বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

উদ্ধার কার্তুজের প্যাকেটে
অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির ছাপ
গোয়ালতোড়

পিনাকী ধোলে, গোয়ালতোড়: গোয়ালতোড়ে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। একই সঙ্গে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনাস্থল থেকে প্যাকেটে মোড়া অবস্থায় যে কার্তুজগুলি উদ্ধার হয়েছে, সেগুলির গায়ে ভারতীয় অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির ছাপ রয়েছে। এই কার্তুজ পুলিসের ছাড়া অন্য কারও কাছে থাকার কথা নয়। কীভাবে সেগুলি বেহাত হয়েছিল, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। তৃণমূল বরাবর অভিযোগ করেছে, বাম জামানায় হার্মাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল পুলিস। পুলিসের দেওয়া অস্ত্র নিয়েই হার্মাদরা একসময় গোয়ালতোড় এলাকা দাপিয়ে বেরিয়েছিল। যে বন্দুকগুলি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে, তার বেশ কয়েকটি লালপার্টির সরকারের আমলের ব্যানার দিয়ে মোড়া ছিল। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের দাবি, বড়ডাঙা গ্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র সিপিএমের হার্মাদরাই মাটির তলায় লুকিয়ে রেখেছিল। যদিও ঘটনার দায় মাওবাদীদের দিকে ঠেলেছে সিপিএম।
বুধবার অস্ত্র উদ্ধারের পর জেলার পুলিস সুপার জানিয়েছিলেন, মোট ৩৬টি বন্দুক ও ৪০০-৪৫০টি কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। পরে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র গোয়ালতোড় থানায় নিয়ে এসে গুনে দেখা যায়, মোট ৪৪টি বন্দুক ও ৮৮৮টি কার্তুজ রয়েছে। উদ্ধার হওয়া কার্তুজগুলি সিলড প্যাক অবস্থায় প্লাস্টিকের বালতির মধ্যে রাখা ছিল। তবে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে, তা হল কার্তুজের প্যাকেটের গায়ে অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির ছাপ। ৮ এমএম-এর কার্তুজের প্যাকেটের গায়ে লেখা রয়েছে ‘রিমড কার্টিজ’। এই কার্তুজ সাধারণত পুলিস কর্মীরাই ব্যবহার করে বলে স্বীকার করেছেন পুলিস আধিকারিকরা।
কিন্তু পুলিসের ব্যবহার করা কার্তুজ কীভাবে ওখানে গেল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। ঘটনার দায় সিপিএম মাওবাদীদের দিকে ঠেলে দিলেও গ্রামবাসীদের বক্তব্য, এই এলাকায় সেইভাবে মাওবাদীদের উপদ্রব কখনওই ছিল না। তবে নলবনা গ্রাম পঞ্চায়েত বরাবরই সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি ছিল। 
এই এলাকায় একসময় সুশান্ত ঘোষের বাহিনীর ব্যাপক দাপট ছিল। তৃণমূলের অভিযোগ, সিপিএম নেতাদের একাংশ পুলিশের মাধ্যমে হার্মাদদের হাতে অস্ত্র পৌঁছে দিত। সেই অস্ত্র দিয়েই খুনের রাজনীতিতে মেতে উঠেছিল সিপিএমের সশস্ত্র বাহিনী। 
বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসে আইবির তিন সদস্যের এক প্রতিনিধি দল। জেলার উচ্চপদস্থ পুলিস কর্তারাও ছিলেন সেখানে। জেলার পুলিস সুপার দীনেশ কুমার বলেন, কোথা থেকে অস্ত্র এল, কারা রাখল, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। পুরোটাই তদন্ত সাপেক্ষ। 
গড়বেতা-৩ এর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি রাজীব ঘোষ বলেন, যেখান থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, সেখান থেকে ১০০ মিটার দূরেই একসময়ের দাপুটে কয়েকজন সিপিএম নেতার বাড়ি রয়েছে। তারা হার্মাদ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০১১ সালের নির্বাচনের আগে নয়াবসত এলাকা থেকে সিপিএমের হার্মাদরা সশস্ত্র মিছিলও বের করেছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর পুলিসি ধরপাকড়ের ভয়ে তারাই ওই এলাকায় অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিল। 
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে সুশান্ত ঘোষ এদিন বলেন, সিপিএম যদি অস্ত্রের রাজনীতি করত, তাহলে তৃণমূল কখনও ক্ষমতায় আসতে পারত না। 
মন্ত্রিত্বের সুযোগ নিয়ে হার্মাদদের অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগও অস্বীকার করেন সুশান্তবাবু। তিনি বলেন, শিলদা থেকে শুরু করে একাধিক জায়গা থেকে অস্ত্র লুট করে মাওবাদীরা ওইসব এলাকায় লুকিয়ে রেখেছিল। এর সঙ্গে সিপিএমের কোনও যোগ নেই।

22nd     January,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ