ছাড়ছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এরাজ্যে দ্রব্যমূল্য কম হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গকেই আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। এই গল্পটা উত্তর প্রদেশের বেরেলির বাসিন্দা শাহরুখ খানের। না, তিনি ‘কিং খান’ নন। তবে জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য তিনি বাংলাকেই বেছে নিয়েছেন। আর তাঁর সফর সঙ্গী ‘পবন’। পবন একটি কালো রঙের ঘোড়া। ঘোড়ার নাল বিক্রি করেই সংসার চালান শাহরুখ। জানা গিয়েছে, যোগীর রাজ্যে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জেরে ঘোড়ার খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাঁকে। অনেক রাজ্য ঘুরে শেষে তিনি বাংলাকেই বেছে নেন। 
এদিন ঝাড়গ্রাম শহরে কথা হচ্ছিল শাহরুখের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাংলায় দ্রব্যমূল্য অনেক কম। এখানে খুব কম খরচে জীবন নির্বাহ করা যায়। উত্তর প্রদেশে পবনের খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হতো। এখানে দৈনিক খরচ কম হওয়ায় অনেকটাই সুবিধা হচ্ছে। কিছুটা পয়সার মুখ দেখতে পাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, বাংলায় শান্তিতে ব্যবসা করা যায়। এখানকার মানুষ ভালো। তাঁরা সন্মান করেন। পবনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই জীবনযুদ্ধের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। 
জানা গিয়েছে, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে শাহরুখের জন্ম হয়। মূলত কৃষিকাজের উপর ভিত্তি করেই তাঁদের সংসার চলত। তবে শেষ কয়েক বছরে অস্বাভাবিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জেরে সমস্যায় পড়ে শাহরুখের পরিবার।  ভাই সাকাবত আলি আট বছর আগে শাহরুখের জন্য একটা কালো রঙের ঘোড়া কিনে আনেন। পরিবারের সদস্যরা ভালোবেসে তার নাম দেন পবন। কিছুদিনের মধ্যেই সে পরিবারের সদস্য হয়ে ওঠে। তবে পবনের খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয় শাহরুখকে। এরপর করোনা আবহে লকডাউনের সময় সমস্যা আরও বাড়ে। পরে তিনি বাড়তি আয়ের আশায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন পবনকে সঙ্গী করে। তাঁর কথায়, উত্তর প্রদেশে পবনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকা খরচ হতো। এরফলে আধপেটা খেয়েই থাকতে হতো। তবে বাংলায় খাবারের দাম কম। পবনের খোরাক জোগাড় হয়ে যাচ্ছে। এখানে বহু মানুষ ঘোড়ার নাল কিনছেন। বিয়ে বাড়িগুলোতেও ঘোড়া ভাড়া হচ্ছে। আয়ও বাড়ছে। পবন খুশি। তাই আমিও। 
এই নিয়ে বিজেপির উদ্দেশ্যে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি দুলাল মুর্মু। তিনি বলেন, বিজেপির নেতারা বলেন বাংলায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে। তবে বাইরের রাজ্যে গেলে অন্য চিত্র উঠে আসে। এখানেই সবকিছু সস্তায় মেলে। বিজেপি শাসিত রাজ্যের ব্যবসায়ীরা কাজের সন্ধানে বাংলায় আসছেন। এখানে তাঁরা শান্তিতে ব্যবসা করছেন। বিজেপির নেতাদের মুখে ওসব কথা মানায় না। 
অপরদিকে, বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সঞ্জিত মাহাত বলেন, তৃণমূলের নেতাদের যোগীরাজ্য নিয়ে ভাববার প্রয়োজন নেই। বরং তাঁরা দেখুন এরাজ্যে কোনও চাকরি নেই। এখানকার ছেলেমেয়েরা চাকরির জন্য বাইরের রাজ্যে যাচ্ছে। তৃণমূলের আমলে কেউ এখানে চাকরি পাওয়ার আশা করে না। তৃণমূল সরকার মানুষকে কাজ দিতে পারেনি। এ রাজ্য দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছে।  নিজস্ব চিত্র

23rd     March,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ