বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

আদ্রা-চাণ্ডিল শাখা: মহিলার প্রাণ
বাঁচল ট্রেনের চালকের তৎপরতায়

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: কথায় আছে, রাখে হরি মারে কে! রেল লাইনের উপর শুয়ে থাকা অবস্থায় উপর দিয়ে মালগাড়ি চলে যাওয়ার পরেও প্রাণে বাঁচলেন মহিলা। তবে সবটাই হয়েছে চালকের তৎপরতায়। মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনে আদ্রা-চাণ্ডিল শাখায় ওই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। আনাড়া ও গড়ধ্রুবেশ্বর স্টেশনের মাঝে রেললাইনে ওই মহিলা শুয়েছিলেন। মালগাড়ির চালক দূর থেকেই বিষয়টি দেখতে পেয়ে গতি অনেক কমিয়ে দেন। তবে ওই মহিলার আগে মালগাড়ি থামানো যায়নি। কিছুটা গড়িয়ে যাওয়ার পরই তা থামে। তাতে ওই মহিলার একটি হাত কাটা যায়। তাঁকে মালগাড়ির নীচ থেকে উদ্ধার করে আরপিএফ ও জিআরপি থানার পুলিস। পরে তাঁকে রঘুনাথপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে পরিচয় জানা না গেলেও পরে জানা যায়, জখম মহিলার নাম লক্ষ্মীমণি হাঁসদা। তাঁর বাড়ি আদ্রা থানার শ্যামসুন্দরপুর এলাকায়। তবে ঠিক কী কারণে ওই মহিলা রেল লাইনে এসে শুয়েছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রেল পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, আত্মহত্যার চেষ্টাতেই এই কাজ করেছেন লক্ষ্মীদেবী। তবে শ্যামসুন্দরপুর থেকে ওই গৃহবধূ কী কারণে আনাড়া সংলগ্ন এলাকায় এসেছিলেন এবং ওই গৃহবধূর সঙ্গে আরও কেউ ছিলেন কি না, সেই বিষয়ে স্পষ্ট করে জানতে পারেনি রেল পুলিস।
আনাড়ার স্টেশন মাস্টার সঞ্জীব বসু বলেন, সকাল ৬টা ৩০মিনিট নাগাদ মালগাড়িটি আনাড়া স্টেশন ছাড়ে। সেটি অণ্ডাল যাচ্ছিল। আনাড়া জিআরপি থানা সংলগ্ন ক্রসিংয়ের খানিকপরেই ঘটনাটি ঘটে। ওই মালগাড়ির চালক এম কর্মকার ও গার্ড প্রভাস চন্দ্র মাহাত আমাদের বিষয়টি জানান। তাঁরা জাগিয়েছেন, ওই মহিলা রেল লাইনে শুয়েছিল। মালগাড়ি থামিয়ে কোনওক্রমে তাঁর প্রাণ রক্ষা হয়েছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পরই আরপিএফ ও জিআরপি কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। রেলের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসাও করেন।
প্রসঙ্গত, আদ্রা ডিভিশনে পুরুলিয়া সহ বিভিন্ন স্টেশনে আরপিএফ কর্মীদের তৎপরতায় যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর একাধিক ঘটনা থাকলেও এই ধরনের ঘটনা কার্যত বিরল। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মালগাড়ির চালক নির্দিষ্ট সময়ে ও নিরাপদ দূরত্বে গতি কমাতে না পারলে ওই আদিবাসী গৃহবধূর প্রাণ বাঁচানো কার্যত অসম্ভব ছিল। রেললাইনে দূর থেকে ওই মহিলাকে দেখতে পাওয়ার পরই ট্রেনের গতি ধাপে ধাপে কমানো শুরু করেন চালক। মালগাড়িটি মহিলার কাছে পৌঁছনোর আগে থামানো সম্ভব হয়নি। ওই মহিলা হাত কেটে যাওয়ার পরেও রেললাইনে শুয়ে ছিলেন। তার উপর দিয়েই মালগাড়িটি খানিকটা এগিয়ে গিয়ে তারপর থামে। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই মহিলার সেখান থেকে বেরিয়ে আসার মতো ক্ষমতা ছিল না। রেল পুলিস ট্রেনের তলায় ঢুকে গিয়ে ওই মহিলাকে কোনওক্রমে সেখান থেকে বের করে আনতে সক্ষম হন। 
আনাড়ার স্টেট স্টেশন মাস্টারের দাবি, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই রেলের চিকিৎসককে জানানো হয়েছিল। তিনি এসে প্রাথমিক চিকিৎসা করেছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সও বলা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অটোতে করে ওই মহিলাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

25th     May,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ