বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

অস্তিত্বের সঙ্কটে দুর্গাপুরের
ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল রিকশ

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: আধুনিকতার যুগে ই-রিকশ, টোটো  ও অটোরিকশর দাপটে অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়েছে দুর্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল রিকশ। আধুনিকতার গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আর কতদিন প্যাডেল করে এগিয়ে যেতে পারবে তা ভেবে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে রিকশচালকদের। ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে কয়েক হাজার প্যাডেল রিকশ উধাও হয়ে গিয়েছে। দুর্গাপুর ও বেনাচিতি বাজারে হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র রিকশ চোখে পড়ে। ওই রিকশচালকরা বলছেন, কমে গিয়েছে রোজগার। তাঁদের দাবি, ব্যস্ততার যুগে যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে খুঁজে নিচ্ছেন টোটো কিংবা অটো। রিকশর থেকে ভাড়া কম হওয়াটাও টোটো-অটোর পক্ষে গিয়েছে। ওই ভাড়ায় গতর খাটিয়ে তাঁদের পোষাবে না বলে দাবি রিকশ চালকদের। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের স্বপ্নের এই শহর গড়ে উঠতেই বহু মানুষ কর্মসংস্থানের খোঁজে নানা জায়গা থেকে ছুটে আসেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কল কারখানায় কাজে যোগ দেন। আবার কেউ নবনির্মিত  শহরের জীবনযাপনের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন রকমের পেশায় লিপ্ত হন। সেইরকমই ছয় দশক আগে বিহার থেকে আসা বহু মানুষ রিকশ চালাতে শুরু করেন। শহরজুড়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে রিকশস্ট্যান্ড তৈরি হয়। সেই সময় দুর্গাপুরে গণ পরিবহণ বলতে কেবলমাত্র বাস ও রিকশ। কয়েকবছর আগে শহরের বুকে শুরু হয় সিএনজি অটোরিকশ পরিষেবা। রিকশর কদর কমতে শুরু করে। এর পরেই প্রায় ৭ বছর আগে ভাইরাসের মত অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে টোটো। টোটোর সাফারি মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। স্বল্প ভাড়ায় ও স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে  শুরু করেন যাত্রীরা। ধীরে ধীরে প্যাডেল রিকশ পিছিয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রায় উধাও বললেই চলে।  
উল্লেখ্য, কলকাতার রাজপথে ঐতিহ্যবাহী টানা রিকশ এখনও নজরে পড়ে। যদিও টানা রিকশরও অস্তিত্ব বর্তমানে সঙ্কট জনক বলে জানা গিয়েছে।
বেনাচিতি বাজারের এক রিকশ চালক আলাউদ্দিন আনসারি ও পাচু সাউ বলেন, টোটো-অটোর জন্য আমাদের রোজগার কমেছে। এখন এই মূল্যবৃদ্ধির বাজারে দিনে মাত্র একশো-দেড়শো টাকা রোজগার হয়। আগে তিনশো টাকার বেশি রোজগার হত। রিকশ চালকরা পেশা বদলেছে। বর্তমানে বেনাচিতি বাজারে মাত্র ২০-৩০টি রিকশ রয়েছে। এখন নতুন রিকশ এই বাজারে আর বিক্রিও হয় না। আমরা এক সময় ঝাড়খণ্ড থেকে কিনে এনেছিলাম। 
রিকশ চালিয়ে বর্তমানে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই অন্য পেশার সন্ধান করছি।
দুর্গাপুর সাবডিভিশন ই-রিকশ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক পরিতোষ রায় বলেন, যাত্রীরা স্বল্প খরচে অল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে টোটোতে। সেই সুবিধা রিকশতে মিলছে না। তাই রিকশ চালকরা যাত্রী না পাওয়ায় পেশা পরির্বতন করছেন। অনেকেই প্যাডেল রিকশ বিক্রি করে দিয়েছেন। খুব কম সংখ্যক রিকশ এখন নজরে পড়ে। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার লড়াইয়ে রিকশ আর কতদিন টিঁকবে তা বড় প্রশ্ন।               
 ফাইল চিত্র

23rd     September,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021