বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

বিপদে পাশে দাঁড়ানো থেকে খেলাধুলো,
সবেই আছে ঝাড়গ্রামের উন্নয়নী সঙ্ঘ

রাজদীপ গোস্বামী, ঝাড়গ্রাম: ১৯৭৫ সালের ২৫ বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করে পুরাতন ঝাড়গ্রাম এলাকায় মানবসেবার উদ্দেশ্যে উন্নয়নী সঙ্ঘের জন্ম। শুরুর দিকে ক্লাবের নির্দিষ্ট কোনও ঘর ছিল না। গাছের নীচে বসেই চলত আড্ডা। তারপর ধীরে ধীরে মাটির একটি ঘর তৈরি করা হয়। ক্লাবের সামনে বিশ্বকবির মূর্তি বসানো হয়। জানা গিয়েছে, এলাকার নানা সমস্যা নিয়ে ক্লাবের সদস্যরা আড্ডা দিতেন। বিপদে মানুষের পাশে থাকার পাশাপাশি খেলাধুলোয় ক্লাবের ছোট ছেলেমেয়েদের উৎসাহিত করতেন ক্লাবের সদস্যরা। ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে ক্লাবে নিয়ম করে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করা হয়। 
শহরে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় উন্নয়নী সঙ্ঘ নানা কাজ করে। ক্লাবের সূচনা হওয়ার পর সদস্যরা সমাজসেবার পাশাপাশি দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন। প্রথমে ক্লাব প্রাঙ্গণে ছোট করে দুর্গাপুজো শুরু হয়। বর্তমানে ঝাড়গ্রাম জেলায় নামী পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম উন্নয়নী সঙ্ঘের মাতৃ আরাধনা। জেলার অন্যান্য বিখ্যাত পুজোগুলোর মতোই নিত্যনতুন থিমে পুজোর মণ্ডপ তৈরি হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকে এই পুজো দেখতে আসেন। পাশাপাশি এই ক্লাবের উদ্যোগে কালীপুজোর আয়োজন করা হয়। জানা গিয়েছে, কালী পুজোর সময় ক্লাবের সদস্যদের উদ্যোগে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। ক্লাবের মূলমন্ত্র একতা। ক্লাবের সদস্যরা একসঙ্গে পুজোর আয়োজন করেন। পুজোর মধ্যেই চলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 
শুধু পুজোপার্বণ বা মানবসেবা নয়, সারা বছর ধরে খেলাধুলোর ক্ষেত্রেও এই ক্লাব বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ক্লাব সংলগ্ন রাজবাড়ির মাঠেই ক্লাবের উদ্যোগে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। সেই টুর্নামেন্টে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খেলোয়াড়রা অংশ নেন। এছাড়া এই ক্লাবের তরুণ সদস্যরাও জেলার বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নেন। ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক দেবনাথ দে বলেন, ক্লাবে খেলাধুলোর পরিবেশ রয়েছে। এছাড়া প্রতি বছর নিয়ম করে ক্লাবের উদ্যোগে রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তরফে আমরা অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। ক্লাবের একটাই উদ্দেশ্য, মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
জেলায় করোনা পরিস্থিতিতে এই ক্লাবের সদস্যরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সদস্যরা চাঁদা তুলে ওই এলাকার প্রতিটি বাড়িতে মাস্ক, স্যানিটাইজার পৌঁছে দেন। প্রতিদিন ৫০০-৭০০টি পরিবারের হাতে খাবার পৌঁছে দিয়েছিলেন ক্লাবের সদস্যরা। করোনা বিধি মেনে চলার জন্য গোটা এলাকায় প্রচার করেন তাঁরা। এছাড়া জামবনী, চিল্কিগড় এলাকার গ্রামগুলিতে  ক্লাবের উদ্যোগে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। লাগাতার প্রচারের জন্যই ধীরে ধীরে ওই এলাকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমে। প্রশাসনের কাছ থেকে প্রশংসাও কুড়িয়ে নেয় এই ক্লাব। শুধু তাই নয়, ক্লাবের উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেও নানারকম পরিকল্পনা নেওয়া হয়। খেলাধুলো, মানবসেবা ও সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরেই এই ক্লাব এগিয়ে চলেছে।
ক্লাবের সভাপতি মধু সিংহ বলেন, আগামী দিনেও আমরা মানুষের পাশে থাকব। কোনও অসহায় সাহায্য চাইলেই ক্লাবের সদস্যরা পাশে গিয়ে দাঁড়ান। ক্লাবের মহিলা সদস্যরাও মানুষের পাশে থাকেন। 

12th     August,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ