বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

দুর্যোগ মোকাবিলায় তমলুকে
এবার খোলা হল কন্ট্রোল রুম

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দুর্যোগ মোকাবিলায় তমলুকে জেলাশাসকের অফিসে কন্ট্রোল রুম খোলা হল। ২৪ঘণ্টাব্যাপী ওই কন্ট্রোল রুমে প্রশাসন, পুলিস, স্বাস্থ্যদপ্তর, পূর্ত, সেচ, কৃষি, খাদ্য, বিদ্যুৎবণ্টন, মৎস্য, দমকল, উপকূলরক্ষী বাহিনী ও টেলিকম প্রভৃতি দপ্তরের সিনিয়র অফিসাররা থাকছেন। কন্ট্রোল রুমের নম্বর হল ০৩২২৮-২৬২৭২৮ ও ৯০৭৩৯৩৯৮০৪। প্রতিটি ব্লকে উদ্ধারকারী টিম রেডি রাখা হয়েছে। জেলাজুড়ে ৭০০টি স্কুল রেডি রাখার জন্য জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সাইক্লোন শেল্টার, ফ্লাড শেল্টারের পাশাপাশি জেলার ৭০০টি স্কুলে মানুষজনকে সরানো হবে। সোমবারের মধ্যেই দীঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর ও মন্দারমণির হোটেল খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন। সেইমতো রবিবার রাত থেকেই পর্যটকরা ফিরতে শুরু করেন। সোমবার দীঘা কার্যত শুনশান হয়ে যায়। যশ সাইক্লোন মোকবিলার অভিজ্ঞতা থেকেই এবার দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন।
দুর্যোগ কতখানি হবে তা নিয়ে সোমবার দিনভর আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। সেজন্য আবহাওয়া নিয়ে স্পেশাল বুলেটিনের উপর নজর ছিল প্রত্যেকের। সোমবার বিকেলের বুলেটিন অনুযায়ী, ২৮ ও ২৯তারিখ অর্থাৎ আজ ও কাল ভারী বৃষ্টি হবে। আজ, মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৬০কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া থাকবে। সেজন্য সমুদ্র উত্তাল থাকবে। মঙ্গলবার উপকূল এলাকায় কমলা(অরেঞ্জ) সতর্কতা থাকছে। বুধবার তুলনামূলক কম হলুদ সতর্কতা জারি থাকছে দীঘা উপকূল এলাকায়। বুধবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় আগেভাগে ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। প্রতিটি মহকুমায় ১০০মেট্রিকটন করে চাল পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৫০হাজার ত্রিপল দেওয়া হয়েছে। উপকূল এলাকার পাশাপাশি সর্বত্র মাইকিং করে দুর্যোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষজনকে অবহিত করা হয়েছে। জেলায় এই মুহূর্তে পাঁচটি এনডিআরএফ টিম আছে। মূলত পটাশপুর ও ভগবানপুরে বন্যা কবলিত মানুষজনকে উদ্ধারের কাজে তাঁরা ঝাঁপিয়েছেন। এনডিআরএফ টিমকে উপকূল এলাকায় পাঠানোর যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আরও এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ টিমের জন্য রিক্যুইজিশন পাঠানো হয়।গত ২৬মে যশ সাইক্লোনের সময় জেলায় চার লক্ষ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছিল। এবার উপকূল এলাকা থেকে এক লক্ষ মানুষকে সরানোর প্রস্তুতি নিয়ে কোস্টাল এলাকার ৪৩টি মাল্টিপারপাস সাইক্লোন শেল্টার এবং একশোর বেশি স্কুল স্যানিটাইজ করে রেডি রাখা হয়। পাশাপাশি জেলার অন্যান্য ব্লক মিলিয়ে মোট ৭০০টি স্কুল বিল্ডিংয়ে পানীয় জল, বিদ্যুৎ সংযোগ রেডি রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলাশাসক।জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপন অফিসার মৃত্যুঞ্জয় হালদার বলেন, দু’দিন ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস আছে। আপাতত ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নেই। আমরা সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। রবিবার রাত থেকে জেলা হেডকোয়ার্টারে সর্বক্ষণের জন্য কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। পাশাপাশি এসডিও অফিস এবং বিডিও অফিসেও কন্ট্রোলরুম খোলার নির্দেশ আছে। জেলাজুড়ে প্রায় ৭০০টি স্কুল বিল্ডিং রেডি রাখার জন্য জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় ৪৩টি সাইক্লোন শেল্টারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি বলেন, পটাশপুর ও ভগবানপুর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা চিন্তিত। তার উপর আবারও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় উদ্বেগ হচ্ছিল। যাই হোক, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নেই। ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া হবে। যদিও আমাদের পক্ষ থেকে সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।

28th     September,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021