বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

কৃষি যন্ত্রপাতি কেনায় অনিয়মের অভিযোগ
তদন্ত কমিটি গঠন জেলাশাসকের

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রাজ্যের শস্যভাণ্ডার পূর্ব বর্ধমান জেলায় কৃষি যন্ত্রপাতি কেনা নিয়ে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খোদ জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ জেলা কৃষিদপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছে। এনিয়ে তারা জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কমিটি তৈরি করে তদন্তও শুরু করেছেন জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা। এই ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।প্রসঙ্গত, বৃহৎ, মাঝারি ও ছোট কৃষি যন্ত্রপাতির কেনার জন্য কৃষকদের ৪০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক সহয়তা করে রাজ্য সরকার। প্রতিবছর জেলার নির্দিষ্ট সংখ্যক কৃষককে আবেদনের ভিত্তিতে এই ভর্তুকি দেওয়া হয়। যদি কোনও আবেদনকারী চলতি বছরে ভর্তুকি না পান, সেক্ষেত্রে পরের বার আবেদন যাচাই করে তাঁর নাম অনুমোদন করা হয়। কিন্তু, সেই নিয়ম অগ্রাহ্য করে নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহককে প্রতিবার যন্ত্রাংশ কেনার ভর্তুকি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রত্যেক বছর একই পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকায় উঠে এসেছে। এক বছর অন্তর একই ব্যক্তি যন্ত্র কেনার ভর্তুকি পেয়েছেন।জেলাশাসক বলেন, কৃষি আধিকারিকের নামে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখছে। অনিয়মের অভিযোগের সঙ্গে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ আর্থিক বছর থেকে ২০২০-২১ আর্থিক বছরে বর্ধমান-২ ব্লকের একই পরিবারের পাঁচ সদস্য যন্ত্রপাতি কেনার ভর্তুকি পেয়েছেন। রায়না-১ ব্লকে একই ব্যক্তি দু’বছর ও গলসি-২ ব্লকে একজন তিনবছর ভর্তুকি পেয়েছেন। গলসি-১ ব্লকে স্বামী, স্ত্রী ও পুত্র পরপর তিন বছর যন্ত্রপাতি কেনার জন্য টাকা পেয়েছেন।প্রতিবার সরকারি ভর্তুকি নিয়ে লক্ষাধিক টাকার যন্ত্রপাতি আদৌ কেনা হচ্ছে তো? এই প্রশ্ন তুলেই জেলা পরিষদে একাধিক অভিযোগ জানান অন্যান্য আবেদনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, একবার যন্ত্র কিনে তা বারবার কেনা হচ্ছে বলে দেখানো হয়। কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভেরিফিকেশন করার পরেও কীভাবে এত বড় দুর্নীতি হচ্ছে? এখানেই কৃষিদপ্তরেরে আধিকারিকদের যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। একই ব্যক্তিকে ভর্তুকির লক্ষ লক্ষ টাকা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই আবেদন মঞ্জুরও করছেন জেলার ডেপুটি ডিরেক্টর। এভাবেই বছরের পর বছর পর অনিয়ম হয়ে আসছে।জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া বলেন, কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ভর্তুকি পাওয়ার তালিকায় শুধু নাম বদলে যায়, কিন্তু ব্যক্তি একই থাকে। বছরের পর বছর বেশ কিছু একই ব্যক্তি এই সুবিধা পাচ্ছেন। একাধিক আবেদনকারী নিজেদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁদের থেকে কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েই জেলাশাসককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। যদিও জেলা কৃষিদপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, তদন্ত চলছে। সহযোগিতা করব। জানা গিয়েছে, তিনটি স্কিমে এই ভর্তুকি পাওয়া যায়। কাস্টম হায়ারিং সেন্টার বা সিএইচসি স্কিমের মাধ্যমে পাওয়ার টিলার, হারভেস্টার, ট্রাক্টর ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি কেনার জন্য কয়েক কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়। এফএসএসএম বা ফিনান্সিয়াল সাপোর্ট স্কিম ফর ফার্ম মেকানিজম স্কিমে চাষিদের পাওয়ার টিলার, ছোট চালকল, তেলকল, ডাল ভাঙার মেশিন, ধান রোপণ ও চাষ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কেনার ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া হয়। এছাড়াও আরও একটি স্কিমে রয়েছে ওটিএ বা ওয়ান টাইম আসিস্ট্যান্স। যার মাধ্যমে কৃষিকাজে ব্যবহৃত অপেক্ষাকৃত ছোট যন্ত্রাংশ যেমন স্প্রে মেশিন, মাটি খোঁড়ার যন্ত্রাংশ, সোলার লাইট ট্র্যাপ প্রভৃতি যন্ত্রাংশ কেনার জন্য ভর্তুকির আবেদন করতে পারেন চাষিরা।

30th     November,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021