বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কয়লা
তুলতে বাড়িতে ফাটল
বড়জোড়ায় আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বড়জোড়ায় খনি থেকে কয়লা তোলার জন্য ঘটানো হচ্ছে বিস্ফোরণ। তার জেরে খনি লাগোয়া গ্রামে বহু বাড়িতে ফাটল ধরেছে। আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সমস্যা সমাধানের দাবিতে তাঁরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। সেইমতো বাড়ির ফাটল সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে ১২জনের কমিটি গড়ে সার্ভে শুরু করেছে প্রশাসন। বাঁকুড়া সদরের মহকুমা শাসক সুশান্ত কুমার ভক্ত বলেন, খনিতে বিস্ফোরণের ফলে পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাড়িতে ফাটল ধরছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ জানিয়ে ছিলেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বড়জোড়া ও ঘুটগোড়িয়া পঞ্চায়েত এলাকায় ৬৯৪একর জমির উপর এই খোলামুখ কয়লা খনি গড়ে উঠেছে। বছর দশেক আগে এই খনি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়। তখন এর দায়িত্বে ছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনারেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড। কয়েক বছর খনি চলার পর মাঝে উত্তোলন বন্ধ হয়। ২০১৫সালে পরিচালন সংস্থা হস্তান্তর হয়। বর্তমানে ডিপিএল(দুর্গাপুর প্রজেক্ট লিমিটেড) এই খনির দায়িত্বে রয়েছে। এখান থেকে কয়লা উত্তোলন করে ট্রান্স দামোদর মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেড।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই খনি থেকে ফের কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু হয়। তারজন্য মাঝে মাঝেই খনিতে বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে। তাতেই কেঁপে উঠছে এলাকা। খনির পাশেই থাকা জমাদার গ্রামে বহু বাড়িতে দেওয়াল, ছাদ বা মেঝেতে ফাটল ধরেছে। স্থানীয় বাসিন্দা অশোক পাল, উৎপল ঘোষ বলেন, খনিতে সাধারণত দুপুর বেলা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তখন আমরা ঘরে থাকতে পারি না। যে কোনও সময় বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে। আমরা প্রচণ্ড আতঙ্কে রয়েছি। সমস্যা সমাধানের আর্জি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে প্রশাসন সার্ভে করছে। আমরা পুনর্বাসন চাই। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি কমিটি গড়া হয়েছে। ডিপিএল, পুলিস, পঞ্চায়েত, ব্লক প্রশাসনের কর্মী, আধিকারিকরা ওই সার্ভে কমিটিতে রয়েছেন। জমাদার গ্রামে প্রায় ৮০টি বাড়িতে সার্ভে হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে গৃহকর্তার সঙ্গে কথা বলে কমিটির সদস্যরা তথ্য সংগ্রহ করছেন। জমির পরিমাণ, সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্যও নেওয়া হচ্ছে। তার সঙ্গে বাড়ির যে অংশে ফাটল ধরেছে, সেখানকার ছবিও তুলছেন আধিকারিকরা। সার্ভের একটি কপি সংশ্লিষ্ট গৃহকর্তাকে দেওয়া হচ্ছে। বড়জোড়ার বিডিও রাজদীপ কুণ্ড বলেন, প্রত্যেকটি বাড়িতে ঘুরে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। সার্ভে রিপোর্ট জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে। ডিপিএলের অবশ্য দাবি, নিয়ম মেনেই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ডিপিএলের  আধিকারিক টিটো দেব বলেন, কয়লা উত্তোলনে বিস্ফোরণ করতে গিয়ে যদি বাড়িতে ফাটল হয়, তাহলে বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে ডিপিএল। সেই জন্য আমরা সমীক্ষা করছি। এই কাজে প্রশাসনও সাহায্য করছে। বড়জোড়ার তৃণমূল বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় বলেন, কয়লা খনি চলছে বলে এলাকায় অর্থনীতির উন্নতি হয়েছে। কিন্তু, খনির জন্য মানুষের জীবন বিপন্ন হলে চলবে না। প্রশাসনকে বলেছি, বাসিন্দাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।

23rd     September,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021