বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

রাত দু’টো থেকে নিঃশব্দে শুরু হয় 
সিবিআইয়ের ‘অপারেশন অনুব্রত’

ইন্দ্রজিৎ রায়, বোলপুর: বৃহস্পতিবার, ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন দু’টো। গভীর রাতে ঘুমে আচ্ছন্ন শান্তিনিকেতন। ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছে, সঙ্গে হাল্কা কুয়াশা। এমন সময় বিশ্বভারতীর রতন কুঠিতে একটি গাড়ি ঢোকে। দু’জনকে নামিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যায় সেটা। কিছুক্ষণ পর ওই গাড়িতেই আরও চারজন হাজির হন। নিয়মমাফিক রতন কুঠির অ্যাটেন্ডার তাঁদের বুকিং খাতায় সিগনেচার করতে বললে ৬ জনের একজন বলেন, ‘আজ ভীষণ ক্লান্ত আছি, সকালে সই করব, তুমি চারটি রুমের এসি চালিয়ে দরজা বন্ধ করে দাও, বাকি কাজ আমরা করে নেব। তুমি শুয়ে পড়ো’। তাঁদের কথামতো কাজ করেন বিশ্বভারতীর রতন কুঠির ওই অ্যাটেন্ডার। তখন তিনি ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি, এই ছ’জন আদতে সিবিআইয়ের বাঘা আধিকারিক। গেস্ট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, বেনামেই বুক করা হয় রতন কুঠির চারটি রুম। ‘অপারেশন অনুব্রত’র কথা যাতে কাকপক্ষীও টের না পায়, তার জন্যই এত সাবধানতা অবলম্বন করেন সিবিআই আধিকারিকরা। দু’চোখ এক না করে সারারাত ধরে ‘স্ট্রাটেজি প্ল্যান’ করেন তাঁরা। সমস্ত প্রমাণ, নথি বারবার যাচাই করে দেখা হয়। বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে বোলপুরের বিভিন্ন সীমানা নাকা চেকিংয়ের জন্য রাখা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। বৃহস্পতিবার ভোরবেলা কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি বিশাল দল রতন কুঠি পৌঁছয়। এরপরেই অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতে সিবিআই চড়াও হতে চলেছে বলে খবর চাউর হয়ে যায়। 
সকাল ন’টা পর্যন্ত রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সিবিআই আধিকারিকরা। সকাল ঠিক সাড়ে ন’টায় রতন কুঠি থেকে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে অনুব্রতর বাড়ির দিকে রওনা দেয় সিবিআই আধিকারিকের দল। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যান ‘অপারেশন’ স্থলে। গোরু পাচার মামলায় তদন্তকারী অফিসার সুশান্ত ভট্টাচার্য ও এসপি রাজীব মিশ্রের নেতৃত্বে সটান ঢুকে পড়েন আধিকারিকরা। কেউ যাতে ‘অতি তৎপর’ না হতে পারে, তার জন্য ঘিরে ফেলা হয় অনুব্রতর নিচুপট্টি এলাকার গোটা বাড়ির চারপাশ। ‘তালার জট’ ভেঙে অনুব্রতর বাড়িতে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। এই সময়ে উপস্থিত প্রত্যেকের মোবাইল ফোন চেয়ে নেওয়া হয়। এমনকী, তল্লাশির সময় তাদের একটি ঘরের মধ্যেই রাখা হয় বলে জানা যায়। উদ্ধার হয় প্রচুর নথি, পেন ড্রাইভ ও হার্ড ডিস্ক। এরপর দোতলায় অনুব্রতকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন আধিকারিকরা। প্রথমেই এনামুল হককে চেনেন কি না, জিজ্ঞেস করেন আধিকারিকরা। এর উত্তরে অনুব্রত বলেন, ‘আমার শরীর ভালো নেই।’ 
গোরুর হাটের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ আছে কি না, প্রশ্নের উত্তরেও ‘কিছু জানি না’ বলে তিনি এড়িয়ে যান। তাঁর কাছে সিবিআই আধিকারিকরা তথ্য প্রমাণ পেশ করলেও অনুব্রত মুখ খোলেননি। ঘণ্টাখানেক জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে অসহযোগিতা করার কারণে বীরভূম জেলার দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতাকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই।
কখনও গোরু পাচার কাণ্ড, কখনও বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা, প্রতিবারই অনুব্রত এড়িয়ে যাচ্ছিলেন সিবিআইয়ের সমন। এযাবৎ ১০ বার তলব করা হয় তাঁকে। তার মধ্যে মাত্র একবার হাজিরা দিলেও বাকি ন’বার ‘অসুস্থতার কারণ’ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়েছিলেন তিনি। বারবার এই ঘটনা ঘটায় তাঁকে গ্রেপ্তার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল সিবিআই। অনুব্রত যাতে নতুন কোনও ‘কৌশল’ করতে না পারেন, তার জন্য এবার আটঘাট বেঁধেই নামে সিবিআই। আর তাদের এই তৎপরতাতেই সফল হল ‘অপারেশন অনুব্রত’।  রতনকুঠিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী।-নিজস্ব চিত্র

12th     August,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ