বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

উৎসবের কাছে হার করোনার
ষষ্ঠী-দশমী সংক্রমণ নিম্নমুখী

অভিষেক পাল, বর্ধমান : করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে আশঙ্কা সত্ত্বেও দুর্গা পুজোয় বেলাগাম জনতা। বিধি মেনে প্যান্ডেলে প্রবেশে নিষেধ থাকলেও মণ্ডপের বাইরে থেকে মণ্ডপ দর্শনে কোনও বাধা ছিল না। তাই চুটিয়ে প্যান্ডেল হপিং করে আনন্দ নিয়েছেন মানুষ। জনতার শারদোৎসব শামিল হওয়ার ছবি দেখে মনেই হচ্ছিল না, করোনা বলে কিছু আছে। কোভিড বিধি নিয়ে সচেতন থাকলেও অনেকে মাস্ক ছাড়াই দিব্যি রাস্তায় ঘুরেছেন। যদিও পুজোর সময় রাজ্যে সংক্রমণ বাড়লেও পূর্ব বর্ধমান জেলায় তা নিয়ন্ত্রণে ছিল। ষষ্ঠী থেকে দশমী পাঁচদিনে জেলায় সংক্রামিত হয়েছেন ১১২ জন। যার মধ্যে ৫৩ জনই বর্ধমান শহরের বাসিন্দা। সংক্রমণ ব্যাপক হারে না বাড়লেও সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক। বাড়ছে পজিটিভিটি রেটও।কিছুদিন আগেও করোনা আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালে বেডের আকাল ছিল তীব্র। মুমূর্ষু রোগীর জন্য অক্সিজেনের হাহাকার ও করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু রোজকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু পুজো আসতেই করোনা আতঙ্কের ছবি কার্যত উধাও। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাকালে জনতা যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধির দফারফা করেছে। এবারের পুজোয় সবচেয়ে বড় আহ্বান ছিল, আত্মসংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের। কিন্তু মানুষ উৎসবের আনন্দে ভুলে যায় করোনার কথা। ফলে পুজোর সময় রাজ্যের বেশকিছু জায়গায় বেড়েছে সংক্রমণ। তবে উল্টোচিত্র পূর্ব বর্ধমান জেলায়। অবশ্য এর পিছনে পরীক্ষা না হওয়ার কারণকে তুলে ধরছে চিকিৎসকদের একাংশ। পুজোর কয়েকদিনে  করোনা পরীক্ষা মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছিল। মাসখানেক আগে দৈনিক দু’হাজার জনের করোনা পরীক্ষা করা হলেও ভ্যাকসিন নেওয়ার পর টেস্ট করার প্রবণতা কমছে। পুজোর পাঁচদিনে তা আরও তলানিতে এসে ঠেকেছে। টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রেও একই ছবি লক্ষ্য করা যায়। নমুনা পরীক্ষা কমলেও বেড়েছে পজিটিভিটি রেট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, পুজোর আগে বেশ কয়েকদিন ধরে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকায় চিন্তা বাড়ে চিকিৎসক মহল থেকে সাধারণ মানুষের। গত সপ্তাহের সোমবার থেকে শনিবার ছ’দিনে মোট ২০৩জন আক্রান্ত হন। তাই পুজোর ভিড় নিয়ে চিন্তায় পড়ে স্বাস্থ্যদপ্তর। যদিও ষষ্ঠীতে জেলায় আক্রান্ত হন ২৪ জন। ওইদিন মোট সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩২৮। সপ্তমীতে ২৮ জন আক্রান্তের হদিশ মেলে। ওইদিন একজন করোনা আক্রান্তের মৃত্যুও হয়েছে। অষ্টমীতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০জন। মোট সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৪২। নবমীতে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমে হয় ১৭। মোট সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৩৮। দশমীতে ১৩জন করোনা আক্রান্ত হন। মোট সক্রিয় রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩১ জন। জেলায় এই মুহূর্তে সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা ৩২৭ জন। পুজো মণ্ডপের সামনে মানুষের ঢল, হোটেল রেস্টুরেন্টে উপছে পড়া ভিড়। এমনকী, বাড়ির পুজোয় অতিথিদের উপস্থিতি দেখে করোনা পরীক্ষা এবং টিকাকরণে জোর দিতে চাইছে জেলা প্রশাসন। জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ বাগবুল ইসলাম বলেন, পুজোর ক’টা দিন সংক্রমণের হার তুলনামূলক কমেছে। তবে পুজো মিটলেই ফের টিকাকরণে জোর দেওয়া হবে। বাড়বে পরীক্ষাও। জেলায় যে হারে টিকাকরণ হয়েছে তাতে খুব একটা আশঙ্কার কিছু নেই। 

18th     October,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021