বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

ফের কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে হলদিয়া 
বন্দর, ঢুকছে কেপসাইজ ভেসেল
সেইল, টাটার মতো বৃহৎ সংস্থাগুলি ফিরছে

শ্যামল সেন, হলদিয়া: সেইল, টাটা স্টিল, জিন্দালের মতো বড় শিল্প সংস্থাগুলির আস্থা ফিরছে হলদিয়া বন্দরে। বড় জাহাজ অর্থাৎ কেপসাইজ ভেসেলে হলদিয়ায় নতুন করে পণ্য আনার ক্ষেত্রে সম্প্রতি বন্দরের সঙ্গে চুক্তি করে একের পর এক সংস্থা। চুক্তির পর এই প্রথম হলদিয়া বন্দরে কেপ ভেসেলে কয়লা আনা শুরু করল স্টিল অথরিটি অব ইন্ডিয়া (সেইল)। বিদেশ থেকে ৬৬ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন কয়লা কোকিং কোল নিয়ে হাজির হয়েছে ‘কেপ সোয়ান’ নামে একটি জাহাজ। এবার থেকে প্রতিমাসে সেইল হলদিয়ায় একটি করে কেপ ভেসেল হ্যান্ডেল করবে অর্থাৎ পণ্য আমদানি করে খালাস করবে। বন্দরের সঙ্গে কার্গো চুক্তির পর সেইল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাগর দ্বীপের অদূরে গভীর জলে ফ্লোটিং ক্রেনের মাধ্যমে কেপ জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা হয়। খুব শীঘ্রই চুক্তি অনুযায়ী জিন্দাল ও আদানিদের পণ্যবাহী কেপ ভেসেল নিয়মিত এসে ভিড়বে সাগরে। 
বড় শিল্প সংস্থার আস্থার উপর ভর করেই পণ্য পরিবহণে সুদিন ফিরবে বলে আশা বন্দর কর্তাদের। পণ্য পরিবহণ বাড়াতে এখন বন্দর কর্তাদের লক্ষ্য কেপ ভেসেলের সংখ্যা বাড়ানো। বন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, এপ্রিল থেকে গত পাঁচ মাসে হলদিয়ায় কেপসাইজ ভেসেল হ্যান্ডেলিংয়ের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। গত আর্থিক বছরে মোট কেপ ভেসেল হ্যান্ডেলিং হয়েছে ১২টি। তার আগের বছর ছিল মাত্র ৭টি। এবার এপ্রিল থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত হয়েছে ১৬টি। প্রতিটি জাহাজে গড়ে ৬৫-৭০ হাজার টন কয়লা, লাইম স্টোন জাতীয় পণ্য আসছে। এখন গড়ে প্রতি মাসে ৩টির বেশি কেপ ভেসেল হ্যান্ডেলিং হচ্ছে বন্দরে। এর ফলে বন্দরে বছরে ৩০ লক্ষ টন বাড়তি পণ্য ওঠানামা করবে। এই পণ্যের সিংহভাগই যুক্ত দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্পাত শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।
হলদিয়া বন্দরের জেনারেল ম্যানেজার (ট্রাফিক) অভয়কুমার মহাপাত্র বলেন, কেপ ভেসেল হ্যান্ডেলিং বাড়ানোই বন্দরের লক্ষ্য। বন্দরকে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে এছাড়া উপায় নেই। পণ্য পরিবহণ খরচ কম হওয়ায় শিল্প সংস্থাগুলি এই জাহাজেই পণ্য আনে বিভিন্ন বন্দরে। এতদিন হলদিয়ায় কেপ জাহাজ ভিড়তে পারত না। এবার বন্দর এলাকার মধ্যে মাঝসমুদ্রে সেই জাহাজ আসতে শুরু করেছে। সেইলের পাশাপাশি জিন্দাল স্টিলের সঙ্গেও কেপ ভেসেলে পণ্য আনার চুক্তি হয়েছে বন্দরের। জিন্দালরা হলদিয়ায় বছরে ১০ লক্ষ টন কয়লা জাতীয় পণ্য আনবে। বন্দরের চেয়ারম্যান বিনীত কুমার এবং ডেপুটি চেয়ারম্যান অমলকুমার মেহেরার লাগাতর চেষ্টার ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয়, বন্দরের ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষতার কারণে মাঝ সমুদ্রে ভরা বর্ষা ও নিম্নচাপের সময়ও কেপ জাহাজ থেকে নির্বিঘ্নে পণ্য খালাস সম্ভব হচ্ছে। 
বন্দরের এক আধিকারিক বলেন, হলদিয়া দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা সমস্যায় ভুগছে। সেজন্য বড় জাহাজে ঢুকতে পারে না। পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় শিল্প সংস্থাগুলি অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঝ সমুদ্রে অস্থায়ী জেটি তৈরি করে ফ্লোটিং ক্রেনের মাধ্যমে ট্রান্সলোডিং সিস্টেম চালু করে বন্দর। বড় জাহাজ থেকে ছোট বার্জে পণ্য নামিয়ে হলদিয়ার বন্দরের মূল জেটিতে আনা শুরু হয়। প্রথমে স্যান্ডহেডে এই পদ্ধতিতে পণ্য খালাস শুরু হয়। বর্ষার সময় সমুদ্র উত্তাল থাকায় বছরে মাত্র ৬ মাস কাজ করা যেত। স্যান্ডহেড থেকে সরে এসে বন্দর কর্তৃপক্ষ এখন সাগরে সারা বছর ধরে কেপ ভেসেল থেকে পণ্য খালাসের কাজ শুরু করেছে। ফলে কম দিনেই বাড়তি কেপসাইজ জাহাজ হ্যান্ডেল করা যাচ্ছে। এখন দু’টি ফ্লোটিং ক্রেন পণ্য খালাস করে। কাজের চাপ বাড়ায় আরও দু’টি ক্রেন লাগানোর পরিকল্পনা করছে বন্দর। বেসরকারি সংস্থা ওই ক্রেন হ্যান্ডেলিং করে।  নিজস্ব চিত্র

12th     August,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ