বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
উত্তরবঙ্গ
 

আনারস ও কমলার জেলা দার্জিলিংয়ে উদ্যানপালন দপ্তর কার্যত নিধিরাম সর্দার
৪৫টি পদের মধ্যে ৩৩টিই শূন্য

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: কমলা, অর্কিড ও আনারসের জেলা দার্জিলিংয়ে উদ্যানপালন দপ্তর কার্যত ‘ঢাল ও তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার’। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অফিসার ও  চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সহ ৩৫টি পদ দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা। ফলে সম্ভাবনা থাকলেও জেলায় কমলা, আনারস, অর্কিড সহ সব্জিচাষের প্রসার ঘটছে না বলে অভিযোগ। এনিয়ে ফল ও সব্জিচাষিরা ক্ষুব্ধ। তাঁরা প্রশাসনের ভূমিকায় বিস্তর প্রশ্ন তুলেছেন। 
দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক এস পন্নমবালম অবশ্য বলেন, উদ্যানপালন দপ্তর সম্পর্কে রাজ্য সরকারকে জানানো হয়েছে। এখন যা করার তারা করবে। তবে, সরকারি দপ্তরে অফিসার ও কর্মচারীদের অবসরগ্রহণ ও শূন্যপদ পূরণ পুরোপুরি প্রশাসনিক বিষয়। কোভিডের জেরে মাঝে অনেকদিন সরকারি দপ্তরে নিয়োগ বন্ধ ছিল। এবার হয়তো রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নেবে। 
দার্জিলিং জেলার কমলা ও আনারসের কদর সর্বত্র। এছাড়া, পাহাড়ি সব্জি স্কোয়াশ ও অর্কিডের দারুণ চাহিদা। কিন্তু, এই জেলাতেই উদ্যানপালন দপ্তর দিন দিন রুগ্ন হয়ে পড়ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ডেপুটি ডিরেক্টরের একটি, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের তিনটি এবং গ্রুপ-সি ও ডি মিলিয়ে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৪৫টি। এরমধ্যে দু’টি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর এবং ৩৩টি কর্মচারীর পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ফাঁকা অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের পদগুলির মধ্যে একটি রয়েছে শিলিগুড়ি মহকুমায়। সংশ্লিষ্ট পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছেন জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর সত্যপ্রকাশ সিং। তাছাড়া, ব্লক স্তরেও এই দপ্তরের কোনও আধিকারিক ও কর্মী নেই। ফলে, দপ্তরের আধিকারিকদের নাওয়াখাওয়া ভুলে বাড়তি চাপ নিয়ে প্রশাসনিক কাজকর্ম সামাল দিতে হচ্ছে। এতে কমলা, আনারস সহ সব্জি ও অর্কিড চাষের প্রসার মার খাচ্ছে বলে অভিযোগ। 
এনিয়ে ক্ষুব্ধ কমলা ও আনারস চাষিরা বলেন, বহুদিন আগে কৃষিদপ্তর থেকে আলাদা হয়েছে উদ্যানপালন দপ্তর। আমের জেলা মালদহ ও মুর্শিদাবাদে সংশ্লিষ্ট দপ্তর অনেকটাই শক্তিশালী। কিন্তু, কমলা ও আনারসের এই জেলায় উদ্যানপালন দপ্তর একেবারেই দুর্বল। তাঁদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে দপ্তরটি ঢাল, তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দারে পরিণত হয়েছে। ফলে, আনারস ও কমলা চাষের নতুন বাগান তৈরি, ফলের গুণমান বৃদ্ধিতে গবেষণা, প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়া, আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রভৃতি কাজ মার খাচ্ছে। ফাঁসিদেওয়ার একটি কৃষি উৎপাদন সংস্থার পক্ষে প্রদীপকুমার সিংহ বলেন, কমলা ও আনারস চাষের প্রসারের স্বার্থে উদ্যানপালন দপ্তরের পরিকাঠামো আরও চাঙ্গা করা দরকার। এখানে প্রক্রিয়াকরণ শিল্পও প্রয়োজন। এসব নিয়ে প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। 
জেলা প্রশাসন ও উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিকরা অবশ্য উদাসীনতার অভিযোগ মানতে নারাজ। জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিকরা বলেন, প্রয়োজনীয় আধিকারিক ও কর্মীর অভাব থাকলেও কমলা, আনারস, অর্কিড সহ সব্জিচাষে নজরদারি থেমে নেই। বাড়তি চাপ নিয়ে সকলকে কাজ করতে হচ্ছে। নিয়মিত কমলা ও আনারস চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এবার জেলায় কমলা চাষের জমির পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। এমনকী, কালিম্পং জেলার কমলা, সব্জি ও অর্কিড চাষেও নজর দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, দপ্তরের শূন্যপদ পূরণের আর্জি জানিয়ে জেলা ও রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। কাজেই, কৃষকদের সমস্ত অভিযোগ ঠিক নয়। 
জেলার অর্থকারী ফলগুলির মধ্যে কমলা ও আনারস অন্যতম। উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কমলা মূলত পাহাড়ে চাষ হয়। এবার জেলায় ১৯৭২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে কমলার। আর আনারস চাষ হয় জেলার সমতল শিলিগুড়ি ফাঁসিদেওয়া ব্লকে। এই ব্লকে মোটামুটি আনারস চাষ হয়ে থাকে ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে। 

3rd     December,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021