বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
উত্তরবঙ্গ
 

স্কুলের সময়ে টিউশন চলবে না, তপনের বিডিওর নয়া নির্দেশিকা ঘিরে এলাকায় জোর চাপানউতোর

গোপাল সূত্রধর, পতিরাম: স্কুল চলাকালীন কেউ টিউশন পড়াতে পারবেন না। এমনকী প্রাইভেট টিউটরদেরও সেই নির্দেশ মানতে হবে। না মানলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনের বিডিওর ওই নির্দেশিকায়। সেখানে বলা হয়েছে, সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কেউ টিউশন করতে পারবেন না। ব্লক প্রশাসনের ধারণা, ওই সময় টিউশন চলায় স্কুলে পড়ুয়াদের হাজিরা কম হচ্ছে। তাই এমন ‘নিদান’। যদিও একাধিক প্রাইভেট টিউটর এবং শিক্ষক সংগঠনের বক্তব্য, এ তো জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমন অনেক প্রাইভেট টিউটর আছেন, যাঁরা চাকরি পাননি, টিউশন করেই তাঁদের সংসার চলে। এটা কি বিডিও ভেবে দেখেছেন? প্রসঙ্গত, সম্প্রতি স্কুল খোলার পরে দেখা যাচ্ছে, বহু স্কুলেই ছাত্রছাত্রীদের হাজিরার হার আগের মতো আর নেই। স্কুল শিক্ষকদের অভিজ্ঞতায়, কেউ কাজে লেগে পড়েছে। কেউ টিউশন পড়ছে। কারও বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তাদের স্কুলমুখী করার জন্য চেষ্টাও চালাচ্ছেন শিক্ষকরা। ব্লক প্রশাসনের কাছে এই তথ্য আসতেই তপনের বিডিও ওই সার্কুলার জারি করেন। সেখানেই  স্কুল চলাকালীন প্রাইভেট টিউটরদের পড়ানো বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। না হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
এই নির্দেশিকা নিয়েই শুরু হয়েছে চাপানউতোর। প্রশ্ন উঠছে, স্কুল পড়ুয়ার সংখ্যা কমে যাওয়ায় শুধুমাত্র প্রাইভেট টিউটরদেরকে দায়ী করা হচ্ছে কেন?  এবিষয়ে তপনের বিডিও মাসুদ করিম শেখ বলেন, অনেকেই স্কুলের সময়ে টিউশন নেওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজিরা কমছে। তাই এই নির্দেশিকা। কিন্তু তা বলে কি জোর করে টিউশন বন্ধ করা যায়? বিডিওর জবাব, প্রশাসনই তো জোর করবে, তা ছাড়া আর কে করবে? এদিকে, এই বিতর্কে জড়াতে চাইছেন না মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষা পরিদর্শক কিংবা জেলা প্রশাসনের কোনও শীর্ষকর্তা। মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষা পরিদর্শক মৃন্ময় ঘোষ বলেন, এই বিতর্ক নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না।  আবার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) বিবেক কুমারের বক্তব্য, ওই নির্দেশিকা আমি দেখিনি। 
এই পরিস্থিতিতে একাধিক প্রাইভেট টিউটর বলেছেন, আমরা চাকরি পাইনি। তাই টিউশন করছি। প্রশাসন জোর করলে তো মানতেই হবে। 
নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতি এই নির্দেশিকা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের জেলা সম্পাদক কল্যাণ দাস বলেন, এই নির্দেশিকা অসম্মানজনক। শীঘ্রই তা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।  সারাবাংলা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির জেলা সম্পাদক পারিজাত সাহা প্রশ্ন তুলেছেন, বিডিও কি প্রাইভেট টিউটরদের বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্দেশিকা জারি করতে পারেন?  
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকে ১৩টি হাইস্কুলে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে গড়ে ৫০ শতাংশ পড়ুয়া হাজির হচ্ছে। আর এতেই উদ্বিগ্ন শিক্ষামহল। তাই ব্লক প্রশাসন বাধ্য হয়ে এই নির্দেশিকা জারি করেছে। 
অন্যদিকে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ৫০ হাজারেরও বেশি বিএড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং এমএ, এমএসসি করা বেকার যুবক-যুবতী রয়েছেন। প্রাইভেট টিউশনই তাঁদের একমাত্র রোজগারের রাস্তা। বিডিওর এই নির্দেশিকায় তাঁদের মাথায় হাত পড়েছে।

3rd     December,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021