বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

কাল তারামায়ের আবির্ভাব তিথি, ব্যাপক
দর্শনার্থী সমাগমের আশায় মন্দির কমিটি

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কাল, শনিবার তারা মায়ের আর্বিভাব তিথি। বহু কাল ধরে শুক্লা চতুর্দশী তিথিকে মায়ের আর্বিভাব তিথি হিসেবে তারাপীঠে পালন করা হয়। বছরের একমাত্র এই দিনটিতে তারা মাকে গর্ভগৃহ থেকে বের করে বিরাম মঞ্চে তাঁর ছোট বোন মুলুটির মা মৌলিক্ষার মন্দিরের অভিমুখে বসানো হয়। ওইদিন মা তারা সারাদিন বিরাম মঞ্চে বিরাজ করবেন। ভক্তরা মাকে স্পর্শ করে পুজো নিবেদন করতে পারেন। বছরের একমাত্র এই দিনটিতে মায়ের কোনও অন্নভোগ হয় না। একইভাবে দিনে ভোগ হয় না ছোট বোনেরও। উমার গমনে আকাশ বাতাস যখন ভারাক্রান্ত, ঠিক সেই সময় ফিবছর তারা মায়ের আর্বিভাব তিথিতে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। গত দু’বছর অবশ্য করোনার কারণে সেভাবে ভিড় হয়নি। এবছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও তিথি শনিবার এবং পরের দিন রবিবার হওয়ায় প্রচুর ভক্ত সমাগম হবে বলে মন্দির কমিটির আশা।  
কথিত আছে, পাল রাজত্বের সময় শুক্লা চর্তুদশী তিথিতে জয়দত্ত সদাগর স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। তিনি শ্মশানের শ্বেতশিমূল বৃক্ষের তলায় পঞ্চমুণ্ডির আসনের নীচে থেকে মায়ের শিলামূর্তি উদ্ধার করেন। তারপর মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পুজোর সূচনা করেন। তখন থেকেই দিনটি তারা মায়ের আর্বিভাব তিথি হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। শনিবার সুর্যোদয়ের পর তারা মাকে গর্ভগৃহ থেকে বের করে বিরাম মঞ্চে আনা হবে। জীবিতকুণ্ড থেকে জল এনে মাকে স্নান করানোর পর রাজবেশে সাজানো হয়। এদিন দেবী তারাকে তাঁর ছোট বোন মুলুটির মা মৌলিক্ষার মন্দিরের অভিমুখে বসানো হয়। জনশ্রুতি, বাংলা ১১০৮ ও ইংরেজি ১৭০১ সালে আর্বিভাব তিথিতে বিশ্রাম মন্দিরে তারা মাকে পূর্বদিকে বসিয়ে পুজো শুরু করার তোড়জোড় করেন তদানীন্তন তান্ত্রিক, পুরোহিত ও পাণ্ডারা। সেইসময় মুলুটির নানকার রাজা রাখরচন্দ্র মায়ের সামনে আরাধনায় বসেন। যা দেখে তান্ত্রিক, পুরোহিত ও পাণ্ডারা রাজাকে আসন থেকে তুলে পুজোপাঠ বন্ধ করে দেন। রাজা অভিমানে দ্বারকা নদের পশ্চিম পাড়ে ঘট প্রতিষ্ঠা করে মায়ের পুজো করে মুলুটি গ্রাম ফিরে যান। ওই রাতেই প্রধান তান্ত্রিক প্রথম আনন্দনাথকে তারা মা স্বপ্নাদেশ দেন- ‘রাখরচন্দ্র তারা মায়ের ভক্ত। সে অভিমান করে চলে গিয়েছে। এবার থেকে এই দিনটিতে যেন আমাকে মুলুটির কালীবাড়ির দিকে মুখ করে বসানো হয়।’ সেই থেকে বিশেষ এই তিথিতে বিরাম মঞ্চে মাকে পশ্চিমমুখী বসিয়ে পুজো হয়ে আসছে। মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, শুক্লা চর্তুদশী তিথির সূর্যোদয়ের পর তারা মাকে গর্ভগৃহ থেকে বের করে বিশ্রাম মন্দিরে আনা হয়। মায়ের জন্মদিনে পুজো দেওয়ার জন্য ভক্তদের আনাগোনা শুরু হয়েছে।  
রীতি অনুযায়ী, ওইদিন মায়ের অন্নভোগ হয় না। সেবাইতরাও উপবাস থাকেন। দুপুরে লুচি, সুজি ও মিষ্টি সহকারে ভোগ নিবেদন করা হয়। সন্ধ্যায় মাকে গর্ভগৃহে ফিরিয়ে এনে ফের স্নান করিয়ে পুজো ও আরতি করা হয়। রাতে খিচুড়ি, পোলাও, পাঁচরকম ভাজা, মাছ, বলির পাঁঠার মাংস দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। সেই প্রসাদ খেয়ে উপবাস ভাঙেন সেবাইতরা।  মন্দির কমিটির সম্পাদক ধ্রুব চট্টোপাধ্যায় বলেন, আর্বিভাব তিথি উপলক্ষে এখন থেকেই মন্দির চত্বর আলোয় সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। মন্দিরের নিরাপত্তাকর্মী ছাড়াও পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় পুলিসের সাহায্য চাওয়া হয়েছে।

7th     October,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ