বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

লালজল পাহাড়ে আদিম যুগের মানবগুহায়
পৌঁছতে ঝাঁ চকচকে রাস্তা উপহার রাজ্যের

সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: এর আগে বেলপাহাড়ী এলাকার লালজল পাহাড়ের আদিমানব গুহায় পৌঁছতে হলে পর্যটকদের মূল রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তিন কিলোমিটার হেঁটে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। রাজ্যে পরিবর্তনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নির্মিত হয়েছে চাকাডোবা-খন্দরভোলা গ্রামীণ সড়ক রাস্তা। বেলপাহাড়ী-বাঁশপাহাড়ি মূল রাস্তায় লালজল স্টপেজের পরেই রয়েছে চাকাডোবা স্টপেজ। এখান থেকে তিন কিলোমিটার লাগাদুড়ি জোড় খালের  সেতু পেরিয়ে গেলেই একেবারে লালজল পাহাড়ের সামনে চারচাকা গাড়ি নিয়ে পৌঁছে যাওয়া যাচ্ছে। এই ঝাঁ চকচকে রাস্তা নির্মাণের ফলে এখন চারচাকা গাড়ি নিয়ে পর্যটকরা একেবারে পাহাড়ের সামনে গিয়ে পৌঁছতে পারছেন। ফলে শীতের মরসুমে ইতিমধ্যেই এই পাহাড়ের আদিমানব গুহা দেখতে পর্যটকদের ভিড় জমে উঠেছে। প্রায় রোজই পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাজ্যের পর্যটনস্থলের মানচিত্রে বেলপাহাড়ী এলাকা ভালোমতো জায়গা করে নিয়েছে। এই এলাকার অন্যান্য পর্যটনস্থলগুলির মধ্যে লালজল পাহাড়ের আদিমানব গুহা অন্যতম। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে ৬৪ কিলোমিটার দূরে এই পাহাড়ের গুহায় ৫ হাজার বছর আগে মানুষের বসবাস ছিল বলে সরকারি পর্যটন বিভাগের তথ্য থেকে জানা গিয়েছে। এই প্রাচীন মানব গুহা দেখতেই এখানে পর্যটকরা ভিড় জমান। এমনিতে সারা বছরই এই পাহাড়ে পর্যটকের ভিড় লেগেই থাকে। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে রয়েছে আদি জনজাতি শবর অধ্যুষিত পাটাঘর গ্রাম। এই গ্রামে প্রায় ২৫টি শবর পরিবারের বসবাস। জঙ্গলের লতাপাতা, কাঠ, মধু ও ময়ূরের পালক সংগ্রহ এদের অন্যতম পেশা। পাশেই রয়েছে রানি ও রাজা পাহাড়। এই পাহাড়ের ওপর একটি কুয়োতে সারা বছর জল থাকে। পর্যটকেরা লালজল পাহাড়ের সঙ্গে এই পাহাড়গুলিও ঘুরে দেখেন। শুধু পর্যটকরাই নন সারা বছর নৃতত্ত্ব বিষয়ক ও ভাষা বিষয়ক গবেষকরা এখানে পরিদর্শনে আসেন। তবে শীতের মরসুমে পর্যটকের ভিড় বেশি হয়। প্রসঙ্গত ২০১৯ সালে এই পাহাড়ের পিছনের দিকে ৪ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দের প্রায় ৮ কিমি চাকাডোবা-খন্দরভোলা গ্রামীণ সড়ক নির্মিত হয়। এখন এই রাস্তা ধরেই পর্যটকরা লালজল পাহাড়ে আসছেন। এর আগে লালজল স্টপেজ থেকে এই পাহাড়ে পৌঁছনোর যে তিন কিমি রাস্তা রয়েছে। রাজ্য সরকারের উন্নয়নের মাধ্যমে এই রাস্তার ৩৮৬ মিটার ঢালাই হয়ে গিয়েছে। বাকি ৪০০ মিটার পাহাড়ের কাজ পর্যন্ত রাস্তা ঢালাইয়ের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানান বিনপুর ২ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রাহালা হাঁসদা। তিনি বলেন, এলাকায় যতগুলি পর্যটনস্থল আছে সবক’টি রাস্তার কাজ শুরু করা হবে। লালজল পাহাড়ে যাওয়ার  রাস্তার ঢালাইয়ের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। লালজল গ্রামের বাসিন্দা বংশী মাহাত বলেন, এর আগে পর্যটকদের অর্ধেক রাস্তায় এসে থেমে যেতে হতো। পায়ে হাঁটা ছাড়া পাহাড়ে আসার উপায় ছিল না। এখন তার পিছনের দিকে গ্রামীণ সড়ক রাস্তা তৈরি হয়েছে। সেই রাস্তা ধরে পর্যটকরা সহজেই পাহাড়ে পৌছতে পারছেন। এখন প্রায় রোজই এই পাহাড়ে পর্যটকের ভিড় লেগেই রয়েছে। 

30th     November,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021