বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

প্রতিপদেই মায়ের বিসর্জন
১৪ দিনের পুজোয় মাতে কাদিগাছা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দশমীর বিসর্জনে উমার বিদায়ের পরে বিষাদ গ্রাস করে আপামর বাঙালিকে। ভারাক্রান্ত মন নিয়ে যখন একটি বছরের অপেক্ষা শুরু করেন আমজনতা, তখনও বর্ধমানের গ্রামে মহাধুমধাম করে পুজো চলে দুর্গতিনাশিনীর। আর পাঁচটা পুজোর মতো চারদিনে শেষ হয় না এখানকার পুজো। ষষ্ঠী থেকে টানা ১৪দিন ধরে সিংহবাহিনী রূপে পূজিতা হন মা দুর্গা। প্রতিপদে হয় দেবীর বিসর্জন। বর্ধমানের কাদিগাছা গ্রামের তিন পরিবারের এই ব্যতিক্রমী পুজো ঘিরে এখনও মানুষের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। প্রথা মেনে দশমীতে নিরঞ্জন হয় না দেবীর। কোজাগরী পূর্ণিমায় দিনভর পুজোর আয়োজন করা হয়। যা সকলের কাছে ‘বড়’ পুজো বলে পরিচিত। এখানে মায়ের সঙ্গে কার্তিক, লক্ষ্মী, গণেশ ও সরস্বতী কেউই থাকে না। বর্ধমান স্টেশনে থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে কাদিগাছা গ্রামের একমাত্র পুজো ঘিরে প্রচুর মিথ প্রচলিত আছে। রায় ও সোম পরিবারের এই পুজো এখন গ্রামের সর্বজনীন পুজোয় পরিণত হয়েছে। পুজোর বিশেষত্ব, টানা ১৪ দিন ধরে চলে এই পুজো। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন হয়ে প্রতিমা নিরঞ্জন হয় প্রতিপদে। ষষ্ঠী থেকে প্রথা মেনে পুজোর পরেও কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মহা ধুমধাম করে বড় পুজোর আয়োজন করা হয়। ওই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে পুজোর নানা রীতি। মাকে নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়া হয় থোড়কুঁচো ও ভেজানো ছোলা। 
জানা যায়, সাড়ে তিনশো বছর আগে কষ্টিপাথরের মূর্তি ছিল সিংহবাহিনী দেবীর। বর্গী হানায় সেই মূর্তি খোয়া যায়। তারপর স্বপ্নাদেশে নতুন মাটির মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু হয়। কিন্তু মাটির মূর্তি প্রতিষ্ঠার পর দু’পাশে খুবই ফাঁকা ফাঁকা লাগে তৎকালীন সেবাইতদের। তখন শাস্ত্রমতে দেবীর দু’পাশে দুই পরীকে বসানো হয়। যাঁদের নাম রাখা হয়ে জয়া ও বিজয়া। তাঁরাও মায়ের সঙ্গে পূজিত হয়ে আসছেন।কিন্তু প্রায় এক পক্ষকাল ধরে পুজোর কারণ কী? সোম বংশের বর্তমান বংশধর বিশ্বজিৎ সোম বলেন, কষ্টিপাথরের মূর্তি চুরি যাওয়ার পর যখন থেকে মাটির প্রতিমায় পুজো শুরু হয়, তখন নিয়মমাফিক দশমীর দিন প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। কিন্তু নিরঞ্জনের পর দেবীর স্বপ্নাদেশ পান সেবাইতরা। কথিত আছে, দেবী দশমীর দিন জলে যেতে চাননি। তাই ফের সেই প্রতিমা তুলে এনে পুজো করতে হয়। কোজাগরী পূর্ণিমায় মা বড় করে পুজো চেয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী পুজোর আয়োজন হয়। কিন্তু প্রতিবছর সেবাইতরা কীভাবে এতদিনের পুজোর ব্যয়ভার বহন করবেন, তা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন। তখন মা নিজেই আদেশ দেন, সাধ্যমতো চেষ্টা করলেই হবে। কিছু না থাকলে নৈবেদ্য হিসেবে থোড়কুঁচো ও ভেজানো ছোলা দিলেই হবে। সেই থেকেই আজও একই রীতিতে পুজো হয়ে আসছে। আগামী প্রজন্ম এই পুজো নিয়ে ভীষণ আগ্রহী ও আশাবাদী। বর্তমান প্রজন্মের চিরঞ্জীব সোম বলেন, এই পুজোকে আমরা আর বাড়ির পুজো ভাবি না। এটা এখন পুরো গ্রামের পুজো হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই পুজো কখনও বন্ধ করা যাবে না। এখন বাবা কাকারা করছেন, আগামীতে আমরা দায়িত্ব নেব। এখন পুজোর পাশাপাশি যাত্রা, নাটক, গান, নাচ সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক চর্চাও হয়।

28th     September,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021