বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

হরিহরপাড়ায় সংসারের ভোল বদলে
দিয়েছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা
মৌমাছি পালন করে ভেজালহীন মধু বিক্রি 

নিজস্ব প্রতিনিধি, হরিহরপাড়া: ভেজাল নয়, সর্ষে খেতে মৌমাছি পালন করে বাজারে শুদ্ধ মধু পৌঁছে দিচ্ছে হরিহরপাড়ার প্রমিলা বাহিনী। বিভিন্ন মরশুমে তাঁরা নানা স্বাদের মধু তৈরি করছেন। সর্ষে উঠে যাওয়ার পর আম ও লিচু বাগানে মৌমাছি পালন করবেন তাঁরা। 
সেই মধুর স্বাদ আবার অন্য। প্রশিক্ষণ নিয়েই হরিহরপাড়ার খিদিরপুর কলোনির মহিলারা মাঠে নেমেছেন। নতুন পেশা শুরু করে তাঁদের সংসারের ভোল বদলে গিয়েছে। তাঁরা নিজেরাই মাঠে গিয়ে মৌমাছির বাক্স পরিচর্যা করছেন। মৌচাক ভাঙছেন। বোতলে মধু ভরে বাজারজাতও করছেন। মৌপালকরা বলেন, বাক্সে মৌমাছি পালন করা হয়। সাতদিন পরপর মৌচাক থেকে মধু পাওয়া যাওয়া যায়। এখন সাতদিন অন্তর ২০০কেজি মধু পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি তা বাইরেও পাঠানো হচ্ছে। মধুতে ভেজাল না থাকায় ভালো চাহিদা রয়েছে। নাবার্ড থেকে প্রশিক্ষণ পাওয়ার পরই তাঁরা কাজ শুরু করেছেন। খিদিরপুরের ইলা রায় বিশ্বাস বলেন, আমরা সকলেই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। আগে অন্য কাজ করতাম। তাতে তেমন আয় হতো না। কিন্তু মৌমাছি পালন করে ভালো আয় হচ্ছে। বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা এসে মধু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক বেশি মধু নেওয়ায় তাঁদেরকে আমরা ১২০টাকা কেজি দরে বিক্রি করি। 
স্থানীয় বাজারে ২০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করার পর বিক্রি করতে সমস্যা হয় না। আর এক মৌপালক বলেন, সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করা হয়। মধুতে কোনও কিছু মেশানো হয় না। বিভিন্ন ফুলের বাগানে মৌমাছি চাষ করা যায়। 
এখন এলাকায় সর্ষে চাষ হচ্ছে। সেই কারণে সর্ষেজমিতে বাক্স বসানো হয়েছে। নিজেদের এলাকাতেই ৫০টি বাক্স রয়েছে। সাতদিন পরপর চাকে মধু ভরে ওঠে। তবে আবহাওয়া মেঘলা থাকলে মধু সংগ্রহ করা যায় না। ঝলমলে দিনে এই কাজ করতে হয়। মেয়েরা নিজের হাতেই এই কাজ করতে পারে। 
নাবার্ডের আধিকারিক কুশলকুমার সিংহ বলেন, মহিলাদের নিয়ে একটি ফার্মার্স ক্লাব তৈরি করা হয়েছে। তাদের বেশ কিছুদিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই চাষে লাভ কেমন হবে, তাও তাদের অঙ্ক কষে বোঝানো হয়েছে। তারপরই তারা চাষ শুরু করেছে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে বিভিন্ন জেলা থেকে মৌপালকরা মুর্শিদাবাদে আসতেন। তাঁরাও সর্ষে জমিতে এই চাষ করতেন। ছেলেরাই এই কাজ করতেন। জেলায় মহিলারা প্রথমবার উদ্যোগ নিয়ে এই চাষে হাত পাকাচ্ছেন। বাজারে মধুর চাহিদা সবসময়ই থাকে। তাই তাঁদের এই কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে না। এই জেলায় ব্যাপকভাবে আম ও লিচু চাষ হয়। আম ও লিচুর মধুর স্বাদও আলাদা। হরিহরপাড়ার ওই মহিলারা ভেজাল ছাড়াই বছরের বিভিন্ন সময় ভিন্নস্বাদের মধু বাজারে পাঠানোর ব্রত নিয়েছেন।

18th     January,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ