বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

তিন বছরে এলাকার উন্নয়নে খরচ ‘জিরো’
একটি স্কিমও জমা দেননি সাংসদ

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বিধানসভা ভোটের আগে ‘ডবল ইঞ্জিনে’র বুলি আওড়ে বিজেপির প্রতীকে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভায় জিতেছেন সুরেন্দ্র সিং আলুওয়ালিয়া। অথচ তিন বছরে এলাকার উন্নয়নে সাংসদ কোটার একটি টাকাও খরচ করেননি ওই বিজেপি নেতা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও স্কিমও জেলায় জমা পড়েনি। এলাকার উন্নয়নের জন্য সাংসদরা বছরে দু’কিস্তিতে পাঁচ কোটি টাকা পান। কিন্তু বিজেপি সাংসদ এক টাকাও খরচ না করায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোটে জেতার পর এমনিতেই সাংসদকে এলাকায় দেখা যায় না। তা নিয়ে দলের নেতা কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে। এদিকে নিজের এলাকার উন্নয়নের দিকে নজর না দেওয়ায় জনমানসেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
যদিও বিজেপি সাংসদ বলেন, ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা দিয়ে রেখেছি। এখনও পর্যন্ত ‘ইউটিলাইজেশন’ সার্টিফিকেট পাইনি। এক কোটি টাকা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য দেওয়া আছে। ৫০লক্ষ টাকা দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল ও ১০লক্ষ টাকা বর্ধমান জেল হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য দেওয়া হয়েছে।
যদিও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এক টাকাও তাঁর তহবিল থেকে আসেনি। কী কাজ করা যেতে পারে, তা নিয়ে তিনি দু’বার জানতে চেয়েছিলেন। এছাড়া তাঁর পক্ষ থেকে কিছু করা হয়নি। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, উনি টাকা পাঠালে নথি থাকবে। সেটা জেলা প্রশাসনকে দেখাক। জেলার আরএক সাংসদ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য টাকা খরচ করেছেন। উনি টাকা পাঠালেও খরচ হতো। অজুহাত দিয়ে লাভ নেই। পূর্ব বর্ধমানের ডিপিএলও সৈকত হাজরা বলেন, ওঁর কাছ থেকে প্রস্তাব পায়নি। প্রস্তাব এলে কাজ শুরু করা যাবে।
বিজেপির এক নেতা বলেন, সাংসদ দলকে অনেক পিছিয়ে দিলেন। দলের কর্মীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নেই। বিধানসভা ভোটের পর কর্মীরা কেমন আছেন, সেটাও তিনি জানার প্রয়োজন মনে করেননি। তাঁকে জেলার কর্মীরা সর্বশক্তি দিয়ে জিতিয়েছিলেন। অথচ তিনি কর্মীদের নিয়ে চিন্তা করছেন না। সাংসদ তাঁর তহবিলের টাকায় মনে করলে অনেক কাজ করতে পারতেন। তাতে দলের ভালো হতো। কিন্তু তিনি কোনও কিছুরই তোয়াক্কা করেন না। 
বিজেপি নেতা শ্যামল রায় বলেন, ওঁর কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসন তাঁকে কাজ করতে দিচ্ছে না। আমাদের অন্যান্য জেলার সাংসদদেরও একইভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। 
তৃণমূল নেতা তথা বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, আবার একটা লোকসভা ভোট আসতে চলেছে। উনি ভোটের সময় অনেক বড় বড় কথা বলেছিলেন। অনেক উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। একটা কাজও করেননি। বিজেপির সবকিছুই ভাঁওতা। সামনের নির্বাচনে মানুষ জবাব দেবেন। ওঁর কাছ থেকে এলাকার বাসিন্দারা একটা সার্টিফিকেটও পাননি। 
বিজেপি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দলের কর্মীরা সাংসদের ভূমিকা নিয়ে নেতৃত্বের কাছে একাধিকবার ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। দলের কোনও কর্মসূচিতেও তিনি যোগ দেননি। পুরসভা নির্বাচনের সময় মাত্র দু’দিন প্রচারে এসেছিলেন। এখন থেকে অনেকেই এই লোকসভা কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী না করার জন্য সোচ্চার হয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রার্থী বদল না হলে লোকসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয় ঠেকানো মুশকিল। 

25th     May,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ