বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

ফের গড়বেতায় বাংলা আবাস যোজনায় কেলেঙ্কারি
উপভোক্তাদের টাকা তুলে বাড়ি
তৈরি করেননি ঠিকাদার, নালিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরে ফের বাংলা আবাস যোজনা প্রকল্পে বাড়ি তৈরি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠল। গড়বেতা-২ ব্লকের ১০ নম্বর জোগারডাঙা পঞ্চায়েতে ২০১৬-’১৭অর্থবর্ষে প্রায় ৩১জন উপভোক্তার নামে বাংলা আবাস যোজনার বাড়ি বরাদ্দ হয়েছিল। প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তিন কিস্তিতে মোট ১লক্ষ ৩০হাজার টাকা চলেও আসে। কিন্তু সেই টাকার অধিকাংশই আত্মসাৎ করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাড়ি না পেয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামলে ভাঙাচোরা মাটির বাড়িতেই বর্তমানে বাস করছে পরিবারগুলি। এনিয়ে ইতিমধ্যেই গড়বেতা-২এর বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। 
বিডিও কৃষ্ণনির্মাল্য ভটাচার্য বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  
গৃহহীন মানুষের মাথার উপর ছাদের ব্যবস্থা করে দিতেই বাংলা আবাস যোজনায় টাকা দেয় সরকার। তিনটি কিস্তিতে মোট ১লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। প্রথম কিস্তিতে ৬০হাজার, দ্বিতীয় কিস্তিতে ৬০হাজার এবং তৃতীয় কিস্তিতে ১০হাজার টাকা দেওয়া হয়। ২০১৬-’১৭ অর্থবর্ষে গড়বেতা ২ ব্লকের ১০নম্বর জোগারডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের জোগারডাঙা, চেকুয়াশোল, ধোবাশোল, পেঁচমুরা সহ বিভিন্ন গ্রাম মিলিয়ে মোট ৩১টি পরিবারের জন্য বাড়ি তৈরির টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। অভিযোগ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই শাসক দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতা তাঁদের হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দেন, তাঁদের ঠিক করা ঠিকাদারকে দিয়েই বাড়ি তৈরি করাতে হবে। তা না হলে পানীয় জল, রেশন সহ সমস্ত সরকারি সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপরেই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বাড়ি তৈরির তিন কিস্তির টাকাই ঠিকাদারের হাতে তুলে দেন উপভোক্তারা। তবে টাকা পেয়ে বাড়ি তৈরির কাজও শুরু করেন ঠিকাদার। কিন্তু বাড়ির দেওয়াল গাঁথার কাজ কিছুটা করে বাকিটা অসম্পূর্ণ রেখেই চলে যান ঠিকাদার। এনিয়ে উপভোক্তারা ওই তৃণমূল নেতাদের দ্বারস্থ হলে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আর বাড়ি পাওয়া যাবে না। ফের বাড়ি বরাদ্দ হলে তবেই অসম্পূর্ণ কাজ হবে। কোথাও কোনও অভিযোগ জানালে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়। 
এনিয়ে উপভোক্তা স্বপন লোহার, হেলু লোহার বলেন, নেতারাই ঠিকাদার ঠিক করে দিয়েছিলেন। কিস্তির টাকা ঢুকলেই ঠিকাদার বাড়িতে চলে আসতেন। আমাদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাঙ্কে গিয়ে টাকা তোলা করাতেন। সব টাকা তুলে দেওয়ার পর আজও বাড়ি তৈরির কাজ শেষ হল না। এই অবস্থায় দীর্ঘ ছ’বছর ধরে অনেক পরিবারই বর্তমানে তাঁদের পুরনো মাটির বাড়িতে রয়েছেন। ওইসব বাড়ির দেওয়াল হেলে গিয়েছে। বৃষ্টি হলে ঘরে জল পড়ে। অনেকে আবার অসম্পূর্ণ বাড়িতেই বসবাস করছেন। সেই বাড়িতে জানালা, দরজা কিছুই নেই। কেউ ত্রিপল, কেউ বাঁশের বেরা লাগিয়ে থাকছেন। যদিও এতদিনে তাঁদের বাড়ি হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ গরিব মানুষকে তাঁদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। 
তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান অজিত মাইতি বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে বিন্দুমাত্র আপষ করে না তৃণমূল। কোনও নেতা জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঠিকাদার যদি বাড়ি তৈরি না করে দেয়, তাহলে তাকেও গ্রেপ্তার হতে হবে।

25th     May,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ