বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

নতুন প্রতারণার ফাঁদ স্টিলসিটিতে
৪১ লক্ষ টাকা খুইয়ে মাথায় হাত শিক্ষকের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শেয়ার বাজারের ভুয়ো গবেষণা সংস্থার খপ্পরে পড়ে ৪১লক্ষ টাকা খোয়ালেন দুর্গাপুরের শিক্ষক। স্টিলসিটিতে নতুন এই সাইবার প্রতারণা সামনে আসতেই উদ্বেগে বেড়েছে পুলিসেরও। সাইবার প্রতারকদের নতুন টার্গেট, শেয়ারে টাকা খাটিয়ে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখা উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তরা। যাঁরা শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করছেন, তাঁদের উপর নজর রাখছে প্রতারকরা। এবার তাঁদের ফোন করে শেয়ারে টাকা খাটানোর বেশকিছু ভুল পদক্ষেপ উপযাজক হয়েই সংশোধন করে দিচ্ছে তারা। শেয়ার বাজার নিয়ে তারা প্রতিনিয়ত গবেষণা করছে বলেও জানাচ্ছে প্রতারকরা। এরপরই টোপ দেওয়া হচ্ছে যে, কোথায় বিনিয়োগ করলে বেশি রিটার্ন মিলবে তা ভালো জানে তারা। সেই টোপে পড়লেই প্রাথমিকভাবে কিছু ভালো টাকা রিটার্ন পেলেও তারপর থেকে শুরু হচ্ছে আসল প্রতারণা।
জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের একটি নামী বেসরকারি স্কুলের পদার্থবিদ্যার শিক্ষক ওই প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে কার্যত সর্বস্ব খুইয়েছেন। মোটা মাইনের চাকরির সঙ্গে টিউশনিতে বাড়তি রোজগার রয়েছে তাঁর। ২০১৯ সাল থেকে শেয়ারে টাকা খাটানো শুরু করেন। প্রথমে অল্প টাকা বিনিয়োগ করতেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ শেয়ারে টাকা বিনিয়োগ করে বেশ কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েন। এরপর একদিন অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের ওপার থেকে শেয়ারের খুঁটিনাটি বিষয় শিক্ষককে বলা হয়। তাঁর কিছু ভুলের বিষয়ে শিক্ষাও পান। ফোনে অপরিচিত ব্যক্তি প্রতি বিশ্বাসও জন্মায় তাঁর। এরপরই অপরিচিত ব্যক্তি প্রস্তাব দেয়, তাদের একটি রিসার্চ সংস্থা রয়েছে। যারা সর্বক্ষণ শেয়ার নিয়েই গবেষণা করছে। তাদের মাধ্যমে অনেকে বিনিয়োগও করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ভালো টাকা রিফান্ড পাওয়া যাবে। সহজেই টোপ গিলে নেন শিক্ষক। প্রতারকের দেওয়া ওয়েবসাইট দেখে ভরসা আরও বাড়ে তাঁর। 
এরপর প্রথমে কয়েক হাজার টাকা তাঁদের অ্যাকাউন্টে পাঠান শিক্ষক। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দ্বিগুণ রিটার্ন পেয়ে যান। এরপর এক লক্ষ টাকার বিনিয়োগ একদিনেই বেড়ে ১লক্ষ ৮০হাজার হয়ে যায়। তাদের দেওয়া ওয়েবসাইটে তা দেখাও যাচ্ছিল। কিন্তু টাকা এখন তোলা যাবে না, এক বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে জানানো হয়। এরপরই নতুন শর্ত আসে শিক্ষককের কাছে। কিন্তু ওয়েবসাইটে তাঁর অ্যাকাউন্টে বাড়তি টাকা দেখে লোভ আরও বেড়ে যায়। সাইবার থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, এভাবেই গতবছর জুলাই মাস পর্যন্ত দফায় দফায় ৪১লক্ষ টাকা দিয়ে দেন শিক্ষক। প্রতারকরা দাবি করে, সেই টাকা বেড়ে ৭০লক্ষ হয়ে গিয়েছে। অপেক্ষা করতে থাকেন শিক্ষক। কিন্ত হঠাৎ একদিন সেই ওয়েবসাইট গায়েব হয়ে যায়। এরপর তিনি প্রতারকদের প্রশ্ন করলে তারা জানায়, ১৫শতাংশ আরও বিনিয়োগ করলেই ৭০লক্ষ টাকা পেয়ে যাবেন। এরপরই তিনি যে প্রতারিত হয়েছেন তা বুঝতে পারেন। কয়েকদিন আগে আসানসোল সা‌ইবার থানায় অভিযোগ জানান তিনি। 
সাইবার অফিসাররা তদন্তে নেমে জানতে পেরেছেন, যে নম্বর থেকে ফোন আসত তা মধ্যপ্রদেশের। যে দু’টি অ্যাকাউন্টে তিনি টাকা পাঠিয়েছেন সেগুলিও সেখানকার। ওয়েবসাইটটির কোনও হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতারকরা দেশজুড়েই শেয়ার কারবারিদের নতুন করে টার্গেট করা শুরু করেছে বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।

25th     May,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ