বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

জাতীয় সড়কে অটো, টোটোর 
মতো ধীরগতির যান কেন?
মল্লারপুরে দুর্ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যুতে উঠছে প্রশ্ন

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: দিন দু’য়েক আগেই সরকারি বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হয় অটোর চালক সহ আট মহিলা যাত্রীর। তারপরও হুঁশ ফেরেনি। নিয়মকে তোয়াক্কা না করে রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে ছুটে চলেছে দেদার যাত্রী বোঝাই অটো ও টোটো। নজর নেই প্রশাসনের। যদিও রামপুরহাট মহকুমার এআরটিও দেবাশিস ঘোষের দাবি, নজরদারি রয়েছে। প্রায়ই সড়কের উপর থেকে অটো ধরে জরিমানা করা হচ্ছে। কিছুক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়।
এর আগেও ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এই মল্লারপুরেই রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর যাত্রী বোঝাই অটো ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয় অটোর চালক সহ ছয় যাত্রীর। সেই সময় জাতীয় সড়কে নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে অটো, টোটো চলাচল নিয়ে বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলেছিল। তখন এই ধরনের যানবাহন যাতে জাতীয় সড়কে চলাচল না করে সেজন্য নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছিলেন পুলিস কর্তারা। কিন্তু কোথায় নজরদারি?
গত মঙ্গলবার জাতীয় সড়কের মল্লারপুরের তেলডা ব্রিজের কাছে সরকারি বাসের সঙ্গে অটোর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মৃত্যু হয় অটোর চালক সহ আট মহিলা খেতমজুরের। যাঁদের সকলের বাড়ি রামপুরহাট থানার পারকান্দি গ্রামে। স্বভাবতই প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মনুষ। পেশায় সরকারি চাকরিজীবি অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে যেখানে রাজ্য সরকার ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ কর্মসূচি নিয়েছে, সেখানে জাতীয় সড়কে অটো, টোটো যাত্রী বোঝাই করে লাগামহীনভাবে চলছে কী করে? প্রশাসনের পক্ষ থেকেই বা কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না কেন? দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় সড়ক। নিত্যদিন কয়েকশো লরি, বাস, ছোট যানবাহন দ্রুতগতিতে চলাচল করে। সেখানে লাগামহীন ভাবে ধীরগতির যানবাহন চলায় বারে বারে দুর্ঘটনা ঘটছে। আরও কত বড় দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে, প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। 
মল্লারপুরের বাসিন্দা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, দেবদূতি হালদাররা বলেন, অটো, টোটোর মতো ধীরগতির গাড়ির জন্য বারবার জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রচুর মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। তাঁরা বলেন, বহুদিন আগেই কলকাতা ও বর্ধমানে জাতীয় সড়কে অটো, টোটো চলাচল কমানোর জন্য প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে। তাতে ওই শহরগুলির পাশ দিয়ে যাওয়া জাতীয় সড়ক ও এক্সপ্রেস হাইওয়েত অটো, টোটো চলাচল নেই বললেই চলে। প্রশাসনের একটি সূত্রের দাবি, ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর মল্লারপুর রামপুরহাট শহর লাগোয়া মেডিক্যাল কলেজ ও বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। গ্রামগুলির মানুষের যাতায়াতের বড় ভরসা অটো, টোটো। ফলে কিছুটা ‘ছাড়’ দেওয়া হয়। তবে একের পর এক দুর্ঘটনা বলছে, এ বার রাশ টানা জরুরি। এদিন সড়কে দেখা গেল, অতিরিক্ত যাত্রী চাপিয়ে ছুটে চলেছে অটো, টোটো। ইতিমধ্যে অটো, টোটোর দৌরাত্ম্যে রামপুরহাট মহকুমার ১১টি রুটে পরিষেবা বন্ধ রেখেছে বাস মালিক সমিতি। এতেই আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অটো ও টোটোগুলি। 
রামপুরহাট মহকুমা পরিবহণ আধিকারিক দেবাশিস ঘোষ বলেন, জাতীয় সড়কে অটো ও টোটো চলতে পারে না। যেগুলি চলছে সেগুলি নিয়মবিরুদ্ধ। এগুলি শহরের মধ্যে চলতে পারে। কোনওমতেই জাতীয় সড়ক স্পর্শ করতে পারবে না। হয়তো গ্রাম থেকে এসে সড়কের কাছে পৌঁছে দিল। অটো পারমিটে এগুলি স্পষ্ট লেখা আছে। কিন্তু তারপরও চলছে। আমরা অভিযানও জারি রেখেছি। এলাকার মানুষ অবশ্য বলছেন, এবার আর জরিমানা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া নয়। কঠোর হোক প্রশাসন। নয়তো এই দুর্ঘটনায় রাশ টানা যাবে না। অকালে ঝড়ে যাবে একের পর এক প্রাণ।  

12th     August,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ