বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

২০০টি মাইক লাগিয়েও ৫০জন
লোক জোগাড় করতে পারছে না
শান্তিপুরে বিজেপিকে কটাক্ষ তৃণমূলের

সুদেব দাস, রানাঘাট : আগামী ৩০অক্টোবর শান্তিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। শেষ মুহূর্তের প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সব রাজনৈতিক দল। সকাল থেকে সন্ধ্যা বিভিন্ন জনসভা, পথসভা, পদযাত্রা করে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা। কিন্তু বিজেপির পথসভায় নিচুতলার কর্মীদের অনুপস্থিতি ভোটের আগে রাজ্য নেতাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। বাধ্য হয়ে সভায় ভিড় বাড়াতে কবিগানের উপর নির্ভর করছে গেরুয়া শিবির। হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক কবিয়াল অসীম সরকার প্রচারের কাজ করছেন। পথসভা, জনসভার শুরুতে তিনি কবিগানের মাধ্যমে সভাস্থলে মানুষকে একত্রিত করতে চাইছেন। তারপর গানের মাধ্যমেই তিনি শান্তিপুরের বিজেপি প্রার্থী নিরঞ্জন বিশ্বাসের হয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। শিল্পীর গান শুনতে পথচারী বা এলাকার বাসিন্দারা জড়ো হলেই তারপর সভামঞ্চে উঠছেন বিজেপি নেতারা। বিজেপির সভায় ভিড় না হওয়ায় কটাক্ষ করে তৃণমূল জানিয়েছে, ২০০টি মাইক লাগিয়েও ৫০জন লোক জোগাড় করতে পারছে না ওরা।
সম্প্রতি বিজেপির বেশ কয়েকটি নির্বাচনী সভায় এমনই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। গত রবিবার দুপুরে বেলঘড়িয়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের মালিপোতা এলাকায় রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে পথসভার ডাক দিয়েছিল পদ্ম শিবির। সেখানে আগেভাগেই পৌঁছে যান বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্ব। অথচ বুথস্তরের কর্মীদের সেখানে দেখা যায়নি। ফলে বিপাকে পড়েন নেতারা। বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি ডাক পাঠানো হয় হরিণঘাটার শিল্পী বিধায়ককে। তিনি অবশ্য প্রচারের জন্য সহকারী বাদ্যশিল্পীদের নিয়ে শান্তিপুরেই ছিলেন। এরপর ফাঁকা মঞ্চে উঠেই গান ধরেন অসীমবাবু। এমনকী এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমি কবিগান গাই। বিজেপির অনুষ্ঠানে না এলেও গান শুনতে আপনারা আসুন।’
এনিয়ে অসীমবাবু বলেন, আমিও বিজেপির বিধায়ক। শান্তিপুরে গত নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী জয়লাভ করেছিলেন। এবারও আমাদের প্রার্থী জয়ী হোক। সেজন্য দলের নির্দেশ মেনে আমাকে আসতে হয়েছে। আমার কাজ আমি করছি। আমার জন্যই সভায় লোক জড়ো হচ্ছে সেকথা বলব না। খানিকটা শুকনো মুড়ির মধ্যে যেমন দুধ দিলে মাখাতে সুবিধা হয়, আমি সেই দুধের কাজটা করছি। 
বিজেপি বিধায়কের এই ধরনের প্রচারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। তৃণমূলের রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি রত্না ঘোষ কর বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ওদের রাজ্যস্তর, সর্বভারতীয় নেতারা মিটিং করতে আসছেন। কিন্তু এমনই দুর্ভাগ্য যে ২০০টি মাইক লাগিয়ে বড় নেতা এলেও ৫০জন লোক জড়ো করতে পারছে না। বিজেপির বিধায়ক অসীম সরকার কবিগান করেন। রাজনৈতিক সভায় গিয়ে আগে কবিগান শুরু করছেন। ভাবছেন কবিগান করে যদি কিছু মানুষ জমায়েত করা যায়! তারপর বাকি নেতারা বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু এমনই দুর্ভাগ্য, কবিগান শোনার জন্যও এলাকার লোকজন বিজেপির মঞ্চের কাছাকাছি আসতে চাইছেন না। এতে প্রমাণ হয় শান্তিপুরের মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই নির্বাচনের পর বিজেপির কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলেন, নির্বাচন ঘোষণা হতেই প্রায় প্রতিদিনই বিজেপির নেতা-কর্মীরা দলত্যাগ করে তৃণমূলে যোগদান করছেন। সেকারণে বিজেপির বিভিন্ন সভা কার্যত ‘ফ্লপ’ হচ্ছে। বাংলাদেশের ঘটনা টেনে এনে ধর্মীয় মেরুকরণ করে উপনির্বাচনের বৈতরণী পার করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

26th     October,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021