বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

বাসে অপরিচিত যাত্রীর কোলে শিশুকন্যাকে রেখে
দিয়ে চম্পট বাবা, বিপাকে দাসপুর থানার পুলিস 

সংবাদদাতা, ঘাটাল: বাসে এক অপরিচিত যাত্রীর কোলে দেড় বছরের শিশুকন্যাকে তুলে দিয়ে চম্পট দিল ‘বাবা’। অসহায় শিশুটিকে  শনিবার রাতে দাসপুর থানার পুলিসের হাতে তুলে দেন রেবতী ভুঁইয়া নামে ওই যাত্রী।তাঁর বাড়ি দাসপুর থানার জগন্নাথপুরে। পাঁশকুড়া থেকে ফেরার পথে ওই দিন তাঁর কোলে শিশুটিকে দিয়ে এক যুবক চুপচাপ সরে যায় বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘাটাল মহকুমা পুলিস আধিকারিক অগ্নিশ্বর চৌধুরী বলেন, শিশুটিকে দাসপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করে চাইল্ড লাইনকে খবর দেওয়া হয়েছে। আমরা শিশুটির বাবা-মায়ের খোঁজ চালাচ্ছি।রেবতীদেবী পাঁশকুড়া বাজারে মাছের ব্যবসা করেন। রোজ সকালে বাজারে বসে মাছ বিক্রি করেন। তারপর মাছ বিক্রি হয়ে গেলে বাসে চেপে বাড়ি ফেরেন। তিনি বলেন, শনিবার বিক্রিবাটা শেষ করে দুপুরে পাঁশকুড়া থেকে ঘাটালমুখী একটি বাসে উঠি। প্রায় সমস্ত সিটিই ভর্তি ছিল। আমি কোনও রকমে একটি সিট পেয়ে বসে যাই। বাসটি কিছু দূর আসার পর এক যুবক শিশুটিকে নিয়ে পিছন গেট দিয়ে বাসে ওঠে।  শিশু কোলে ওই যুবককে তার বাবা বলেই মনে হচ্ছিল। শিশুটি চুপচাপ ছিল। কিন্তু যুবকটিকে বেশ অস্থির লাগছিল। কিছুক্ষণ পর আমাকে ‘মাসিমা’ সম্বোধন করে শিশুটিকে কোলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করে। চলন্ত বাসে শিশু কোলে নিয়ে দাঁড়ানো বিপজ্জনক। সে কথা মাথায় রেখে শিশুটিকে কোলে নিতে আপত্তি করিনি।ভোরে ওঠার পর সারা সকাল মাছ বিক্রির ধকল যাওয়ায় বাসের মধ্যেই রেবতীদেবীর ঘুম এসে যায়। তিনি বলেন, মিনিট পাঁচেক তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম। তারপর চোখ খুলতেই ওই যুবককে খোঁজার চেষ্টা করি। কিন্তু চারিদিকে তাকিয়েও শিশুটির ‘বাবা’কে দেখতে পাইনি। গোটা বাস খোঁজার পর ওই যুবককে দেখতে না পেয়ে ভয় পেয়ে যাই। সেই মুহূর্তে সাত-পাঁচ না ভেবেই শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি চলে আসি। বাড়িতে দু’টো ভাত খেয়েই ফের ঘাটাল-পাঁশকুড়া রাস্তার বিভিন্ন স্টপে নেমে শিশুটির বাবার খোঁজ চালাতে থাকি। কিন্তু কেউ তার পরিচয় জানাতে পারেননি। 
রেবতীদেবী বলেন, শনিবার বিকেলে আমি বাধ্য হয়ে পাঁশকুড়া থানাতে যাই। আমার বাড়ি দাসপুর থানা এলাকায়। তাই পাঁশকুড়া থানার পুলিস আমাকে দাসপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে। রাতেই দাসপুর থানায় পৌঁছে শিশুটিকে পুলিসের হাতে তুলে দিই। থানা থেকে সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে দাসপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতভর শিশুটির সঙ্গে হাসপাতালেই ছিলাম। পুলিস জানিয়েছে, রবিবার বিকেলের দিকে দাসপুর থানার রঘুনাথপুরের বাসিন্দা কৃষ্ণা সিং নামে এক মহিলা শিশুটির পিসির পরিচয় দিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, শিশুটির বাড়ি দাসপুর থানার নবীন মানুয়াতে। তার বাবা সুমন্ত রাউতই বাসে মেয়েকে অন্যের কোলে দিয়ে পালিয়ে আসে। কেন তিনি একাজ করেছেন, তা তদন্ত করছে পুলিস। শিশুটিকে নিয়ে বিপাকে পড়ে দাসপুর থানা। চাইল্ড লাইনের মাধমে আপাতত তাকে হোমে রাখার ব্যবস্থা করছে। তার আগে শিশুটির শারীরিক পরীক্ষার জন্য ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। দাসপুর থানার ওসি অমিত মুখোপাধ্যায় বলেন, ওই মাছ বিক্রেতা থানায় বিষয়টি জানিয়ে খুব ভালো করেছেন। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

18th     October,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021