বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

জেলায় ৬১ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি,
 অর্ধেক জমিতে ধান রোয়া হয়নি
বিপাকে চাষিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মেঘে ঢাকা আকাশ, কিছুক্ষণ হালকা বৃষ্টির পরই ফের কড়া রোদ। শ্রাবণেও ভারী বৃষ্টির দেখা নেই। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় জেলার কৃষিকাজে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। মুর্শিদাবাদ জেলায় খরিফ মরশুমে এক লক্ষ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়। কিন্তু বৃষ্টির ঘাটতিতে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৯৭ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। অন্যান্য বছর এই সময়ে সম্পূর্ণ জমির ধান রোয়া হয়ে যায়। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সাধারণত এবার ধান রোপণ করা যায়। কিন্তু নির্ধারিত সময় জেলার সম্পূর্ণ জমির আমন ধান রোয়ার কাজ শেষ হবে না বলেই মনে করছেন কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা।(জেলা কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জুলাই মাসে ৮৪ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি ছিল। জুন ও জুলাই মাস মিলিয়ে এই জেলায় বৃষ্টির ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৩ শতাংশ। আগস্টের শুরুতে কয়েকদিন বৃষ্টি হলেও তা পর্যাপ্ত না হওয়ায় ধান চাষে প্রভাব পড়েছে। বুধবার পর্যন্ত জেলার ৬১ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা আশঙ্কা করছেন, আষাঢ় মাসের বৃষ্টির ঘাটতি মেটা তো দূর, শ্রাবণ শেষ হতে চললেও ভারী বৃষ্টির দেখা নেই। বিপুল এই বৃষ্টির ঘাটতি না মিটলে খরিফ মরশুমে ধানের ফলনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। তবে সেচের ব্যবস্থা থাকা এলাকায় জমিতে ধানের চারা লাগানো হয়েছে। কান্দি, ভরতপুর, নবগ্রাম, বড়ঞা এলাকায় চাষ শুরু হয়েছে। 
জেলার উপ কৃষি অধিকর্তা মোহনলাল কুমার বলেন, যেসব জায়গায় সেচের ব্যবস্থা আছে সেখানে ধান চাষে তেমন সমস্যা হবে না। এখনও পর্যন্ত ৯৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। তার মধ্যে ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান রোপণ করা হয়েছে। ২১ আগস্ট পর্যন্ত চাষিরা ধান লাগাতে পারবেন। কিন্তু সারা বছরই বৃষ্টির ঘাটতি থাকলে চাষে প্রভাব পড়বে। বহরমপুরের চাষি জমিরউদ্দিন শেখ বলেন, বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। ধান চাষ কী হবে জানি না। আগে কোনও বছর এত দেরি করে ধান রোপণ করিনি। তারাকপুরের ধান চাষি আরমান শেখ বলেন, সেচ দিয়ে ধান বসিয়েছি। তারপরও ভারী বৃষ্টির দেখা নেই। এখন মাঝেমধ্যে যা বৃষ্টি হচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয়। বিমার উপর ভরসা করে চাষ করলাম। 
নবগ্রামের চাষি রতন মণ্ডল বলেন, বৃষ্টির ব্যাপক ঘাটতিতে চাষ কীভাবে হবে জানি না। বৃষ্টির অপেক্ষা না করে বাধ্য হয়ে দু’সপ্তাহ আগে ধান লাগিয়েছি। এরপর দেরি করলে মুশকিলে পড়ব। সেচের ব্যবস্থা করে এবার ধান চাষ করতে হচ্ছে। বৃষ্টির এত ঘাটতি কোনও বছর হয়নি। 
জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ শাহনওয়াজ বেগম বলেন, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি নেই। যার ফলে চাষিরা ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার জন্য এবছর ধান এবং পাট চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় পাট জমি থেকে ওঠেনি। সেখানে এবার ধান চাষ হবে না। তবে সমস্ত কৃষকদের অনুরোধ করব, বাংলা শস্যবিমার আওতায় খরিফ মরশুমে যেন প্রত্যেকে ধানের বিমা করেন।

12th     August,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ