বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

‘বাংলার বারাণসী’তে আজও টিকে রয়েছে
শতাধিক মন্দির, তবু ব্রাত্য পর্যটন মানচিত্রে
মুর্শিদাবাদ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: আজিমগঞ্জকে পাশে রেখে আপন বেগে বয়ে চলেছে ভাগীরথী। তার পাড়ে রয়েছে একাধিক পুরানো মন্দির। শোনা যায়, নাটোরের রানি আজিমগঞ্জের বড়নগর এলাকায় শতাধিক মন্দির তৈরি করেছিলেন। চেয়েছিলেন এই এলাকাকে ‘বাংলার বারাণসী’ করে তুলতে। এখনও এই এলাকা অবশ্য বারাণসী নামেই পরিচিত। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। জিয়াগঞ্জ থেকে নৌকায় নদী পেরিয়ে সহজেই এখানে আসা যায়। আবার আজিমগঞ্জ স্টেশন থেকেও এই এলাকা বেশি দূরে নয়। নাটোরের রানির আমলে তৈরি হওয়া গঙ্গেশ্বর, গোপালেশ্বর, রাজ রাজেশ্বরী, বা চারবাংলার মন্দিরে এলে অনেক কিছুই চাক্ষুষ করা যাবে। মন্দিরের গায়ে রয়েছে অসাধারণ টেরাকোটার কাজ। ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কংস বধের কাহিনি বা রাম-রাবণের যুদ্ধের খণ্ডচিত্র। মন্দির চত্বর নিস্তব্ধ, কোনও কোলাহল নেই। উপচে পড়া ভিড়ও নেই। সবমিলিয়ে যেসব পর্যটকরা নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চান তাঁদের পক্ষে এক্কেবারে আদর্শ। তাই এলাকার বাসিন্দারা চাইছেন, এবারের পুজোয় বড়নগরও পর্যটকদের গন্তব্য হয়ে উঠুক। হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে আসার খুব বেশি ঝক্কিও নেই। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের পর্যটন মানচিত্রে এই জায়গাটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অনেকেই এই এলাকা সম্পর্কে অবহিত নন। সেই কারণে পর্যটকরা লালবাগের বিভিন্ন ঐতিহাসিক জায়গাগুলি পরিদর্শন করলেও এখানে আসেন না। 
মন্দির চত্বর থেকে কিছুটা দূরেই দাঁড়িয়েছিলেন মলয় মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, প্রকৃতি এখানে তার রূপ উজাড় করে দিয়েছে। কিন্তু সরকার এই জায়গাটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। সন্ধ্যা নামলেই এলাকা আঁধারে ডুবে যায়, থাকার ব্যবস্থা নেই। মন্দির থেকে কিছুটা দূরে থাকার বন্দোবস্ত করা হলে পর্যটকদের পক্ষে সুবিধা হবে। তবে বাইরের থেকে আসা লোকজনরা পুজোর ছুটিতে এখানে এলে অন্য রকম পরিবেশে সময় কাটাতে পারবেন। চার বাংলা মন্দির যথেষ্ট আকর্ষণীয়। মূল মন্দির খুব কম জায়গাতে রয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে তিনটি দরজা রয়েছে। শিবলিঙ্গও রয়েছে তিনটি করে। মন্দিরগুলি দু’চালার। মুর্শিদাবাদ জেলার ডিপিএলও অমূল্যচন্দ্র সরকার বলেন, জেলায় অনেক পর্যটনকেন্দ্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সেগুলির উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেমন আহিরণ বিলকে ঢেলে সাজানো হবে। অন্যান পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে কীভাবে আরও আকর্ষণীয় করা যায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ইতিহাস নিয়ে যাঁরা খোঁজখবর রাখেন তাঁরাই এখানে আসেন। পুজোর সময় মন্দির চত্বর ফাঁকা পড়ে থাকে। তাই কোলাহল এড়িয়ে অন্যরকম সময় কাটাতে হলে এখানে আসা যেতে পারেই। বাংলার বারাণসী যে পর্যটকদের মন জয় করবে এটা হলফ করে বলা যায়।

23rd     September,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021