বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

গভীর রাতে এক মিনিটের টর্নেডো
খড়্গপুরের আম্বা গ্রাম লণ্ডভণ্ড

সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা! টানা বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার গভীর রাতে খড়্গপুর বিধানসভার কলাইকুণ্ডা পঞ্চায়েতের পূর্ব আম্বার বেনাশোল গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে গেল টর্নেডো। মাত্র এক মিনিট ছিল ঝড়ের স্থায়িত্ব। তাতেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় গোটা গ্রাম। মাটির বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়ে। খড়ের ও অ্যাসবেসটসের চাল উড়ে যায়। বড় বড় গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে রাস্তা ও বাড়ির উপর। ৬০ থেকে ৭০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০টি বাড়ির অবস্থা খুবই খারাপ। প্রায় ২৫০জন বাসিন্দাকে ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে। এদিন সকাল থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কারের কাজে হাত লাগান।
খবর পেয়ে বুধবার সকালে এলাকার বিধায়ক তথা মেদিনীপুর খড়্গপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান দীনেন রায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তৃণমূল নেতারা এলাকায় যান। দুপুরে এলাকা পরিদর্শনে যান খড়্গপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মালা দোলই। প্রশাসনিক আধিকারিকরাও এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। বিডিও দেবদত্ত চক্রবর্তী বলেন, টর্নেডো এক মিনিটের মতো স্থায়ী ছিল। কিছু ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। আমরা রিপোর্ট তৈরি করছি। ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। বৃষ্টির জেরে আগে থেকেই এই এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি রয়েছে। মঙ্গলবার রাতভর বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল বৃষ্টি হয়। তার মাঝে রাত দু’টো নাগাদ হঠাৎ প্রবল বেগে ঝড় বয়ে যায়। বাসিন্দারা বলেন, ঝড়ের সময় প্রচণ্ড শব্দ হচ্ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ে। বাড়ির চাল উড়ে যায়। দেওয়াল ভেঙে পড়ে। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে। তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টির মধ্যেই বাসিন্দারা ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। অনেকেই ভয় পেয়ে চিৎকার শুরু করে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা অকিঞ্চন কপাট বলেন, গভীর রাতে আমরা তখন ঘুমোচ্ছিলাম। ঝড়ের শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। দেখি, সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে। ঝড়ের এমন তাণ্ডব আগে দেখিনি। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ ওয়াজেদ আলি বলেন, কী যে হল, কিছুই বোঝা গেল না। এমনিতেই আমরা জলবন্দি। তার উপর বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছি। গ্রামে কয়েকশো বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দীনেনবাবু বলেন, মূলত কামারপাড়া, বেবনাপাড়া, বেনাপোল ও মুসলিমপাড়ায় ক্ষতি হয়েছে। সকালে স্থানীয় একটি স্কুল ও অন্য একটি জায়গায় ত্রাণ শিবির খুলে ২৫০ জনকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। কিছু বাসিন্দাকে ত্রিপল দেওয়া হয়েছে। শুকনো খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য অলোক রানা বলেন, বেশিরভাগ বাড়ির খড়ের ও অ্যাসবেসটসের চাল উড়ে গিয়েছে। বহু বাড়ির দেওয়ালও ভেঙেছে। ঝড়ের ফলে যা পরিস্থিতি এখনই বাসিন্দারা ওই বাড়িতে উঠতে পারবেন না। অনেক বাড়ির উপর গাছ পড়ে আছে। তা কাটার কাজ চলছে। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার খড়্গপুরের ডিই তন্ময় মহাপাত্র বলেন, মঙ্গলবার রাতের ঝড়ে ওই এলাকায় চারটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। তারও ছিঁড়ে গিয়েছে। অনেক জায়গায় বিদ্যুতের তারের উপর গাছের ডালও ভেঙে পড়েছে। দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ যাতে তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক করা যায়,  সেই চেষ্টা চলছে।

23rd     September,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021